শিক্ষক ড. সেলিমের মৃত্যু

পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন কুয়েটের বহিষ্কৃতরা

আপডেট : ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:২০ এএম

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ ড. মো. সেলিম হোসেনের মৃত্যুর ঘটনায় বিভিন্ন মেয়াদে বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীরা পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছেন। কুয়েটে গত বৃহস্পতিবার অনলাইনের মাধ্যমে শুরু হওয়া বিভিন্ন বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের প্রথম সেমিস্টারের (পর্ব) পরীক্ষায় বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ অংশ নিয়েছেন। উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা এ সুযোগ পাচ্ছেন বলে জানা গেছে। আগামী ২৪ মার্চ চলমান এই পরীক্ষা শেষ হবে।

বহিষ্কৃত শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের বিষয়ে জানতে চাইলে কুয়েটের ছাত্রকল্যাণবিষয়ক পরিচালক ইসমাঈল সাইফুল্লাহ গতকাল শুক্রবার দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘করোনার কারণে শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকায় দেশের সব বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়; তবে অনলাইনের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় অনলাইনের মাধ্যমে বৃহস্পতিবার থেকে কুয়েটে পরীক্ষা গ্রহণ শুরু হয়েছে। আদালতের নির্দেশনা থাকায় সম্প্রতি বহিষ্কারসহ বিভিন্ন ধরনের শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদেরও পরীক্ষায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। শাস্তি পাওয়া যন্ত্রকৌশল বিভাগের তিনজনসহ বৃহস্পতিবার কেউ কেউ পরীক্ষা দিয়েছেন।’

গত ৩০ নভেম্বর কুয়েটের ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং (ইইই) বিভাগের অধ্যাপক ও লালন শাহ হলের প্রাধ্যক্ষ মো. সেলিম হোসেন ক্যাম্পাসের কাছের ভাড়াবাসায় মারা যান। অভিযোগ ওঠে মৃত্যুর দিন দুপুরে বাসায় ফেরার পথে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা তাকে বিভাগে তার কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে অধ্যাপক সেলিমের ওপর মানসিক নিপীড়ন চালানো হয়।

ওই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে। গত বছরের ২৮ নভেম্বর কুয়েট প্রশাসনের কাছে ৯টি সুপারিশসহ ৪৮ পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দেয় ওই কমিটি। এরপর গত ৫ জানুয়ারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র শৃঙ্খলা কমিটির সিদ্ধান্তে চারজনকে চিরতরে কুয়েট থেকে বহিষ্কার, সাতজনকে দুই শিক্ষাবর্ষ ও একজনকে এক শিক্ষাবর্ষ বহিষ্কার করা হয়। এর বাইরে আরও ২২ জন শিক্ষার্থীকে এক শিক্ষাবর্ষ বহিষ্কার করা হয়। তবে ওই ২২ জনের বহিষ্কার আদেশ আপাতত স্থগিত ছিল। এ ছাড়া ১০ ছাত্রকে ১০ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও শাস্তি পাওয়া শিক্ষার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত ২৭ জানুয়ারি কুয়েট ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সাদমান নাহিয়ান ১২ শিক্ষার্থীর পক্ষে বহিষ্কারাদেশসহ সব ধরনের শাস্তির বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট ডিভিশনে একটি রিট আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে শুনানি শেষে ১ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালত তাদের পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ দিতে বিশ^বিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেয়। পরদিন আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাজা পাওয়া শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের কাছে চিঠি দেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার মো. আনিছুর রহমান ভূঞা।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালতের নির্দেশনার চিঠি পেয়ে আমরা সেই মোতাবেক তা বাস্তবায়ন করেছি। আইনি অন্য কোনো বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত হয়নি।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত