ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের অন্যতম সক্রিয় কর্মী, স্বাধীনতাসংগ্রামী, কবি ও সমাজসেবক আশালতা সেন ১৮৯৪ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন। বাবা বগলামোহন দাশগুপ্ত ছিলেন নোয়াখালী জজকোর্টের আইনজীবী। তার পৈতৃক নিবাস ছিল বিক্রমপুরের বিদগাঁও গ্রামে। মাতামহী নবশশী দেবীর উৎসাহ ও অনুপ্রেরণায় আশালতা রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন। ১৯১৬ খ্রিস্টাব্দে স্বামী সত্যরঞ্জন সেনের অকালমৃত্যুতে তিনি শিশুপুত্র নিয়ে অত্যন্ত বিপর্যস্ত সময় কাটান। ১৯২১ সালে অসহযোগ আন্দোলনের সময় মহাত্মা গান্ধীর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি শ্বশুরের সহায়তায় ঢাকার গেণ্ডারিয়ায় নিজ বাসভবনে মহিলাদের প্রশিক্ষণের জন্য ‘শিল্পাশ্রম’ নামে একটি বয়নাগার স্থাপন করেন। ১৯২২ সালে ঢাকা জেলার মহিলা প্রতিনিধিরূপে গয়া কংগ্রেসে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততা ঘটে। তিনি অনেক নারী সংগঠন তৈরি করেন। ১৯৪২ সালে মহাত্মা গান্ধীর ভারত ছাড় আন্দোলনে আশালতা সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪৩ সালের দুর্ভিক্ষে তিনি বুভুক্ষু মানুষের জন্য ত্রাণ তৎপরতায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৪৬ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় তিনি বঙ্গীয় ব্যবস্থা পরিষদ এবং ১৯৪৭ সালে দেশ বিভাগের পর তদানীন্তন পূর্ব পাকিস্তানের আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৬৫ সালে তিনি দিল্লিতে ছেলে সমররঞ্জন সেনের কাছে চলে যান। বাংলাদেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে আশালতা সেন এ দেশের জনগণকে নানাভাবে সাহায্য করেন। আশালতা সেনের বাড়িটি বর্তমানে ‘গেণ্ডারিয়া মনিজা রহমান বালিকা বিদ্যালয়’ হিসেবে পরিচিত। ১৯৮৬ সালের ৩ ফেব্রুয়ারি তিনি দিল্লিতে ছেলের বাসভবনে মৃত্যুবরণ করেন।
×
