নতুন করে আরও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন পেয়েছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংস লিমিটেড। তিন কোম্পানির সঙ্গে যৌথভাবে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন নতুন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। গত ৩১ জানুয়ারি বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (বিপিডিবি) কোম্পানিটিকে লেটার অব ইনটেন্ট দিয়েছে। কোম্পানি সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
সিমেন্ট উৎপাদন, বিপণন ও বাজারজাতকরণ কনফিডেন্স সিমেন্টের মূল ব্যবসা হলেও কোম্পানিটির নিট মুনাফার বড় অংশই আসে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসা থেকে। নতুন করে বিদ্যুৎকেন্দ্রের অনুমোদন পাওয়ায় কনফিডেন্স সিমেন্টের নিট মুনাফা আরও বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ২০২০-২১ হিসাব বছরে কোম্পানিটির করপূর্ব মুনাফার ৭১ শতাংশ আসে সহযোগী বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি থেকে।
কনফিডেন্স সিমেন্ট জানিয়েছে, চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে ৬৬০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন এই বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হবে। সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংস ছাড়াও আরও তিন কোম্পানি মিলে যৌথভাবে এই প্ল্যান্ট করবে। এর মধ্যে ৬২ শতাংশের মালিক কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংস। এই কোম্পানিটির ৩৬ শতাংশ মালিকানা রয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট লিমিটেডের হাতে। বাকি তিনটি কোম্পানির মধ্যে জিই ক্যাপিটাল ইউএস হোল্ডিংস ২০ শতাংশ, কনফিডেন্স পাওয়ার ৯ শতাংশ এবং ইলেকট্রোপ্যাক ইন্ডাস্ট্রিজের মালিকানায় রয়েছে ৯ শতাংশ শেয়ার।
গ্যাস অথবা আরএলএনজিভিত্তিক কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার জেনারেশন সুবিধার বিদ্যুৎকেন্দ্রটির বাণিজ্যিক উৎপাদনের শুরু থেকে ২২ বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ নেবে বিপিডিবি।
কনফিডেন্স সিমেন্টের দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এরমধ্যে কনফিডেন্স ব্যাটারি লিমিটেড, যার ২১ শতাংশের মালিকানা রয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্টের। সহযোগী এ প্রতিষ্ঠানটি ২০২০-২১ হিসাব বছরে ৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা নিট মুনাফা করেছে। এ প্রতিষ্ঠান থেকে কনফিডেন্স সিমেন্ট এ সময়ে ১ কোটি ৩৭ লাখ টাকা মুনাফা পেয়েছে।
অপর সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংসের ৩৬ শতাংশ শেয়ারের মালিকানা রয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্টের। ২০১৭ সালে বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবসায় আসে কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংস লিমিটেড। বর্তমানে কোম্পানিটির বগুড়া, রংপুর ও চট্টগ্রামে এইচএফওভিত্তিক চারটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে, যেগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা হচ্ছে ৩৯৩ মেগাওয়াট। এর সঙ্গে সদ্য অনুমোদন পাওয়া ৬৬০ মেগাওয়াটের বিদ্যুৎকেন্দ্র যোগ হলে কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংসের বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা দাঁড়াবে ১ হাজার ৫৩ মেগাওয়াটে।
সহযোগী প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংসের আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২০-২১ হিসাব বছরে সহযোগী প্রতিষ্ঠানটি ২৯৩ কোটি টাকা নিট মুনাফা করেছে, যা আগের বছরের চেয়ে ৭২ শতাংশ বেশি। ২০২০-২১ হিসাব বছরে সহযোগী এ প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ১০৫ কোটি ৭৮ লাখ টাকা মুনাফা পেয়েছে কনফিডেন্স সিমেন্ট। আগের হিসাব বছরে এ কোম্পানি থেকে ৭৪ কোটি ৪৭ লাখ টাকা মুনাফা পেয়েছিল মূল প্রতিষ্ঠান কনফিডেন্স সিমেন্ট।
পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কনফিডেন্স সিমেন্টের নিট মুনাফার বড় অংশই আসে সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে, যা কনফিডেন্স সিমেন্টেকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখতে সহায়তা করছে। এমনকি মূল ব্যবসায় লোকসান হলেও সহযোগী প্রতিষ্ঠানের আয় কোম্পানিটিকে মুনাফায় ধরে রাখতে প্রধান ভূমিকা রেখেছে। ২০১৭-১৮ হিসাব বছর থেকে ২০১৯-২০ হিসাব বছর পর্যন্ত মূল ব্যবসায় কনফিডেন্স সিমেন্ট লোকসান করলেও সে সময় কনফিডেন্স পাওয়ার থেকে প্রাপ্ত আয় দিয়ে মুনাফায় টিকে থাকতে পেরেছে।
২০২০-২১ হিসাব বছরে কনফিডেন্স সিমেন্টের মূল ব্যবসা থেকে আয় হয় ৪৬১ কোটি ৯৩ লাখ টাকা। উৎপাদন ব্যয়, প্রশাসনিক, বিক্রি, বিতরণ, সুদসহ অন্যান্য ব্যয় বাদ দেওয়ার পর কোম্পানির মূল ব্যবসা থেকে করপূর্ব মুনাফা হয় ৪১ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। এ সময় কনফিডেন্স পাওয়ার হোল্ডিংসসহ দুটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান থেকে মুনাফা আসে ১০৭ কোটি ১৫ লাখ টাকা। এতে করে করপূর্ব মুনাফা দাঁড়ায় ১৪৮ কোটি ৭০ লাখ টাকা, যা কর পরিশোধের পর ১২৪ কোটি টাকায় দাঁড়ায়।
কনফিডেন্স সিমেন্টের বর্তমানে বছরে ১২ লাখ টন সিমেন্ট উৎপাদনের সক্ষমতা রয়েছে। ২০২০-২১ হিসাব বছরে কোম্পানিটি উৎপাদন সক্ষমতার ৫৯ শতাংশ ব্যবহার করতে পেরেছে।
