৪৮ লাখ টাকা মূল্যের ৪০৭ গ্রাম আইস (ক্রিস্টাল মেথ), ২ হাজার ৩৪০ পিস ইয়াবা ও একটি পিস্তলসহ তিন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)।
গত শনিবার বিকেল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাজধানীর রামপুরা, ভাটারা, খিলগাঁও ও সবুজবাগ থানা এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে ডিএনসির ঢাকা মেট্রোর (দক্ষিণ) একটি দল। গ্রেপ্তারকৃতরা হলোÑ মাসওয়া আকবর খান সায়েম (৩৫), তরঙ্গ যোসেফ কস্তা (৩০) ও মো. শিপন (৩৫)। গতকাল রবিবার দুপুরে রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের বিভাগীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. মাসুদ হোসেন।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি) বলছে, মাসওয়া আকবর খান সায়েম মূলত একজন পেশাদার ইয়াবা কারবারি। তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে কৌশলে ইয়াবার চালান আনতেন। সম্প্রতি তিনি ইয়াবার পাশাপাশি আইসের কারবারে জড়িয়ে পড়েন এবং আলাদা একটি চক্র গড়ে তুলেছেন।
মো. মাসুদ হোসেন বলেন, মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে, মাদকের বিরুদ্ধে শূন্য সহিষ্ণুতা নীতি বাস্তবায়নে দেশব্যাপী মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করে আসছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। দেশে মাদকের অপব্যবহার রোধে অবৈধ মাদকদ্রব্য উদ্ধার এবং মাদক চোরাকারবারিদের গ্রেপ্তারসহ রাজধানী ঢাকায় আইস, এনডিএমএ, ডিওবিসহ বিভিন্ন নতুন ধরনের মাদকদ্রব্যের চোরাচালান বন্ধে নিয়মিত অভিযান চালিয়ে আসছে ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) টিম। ইতিমধ্যে বিপুল পরিমাণ মাদকদ্রব্য জব্দসহ মাদক সিন্ডিকেটের মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদে সায়েম জানায়, টেকনাফের ফয়েজ নামের এক মাদক চোরাকারবারির থেকে সে নিজেই ওই মাদকদ্রব্য সংগ্রহ করে এনেছে।
ঢাকা মেট্রো (দক্ষিণ) কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক সুব্রত সরকার শুভ বলেন, সায়েম পেশাদার ইয়াবা কারবারি। তিনি কক্সবাজারের টেকনাফ থেকে কৌশলে ইয়াবার চালান আনতেন। ইয়াবার চালান আনার সুবাদে আইসচক্রের সঙ্গে তার সখ্য গড়ে ওঠে। সম্প্রতি তিনি ইয়াবার পাশাপাশি আইস ব্যবসাকে টার্গেট করেন। একটি আলাদা চক্র গড়ে তোলেন। সাবধানতা অবলম্বনের জন্য তিনি নিজেই আইসের চালান আনতে ছদ্মবেশে টেকনাফে যেতেন। তার সঙ্গে আর কারা কারা জড়িত সেটি জানার চেষ্টা করা হচ্ছে। পাশাপাশি টেকনাফ ও কক্সবাজারকেন্দ্রিক আইস ও ইয়াবা কারবারিদের বেশ কয়েকজনের নাম বলেছে সায়েম। যাচাই-বাছাই করে তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
