যুক্তরাষ্ট্রে ফের কৃষ্ণাঙ্গ হত্যা করল পুলিশ

আপডেট : ০৭ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৩:৪১ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে আমির লকি নামে এক যুবককে গুলি করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে দেশটির পুলিশের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার প্রতিবাদে গত শনিবার অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিস শহরের হাজারো মানুষ বিক্ষোভ করেন। খবর এএফপির।

দুই বছর আগে মিনিয়াপোলিস শহরেই শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে নিহত হয়েছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড। এ ঘটনায় গোটা যুক্তরাষ্ট্রে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। সে ঘটনার রেশ না কাটতেই গত বুধবার মিনিয়াপোলিসে আমিরের অ্যাপার্টমেন্টে তল্লাশি চালায় পুলিশ। এ সময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন ২২ বছর বয়সী আমির। এ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে তীব্র শীত উপেক্ষা করে গত শনিবার শহরের কেন্দ্রস্থলে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও মিছিল হয়। জড়ো হন হাজারো বিক্ষোভকারী। এ সময় বিক্ষোভকারীরা ‘বিচার নেই, শান্তি নেই’ স্লোগান দেন। তারা জড়িত পুলিশ সদস্যদের দ্রুত গ্রেপ্তার এবং শহরের মেয়র ও পুলিশ প্রধানের পদত্যাগ দাবি করেন।

বর্ণবাদবিরোধী এ বিক্ষোভে যোগ দিয়ে ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেন আমির লকির বাবা আন্দ্রে লকি। তিনি বলেছেন, ‘মিনিয়াপোলিয়াসের কর্মকর্তারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে, বাঁচতে চাইলেও তাকে তারা কোনো সুযোগ দেয়নি।’

পুলিশের প্রকাশ করা ভিডিও সম্পর্কে আন্দ্রে বলেন, আমি ভিডিওটি দেখেছি। এটি বিশ্বাসযোগ্য নয় এবং আপনাকে রাগান্বিতই করবে। কারণ আমার ছেলের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের অপরাধের রেকর্ড নেই। তার লাইসেন্স করা পিস্তল রয়েছে ঠিকই এবং ঘটনার সময় ‘গভীর ঘুম’ থেকে তাকে ডেকে তোলা হয়। পিস্তল তাক করলেও তাকে থামানোর জন্য কোনো চেষ্টা করেনি পুলিশ।

আমির লকির মা কারেন ওয়েলস বলেন, কোনো মা সন্তানের এমন মৃত্যু মেনে নিতে পারে না। হত্যার বিচার না পাওয়া পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দেন তিনি।

হত্যাকাণ্ডের পরদিন গত বৃহস্পতিবার পুলিশের পক্ষ থেকে ওই ঘটনার একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়। এতে দেখা যায়, তল্লাশির সময় বিছানায় শুয়ে ছিলেন আমির। পুলিশ তালা খুলে তার বাসায় প্রবেশ করে। এ সময় তিনি পুলিশকে লক্ষ্য করে পিস্তল তাক করেন। তবে গুলি ছোড়েননি। সেকেন্ডের ব্যবধানে পুলিশের চালানো গুলিতে নিহত হন তিনি। আমিরকে লক্ষ্য করে তিনটি গুলি চালানো হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, আমিরের বাড়িতে তল্লাশির জন্য তাদের কাছে ‘নো-নক ওয়ারেন্ট’ ছিল। এর ফলে তল্লাশির আগে আগাম জানানোর প্রয়োজন হয় না। তবে আমিরের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল কি না, থাকলেও সেটা কী ধরনের, সেসব কিছুই জানায়নি পুলিশ।

এক সংবাদ সম্মেলনে গত বৃহস্পতিবার মিনিয়াপোলিসের অন্তর্বর্তী পুলিশ প্রধান অ্যামেলিয়া হাফম্যান বলেন, এক পুলিশ সদস্যকে লক্ষ্য করে বন্দুক তাক করায় দ্রুত গুলি ছোড়ে পুলিশ। এতে নিহত হন আমির। এ ঘটনায় তদন্ত শুরু হয়েছে।

এদিকে দুই বছর আগে শ্বেতাঙ্গ পুলিশের হাতে কৃষ্ণাঙ্গ জর্জ ফ্লয়েড নিহত হওয়ার ঘটনার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছিল মিনিয়াপোলিসবাসী। পরে বর্ণবাদবিরোধী ওই বিক্ষোভ পুরো যুক্তরাষ্ট্রে ও বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ফ্লয়েডকে হত্যার দায়ে শ্বেতাঙ্গ পুলিশ কর্মকর্তা ডেরেক চৌভিনকে সাড়ে ২২ বছর কারাদণ্ড দিয়েছে আদালত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত