পুরস্কারের আকাক্সক্ষা কখনো তৈরি হয়নি

আপডেট : ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:৩৯ এএম

এ বছর রাষ্ট্রীয় সম্মান একুশে পদকে ভূষিত হচ্ছেন প্রখ্যাত অভিনেতা আফজাল হোসেন। অভিনয়ে বিশেষ অবদানের জন্য এ পদক দেওয়া হলেও তার কাজের ব্যাপ্তি বিস্তৃত। তিনি মঞ্চ, টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তারকাখ্যাতি পেলেও পর্দার আড়ালেও উল্লেখযোগ্য কাজ করেছেন। দেশের টেলিভিশন বিজ্ঞাপনের ক্ষেত্রকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। নাটক রচনা, পরিচালনা, ছবি আঁকা, উপস্থাপনা, বইয়ের প্রচ্ছদ ডিজাইন থেকে শুরু করে শিল্পের নানা মাধ্যমে মেধার স্বাক্ষর রেখেছেন। একুশে পদকপ্রাপ্তির অনুভূতি জানতে চাইলে এই অভিনেতা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সত্যি বলতে আলাদা কোনো অনুভূতি নেই। এই যে খবরটি জানার পর ১৫ মিনিটে ১০ জন ফোন দিয়েছে, এটাই শুধু পার্থক্য (হা হা হা)। সর্বপ্রথম ফোনটি পেয়েছি চ্যানেল আইয়ের বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজের কাছ থেকে। তিনি অভিনন্দন জানানোর পর আরও অনেকে ফোন করেছেন।’

একদিন রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাব, সেই চিন্তায় কোনো শিল্পী কাজ করেন না। কিন্তু কখনো কোনো পুরস্কারের জন্য কাজ করেছেন কি না জানতে চাইলে আফজাল হোসেন বলেন, ‘খুব বেশি গভীরে যাওয়া লাগবে না। শুধু এটুকু জানলেই হয় যে, আমি অভিনয় শুরু করেছি ১৯৭৫ সাল থেকে। কিন্তু নিয়মিত অভিনয় করিনি। শেষ ১৫-২০ বছর তো একেবারেই অনিয়মিত। হয়তো বছরে একটা কাজ করলেও করতে পারি। তার মানে আসক্তি নেই, ভালো লাগে বলে করি। কোনো বিশেষ প্রাপ্তি বা অন্য কিছু ভাবনায় থাকলে কেউ অভিনয়ের মতো একটা বিষয় থেকে দূরে থাকতে পারে না। আমি কোনো কাজ কন্টিনিউয়াসলি করতে থাকি না। যখন মনে হয় কাজ বদলানো দরকার, তখন আরেকটি কাজে যুক্ত হই। আসল কথা হলো, জীবনটাকে উপভোগ করা। ভালোবেসে একটা কাজ করা, এটাকেই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়। পুরস্কারের আকাক্সক্ষা কখনো তৈরি হয়নি। এগুলো কখনো আমার মাথায় ছিল না। যে বিষয়গুলো আপনি ভালোবাসেন, তার মধ্যে থাকাই তো সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি, তাই না? আমি অভিনয় করি, লিখি, আঁকি, বিজ্ঞাপন বানাই, ইলাস্ট্রেশন করি, প্রচ্ছদ ডিজাইন করি, কখনো কখনো উপস্থাপনা করেছি এগুলো উপভোগ করি বলেই তো করেছি। এগুলো হচ্ছে এক ধরনের নিরীক্ষার মধ্য দিয়ে যাওয়া। আমি সৌভাগ্যবান যে জীবন নানাভাবে উপভোগ করতে পেরেছি। এটাই আমার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। সেই ভালোলাগার কাজগুলোর জন্য যদি রাষ্ট্রীয় সম্মাননা আসে আহলে অবশ্যই আনন্দ লাগে। এটা তো অস্বীকার করার উপায় নেই। তবে এই সম্মাননা জীবনকে খুব বেশি বদলে দেয় না। আগে যে ভালোবাসা দিয়ে কাজ করতাম, এখনো একইরকম ভালোবাসা নিয়েই আগামীর কাজগুলো করব।’ 

আফজাল হোসেনের সমসাময়িক অনেকে অনেক আগেই এই সম্মাননা পেয়েছেন। তা নিয়ে কোনো অনুরাগ আছে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘পুরস্কারের আকাক্সক্ষা থাকলেই না খেদ থাকবে। যদি আকাক্সক্ষাই না থাকে, তাহলে কে পেয়েছে কে পায়নি সেটা ভাববার অবকাশ নেই।’পদকপ্রাপ্তি নিয়েও এই তারকার কোনো আলাদা উদযাপনের পরিকল্পনা নেই। কাছের মানুষজন কোনো আয়োজন করলে খুশি মনে হাজির হবেন কি না জানতে চাইলেও তিনি বলেন, এটা নিয়ে এখনই কিছু ভাবিনি।

আফজাল হোসেন এখন ব্যস্ত তার প্রথম পরিচালিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘মানিকের লাল কাকড়া’ নিয়ে। তিনি বলেন, ‘ছবিটির কাজ সামান্য কিছু বাকি আছে। সিনেমা যে ধরনের হয়, এটা তেমন নয়। এটা অন্য ধরনের একটা কাজ। শিশুদের জন্যই মূলত করা। বাচ্চারা দেখবে, একজন লেখক সম্পর্কে জানবে। বড়রা চাইলেও দেখতে পারে, তেমন উপাদানও আছে ছবিটিতে। আলাদা ধরনের ছবি বলে আমি উপভোগ করছি কাজটা করতে।’

আফজাল হোসেন সর্বশেষ অভিনয় করেছেন নুহাশ হুমায়ূনের পরিচালনায়। তার বাবা হুমায়ূন আহমেদের পরিচালনায়ও তিনি অনেক কাজ করেছেন। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘দুই প্রজন্মের দুজন পরিচালক। দুজনের ধরন একেবারেই আলাদা। নুহাশের সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতা অসাধারণ। সে হলো আগামীর পরিচালক, অ্যাডভান্সড। তার ভাবনা ও দৃশ্যায়ন খুবই আধুনিক। সেটার অডিও ভিজ্যুয়ালও বিস্ময়কর হবে।’ 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত