চীনে তেল-গ্যাস রপ্তানি বাড়াচ্ছে রাশিয়া

আপডেট : ০৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০৬:৫৮ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে পেইচিং তেল ও গ্যাস কেনা নিয়ে মস্কোর সঙ্গে ৪০০ বিলিয়ন ডলারের চুক্তি সই করে। যেটি সে সময় রাশিয়াকে অর্থনৈতিক ভরাডুবি থেকে রক্ষা করেছিল। যদিও পর্যবেক্ষকদের অনেকেই তখন বলেছিলেন, রাশিয়ার ক্রিমিয়া দখল নিয়ে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও সহজ শর্ত এবং সস্তায় জ্বালানি সম্পদ কেনার সুযোগ হাতছাড়া করতে চায়নি চীন।

বর্তমানে তাইওয়ানসহ নানা ইস্যুতে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক তলানিতে ঠেকেছে। সম্প্রতি ইউক্রেন ইস্যুতে মুখোমুখি অবস্থানে রাশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র। ইউক্রেনে যেকোনো দিন হামলা করতে পারে রাশিয়া এমন দাবি করছেন হোয়াইট হাউজের কর্মকর্তারা। তবে রাশিয়া বলছে, ইউক্রেনে হামলার পরিকল্পনা তাদের নেই। ইউক্রেনের অচলাবস্থার মধ্যে গত শুক্রবার পেইচিংয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। শীতকালীন অলিম্পিকের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দিতে প্রায় দুই বছর পর পেইচিং সফরে যান রুশ প্রেসিডেন্ট।

বিশ্বের প্রাকৃতিক গ্যাসের ১৭ শতাংশ উৎপাদন করে রাশিয়া। চলমান ইউক্রেন সংকটের মধ্যে ইউরোপীয় দেশগুলো রাশিয়ার বিকল্প হিসেবে অন্য কোনো দেশ খুঁজছে গ্যাস আমদানির জন্য। ঠিক তেমনি ইউরোপীয় গ্রাহকদের সঙ্গে উত্তেজনা বাড়ার কারণে রাশিয়া একটি নতুন পাইপলাইনের মাধ্যমে চীনে গ্যাস সরবরাহ বাড়াতে  চুক্তিতে সম্মত হয়েছে। পেইচিং সফরে গিয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন চীনের সঙ্গে তেল ও গ্যাস রপ্তানির জন্য ১১৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের চুক্তিতে সম্মত হয়েছেন।  ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, চীনের সঙ্গে সেই তেল ও গ্যাসের চুক্তির সময়সীমা ২৫ বছর পর্যন্ত। যদিও চীনের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান জানিয়েছে সেই চুক্তির মেয়াদ ৩০ বছর পর্যন্ত করা হয়েছে।

সাইবেরিয়ার পাইপলাইনের মধ্য দিয়ে ২০১৯ সালে রাশিয়া থেকে গ্যাস রপ্তানি শুরু হয় চীনে। এছাড়া তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসও (এলএনজি) রপ্তানি হচ্ছে জাহাজের মাধ্যমে। ২০২১ সালে চীনে ১৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ঘনমিটার গ্যাস রপ্তানি করেছে রাশিয়া।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত