বুস্টার ডোজ টিকা নির্বাচন কীসের ভিত্তিতে

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:৪১ এএম

বুস্টার হিসেবে কোন টিকা নেবেন এটা নির্ভর করে অনেকগুলো ফ্যাক্টরের ওপর।  যেমন, ভ্যাকসিনটি কোন টেকনোলজির, ব্যক্তি কোন ভ্যারিয়েন্ট দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে, সমাজে সংক্রমণের ভয়াবহতা কতটুকু, রক্তে অ্যান্টিবডি টাইটারের উপস্থিতির পরিমাণ, ইতিপূর্বে কোন শিডিউলের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে (হমোলোগাস নাকি হেটারোলগাস ভ্যাকসিনেশন), বাজারে আসার পর ভ্যাকসিনের ইফেক্টিভনেজ পরীক্ষার ফলাফলে কোন টিকা অগ্রগামী এবং বিভিন্ন ভ্যাকসিন কম্বিনেশন এবং শিডিউল গবেষণার ফলাফল কী ইত্যাদি অনেক ফ্যাক্টরকে বিবেচনায় নিতে হয়।

সম্প্রতি একটি মাল্টিসেন্টার ফেইজ-২ ট্রায়াল হয়েছে যা ১৬ ডিসেম্বর এই গবেষণার ফলটি প্রকাশিত হয়েছে বিখ্যাত জার্নাল ল্যানসেটে। এই ট্রায়ালে মোট সাতটি টিকা পরীক্ষা করা হয়েছে। মূলত দেখা হয়েছে যাদের অ্যাস্ট্রাজেনেকার অথবা ফাইজারের দুই ডোজ দেওয়া হয়েছিল, তাদের কোন টিকা দিয়ে বুস্টার ডোজ দিলে কেমন ইমিউন রেসপন্স এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়।

এতে দেখা যায়, যারা অ্যাস্ট্রাজেনেকার দুটি ডোজ পেয়েছিলেন তাদের অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৃতীয় ডোজ দিলে অ্যান্টিবডি টাইটার বাড়ে ৩ গুণ, ভাইরাস নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি বাড়ে আড়াই গুণ এবং টি-সেল রেসপন্সের কোনো বৃদ্ধিই হয় না। অন্য দিকে, তৃতীয় ডোজটি যদি দেওয়া হয় ফাইজার দিয়ে, তাহলে অ্যান্টিবডি টাইটার বাড়ে ২৪ গুণ, ভাইরাস নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি বাড়ে ২৫ গুণ এবং টি-সেল রেসপন্সের বৃদ্ধি হয় ৩ থেকে ৪ গুণ। তৃতীয় ডোজ মডার্নার টিকা দিলে ফলাফল ফাইজারের টিকার মতোই পাওয়া যায়। আর যখন

তৃতীয় ডোজটি দেওয়া হয় নোভাভ্যাক্স দিয়ে তখন অ্যান্টিবডি টাইটার এবং নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি বাড়ে ৬ থেকে ৮ গুণ এবং টি-সেল রেসপন্স বাড়ে প্রায় ৪ গুণ। তৃতীয় ডোজ জনসন অ্যান্ড জনসনের অ্যাড-২৬ দিলে উভয় অ্যান্টিবডি টাইটার বাড়ে প্রায় ৬ গুণ এবং টি-সেল রেসপন্স বাড়ে প্রায় ৩ গুণ।

অন্য দিকে, যাদের ফাইজারের প্রাথমিক দুই ডোজ দেওয়া হয়েছিল তাদের অ্যাস্ট্রাজেনেকা দিয়ে তৃতীয় ডোজ দিলে অ্যান্টিবডি টাইটার এবং নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি বৃদ্ধি প্রায় ৫ গুণ এবং টি-সেল রেসপন্স বাড়ে প্রায় ৩ গুণ। আর এই গ্রুপকে যদি তৃতীয় ডোজ দেওয়া হয় ফাইজার টিকা দিয়ে তাহলে অ্যান্টিবডি টাইটার এবং নিউট্রালাইজিং অ্যান্টিবডি বৃদ্ধি প্রায় ৬ থেকে ৮ গুণ এবং টি-সেল রেসপন্স বাড়ে প্রায় ৩ গুণ। এ ক্ষেত্রে তৃতীয় ডোজের কার্যকারিতা অ্যাস্ট্রাজেনেকা এবং ফাইজারের বেলায় প্রায় সমান। আর মডার্নার টিকা দিয়ে তৃতীয় ডোজ দিলে অ্যান্টিবডি টাইটার এবং টি-সেল রেসপন্স বাড়ে যথাক্রমে ১১ গুণ এবং ৪ গুণ। বাংলাদেশে সিনোফার্মের টিকা দেওয়া হচ্ছে ব্যাপকভাবে। বিভিন্ন ট্রায়ালের ওপর ভিত্তি করে অনেকটাই বলা যায়, যেসব ক্ষেত্রে প্রাথমিক দুই ডোজ দেওয়া হয়েছে অ্যাস্ট্রাজেনেকা বা ফাইজারের টিকা দিয়ে, সেসব ক্ষেত্রে বুস্টার ডোজের বেলায় সিনোফার্মের টিকা না ব্যবহার করাই উত্তম। কারণ এই কম্বিনেশন কাজ নাও করতে পারে। সিনোফার্মের প্রাথমিক ডোজের সঙ্গে হেটারোলোগাস ডোজ হিসেবে এমআরএনএ টিকা যেমন ফাইজার বা মডার্না ব্যবহার করা যেতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত