তামিম ইকবালের অসাধারণ এক ইনিংসের পরও চট্টগ্রাম চ্যালেঞ্জার্সের বিপক্ষে ৩ রানে হেরে গেল মিনিস্টার গ্রুপ ঢাকা।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার বিপিএলের প্রথম ম্যাচটির রোমাঞ্চকর সমাপ্তি হয়। তামিমের লড়াইয়ের পরও ঢাকার কাছ থেকে জয় কেড়ে নেন চট্টগ্রামের তরুণ পেসার মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরী নিপুণ।
১৪৯ রান তাড়া করতে নামা ঢাকার শেষ ওভারে ৯ রানের সমীকরণ দাঁড়ায়। মৃত্যুঞ্জয়ের ওভারে মাত্র ৫ রান নিতে পারে ঢাকা। ওভারের প্রথম বলেই কায়েস আহমেদকে ফিরিয়ে দিয়েছিলেন মৃত্যুঞ্জয়। এরপর মোহাম্মদ নাঈম উইকেটে এসে প্রথম দুই বলই ডট দেন। পরের বল ছিল ওয়াইড, লিগাল চতুর্থ বলে সিঙ্গেল নিতে পারেন নাঈম।
পঞ্চম বলে মৃত্যুঞ্জয়ের মুখোমুখি হন তামিম। তখন ঢাকার সামনে ২ বলে ৭ রানের সমীকরণ। তামিম সিঙ্গেল নিলে শেষ বলে ৬ রানের দরকার পড়ে ঢাকার। ষষ্ঠ বল করতে গিয়ে মৃত্যুঞ্জয় ‘নো বল’ করলে নাটক আরো জমে যায়।
শেষ পর্যন্ত অবশ্য শেষ বলটাতেও এক রানের বেশি নিতে পারেননি নাঈম। সুবাদে দারুণ এক জয় পায় চট্টগ্রাম।
তামিম ৫৬ বলে অপরাজিত ৭৩ রান করেন ৬ চার ও ৩ ছক্কায়। টপ অর্ডারে মোহাম্মদ শাহজাদ (৭) ও ইমরান উজ্জামানের (৮) কাছ থেকে তেমন সহায়তা পাননি তিনি। চার নম্বরে ব্যাট করতে নেমে মাশরাফী বিন মোর্ত্তজা (০) রানের খাতা খুলতে পারেননি।
২১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলা ঢাকাকে এগিয়ে নিতে মাহমুদউল্লার কাছ থেকে যোগ্য সহায়তা পান তামিম। অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ ২৯ বলে ২৪ রান করেন। এরপর শুভাগত হোম ১১ বলে ২২ রানের ইনিংস উপহার দেন।
তামিমের সঙ্গে মাহমুদউল্লাহ ও শুভাগতর ইনিংসের ফলেই শেষ বল পর্যন্ত গড়ায় ম্যাচ। ঢাকা ৬ উইকেটে ১৪৫ রানে থামে।
চট্টগ্রামের পক্ষে মৃত্যুঞ্জয় ৪ ওভারে ২১ রান খরচায় ২ উইকেট নেন। শরিফুল ২৮ রান খরচায় নিয়েছেন ২ উইকেট। ১টি করে উইকেট নিয়েছেন নাসুম আহমেদ ও মেহেদি হাসান মিরাজ।
টানা তিন হারের পর জয়ের মুখ দেখল চট্টগ্রাম। ফলে তাদের প্লে-অফ খেলার সম্ভাবনাও টিকে রইল।
টস হেরে ব্যাট করতে নামা চট্টগ্রাম শুরুতেই ওপেনার জাকির হাসানকে (১) হারায়। তবে উইল জ্যাকস ও নতুন অধিনায়ক আফিফ হোসেন সেই ধাক্কা সামাল দেন। দ্বিতীয় উইকেটে ৪০ রান যোগ করেন দুজন। পরে শামীম হোসেন ও বেনি হাওয়েলের ব্যাটে বলার মতো স্কোর গড়ে চট্টগ্রাম।
শামীম ৩৭ বলে দলীয় সর্বোচ্চ ৫২ রান করেন ৫ চার ও ১ ছক্কায়। বেনি হাওয়েল ১৯ বলে ২৪ রানে অপরাজিত থেকে যান। উইল জ্যাকস ২৪ বলে ২৬ ও আফিফ ২৪ বলে ২৭ রান করেন। ম্যাচসেরা হন শামীম।
জয় দিয়ে ম্যাচ শেষ করা চট্টগ্রাম ম্যাচের শুরুতেই টুর্নামেন্টে দ্বিতীয়বার অধিনায়ক বদল করে চমক দেয়। চট্টগ্রাম পর্বে মেহেদী হাসান মিরাজকে সরিয়ে নাঈম ইসলামকে অধিনায়ক করেছিল দলটি। যা নিয়ে নাটকও হয়েছে অনেক। এবার বাজে পারফরম্যান্সের জন্য নাঈমকে সরিয়ে আফিফকে অধিনায়ক করা হলো। নাঈম একাদশেও জায়গা হারিয়েছেন।
