চলে গেলেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক পীর হাবিব

আপডেট : ০৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৭:২১ এএম

বাংলাদেশ প্রতিদিনের নির্বাহী সম্পাদক ও খ্যাতিমান কলামিস্ট পীর হাবিবুর রহমান আর নেই। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টা ৮ মিনিটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন (ইন্নালিল্লাহি...রাজিউন)। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়ে রেখে গেছেন। পীর হাবিবের ছেলে অহনাফ ফাহিম অন্তর তার বাবার মৃত্যুর খবর গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেন।

এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তারা পৃথক পৃথক শোকবার্তায় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। এছাড়া পীর হাবিবের মৃত্যুর খবরে গণমাধ্যম কর্মীদের মধ্যে নেমে আসে শোকের ছায়া। অনেকে পীর হাবিবের ছবিসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফেইসবুকে স্ট্যাটাস দিয়ে নিজেদের শোক প্রকাশ করেন।

পীর হাবিবের মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ। শোকবার্তায় প্রয়াতের কর্মময় জীবনের কথা স্মরণ করে তথ্যমন্ত্রী বলেন, মেধাবী ও অত্যন্ত কর্মপ্রাণ সাংবাদিক পীর হাবিবের জীবনাবসান এ যুগের সাংবাদিকতায় এক শূন্যতা তৈরি করেছে।

এছাড়া তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মোস্তাফা কামাল, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র ও আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. মশিউর রহমান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহ।

পীর হাবিবের মৃত্যুতে জাতীয় প্রেস ক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, খুলনা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনও শোক প্রকাশ করে।

গত শুক্রবার সন্ধ্যায় বিএসএমএমইউ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পীর হাবিবুর রহমান স্ট্রোক করলে তাকে ল্যাবএইড হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়।

এর আগে গত বছরের অক্টোবরে মুম্বাইয়ের জাসলুক হাসপাতালে বোনম্যারো ট্রান্সপ্লান্টেশনের মাধ্যমে ক্যানসার মুক্ত হন পীর হাবিবুর রহমান। কিন্তু গত ২২ জানুয়ারি তিনি করোনায় আক্রান্ত হন। এরপর বিশিষ্ট চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ বি এম আব্দুল্লাহর পরামর্শে তিনি ল্যাবএইড হাসপাতালে ভর্তি হন। করোনামুক্ত হলেও কিডনি জটিলতার কারণে তিনি বিএসএমএমইউ হাসপাতালে ভর্তি হন।

গতকাল শনিবার বাদ এশা রাজধানীর উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর পার্ক জামে মসজিদে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পীর হাবিবের পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, প্রয়াতের মরদেহ আজ রবিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত সর্বসাধারণের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রাখা হবে। সেখান থেকে বেলা সাড়ে ১২টায় তাকে জাতীয় প্রেস ক্লাবে নিয়ে আসা হবে। প্রেস ক্লাবে জানাজা শেষে নেওয়া হবে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে। সেখান থেকে নেওয়া হবে বসুন্ধরায় বাংলাদেশ প্রতিদিন অফিসে তার সর্বশেষ কর্মস্থলে। সেখানে তার সহকর্মীরা শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন। এরপর মরদেহ সুনামগঞ্জে নিয়ে যাওয়া হবে। সুনামগঞ্জে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হবে তাকে।

বরেণ্য সাংবাদিক, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট পীর হাবিবুর রহমানের জন্ম ১৯৬৪ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জ শহরে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ১৯৮৪ সাল থেকে সাংবাদিকতায় হাতেখড়ি নেন পীর হাবিব। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি দৈনিক বাংলাবাজার, যুগান্তর, মানবকণ্ঠ, আমাদের সময় পত্রিকায় কাজ করেছেন।

বসুন্ধরা গ্রুপ চেয়ারম্যানের শোক :

পীর হাবিবুর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহান। গতকাল এক শোকবার্তায় বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান বলেন, দেশের একজন বরেণ্য সাংবাদিক হিসেবে তিনি তার সহকর্মী, তার পাঠক সমাজের কাছে যেমন স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তেমনি তিনি আমাদের নতুন প্রজন্মের সাংবাদিকদের কাছে অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে চিরদিন বেঁচে থাকবেন।

শোকবার্তায় মরহুমের আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান। এই জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকের মৃত্যুতে বসুন্ধরা পরিবারও শোক প্রকাশ করেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত