রেকর্ড ৩১৫ কোটি ডলার বিক্রি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:০২ এএম

আমদানি ব্যয় মেটাতে গিয়ে ডলারের চাহিদা বেড়েছে ব্যাংকে। কিন্তু ডলারের বড় উৎস রপ্তানিতে তুলনামূলক প্রবৃদ্ধি কম থাকলেও রেমিট্যান্সের প্রবৃদ্ধিতে বড় ধরনের ধস নেমেছে। ফলে ডলারের বাড়তি চাহিদা মেটাতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে পর্যাপ্ত ডলার সরবরাহ করছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের ১ জুলাই থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ৩১৫ কোটি ডলার বিক্রি করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর আগে কখনই এত ডলারের প্রয়োজন পড়েনি ব্যাংকগুলোর।  

বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জানুয়ারি মাসে ডলারের চাহিদা ছিল সবচেয়ে বেশি। এ কারণে কেবল জানুয়ারি মাসেই ৫৫ কোটি ডলার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কাছ থেকে কিনেছে ব্যাংকগুলো।

পরিসংখ্যান ঘেঁটে দেখা যায়, এর আগে কখনো এক অর্থবছরে এত বেশি ডলার বিক্রি করেনি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে সর্বোচ্চ ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কাছে ১৩৪ কোটি ডলার বিক্রি করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

জানা গেছে, ডলারের চাহিদা বাড়লেও দর যাতে না বাড়ে সে লক্ষ্যে নিয়মিত ডলার সরবরাহ করে যাচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গত ৬ জানুয়ারি আন্তঃব্যাংক ডলারের দর ছিল ৮৫ দশমিক ৮০ টাকা। গত ৯ জানুয়ারি ওই দর বাড়িয়ে ৮৬ টাকায় উন্নীত করে বাংলাদেশ ব্যাংক। এরপর থেকে গত এক মাস ধরে ডলারের দর স্থিতিশীল রয়েছে।

অবশ্য ডলারের দর বাড়তে শুরু করে গত বছরের আগস্ট থেকে। ওই বছরের ২ আগস্ট ডলারের দর ৮৪ দশমিক ৮০ টাকা ছিল। সেই হিসেবে আগস্ট থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত আন্তঃব্যাংকে ১ দশমিক ২০ টাকা দর বেড়েছে ডলারের।

বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা বলছেন, প্রতি মাসেই আমদানি ব্যয় বাড়ছে। ফলে ডলারের চাহিদাও বাড়ছে। এই পরিস্থিতিতে বাজারে ডলার সরবরাহ না করলে আমদানি বড় ধরনের হোঁচট খাবে। তাছাড়া বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভেও পর্যাপ্ত ডলার মজুদ রয়েছে। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিরবচ্ছিন্নভাবে ডলার সরবরাহ করছে।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে ৩ হাজার ৮৯৭ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছে দেশ, যা এর আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৫৪ শতাংশেরও বেশি।

এই সময়ে ৩১৫ কোটি ডলার ব্যাংকগুলোকে সরবরাহ করতে গিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভও কমেছে। গত আগস্টে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ প্রথমবারের মতো ৪ হাজার ৮০০ কোটি ডলার ছাড়ায়। তবে আমদানি দায় মেটাতে গিয়ে সম্প্রতি রিজার্ভ কমে ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলারে নেমে এসেছে।

তাছাড়া রেমিট্যান্সের সেই ঊর্ধ্বমুখী ধারাও এখন নেই। যে কারণে ডলারের জন্য রপ্তানির ওপরই বেশি নির্ভর করতে হচ্ছে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম সাত মাসে (জুলাই-জানুয়ারি) রেমিট্যান্স কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ। আলোচিত সময়ে রেমিট্যান্স এসেছে ১ হাজার ১৯৪ কোটি ৩৯ লাখ ডলার।

অন্যদিকে আলোচিত সাত মাসে ২ হাজার ৯৫৫ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি হয়েছে, যা এর আগের ২০২০-২১ অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ৩০ দশমিক ৪৩ শতাংশ বেশি।

ফলে এতদিন ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে বাড়তি ডলার কেনার প্রয়োজন হচ্ছিল। এখন আমদানিতে বড় ধরনের উল্লম্ফন দেখা দেওয়ায় ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে ডলার কেনার পরিবর্তে উল্টো ডলার বিক্রি করতে হচ্ছে।

তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, করোনার প্রথম বছর রপ্তানি পড়ে যাওয়ায় বাজারে ডলারের সরবরাহ ছিল বেশি। তখন বাজার থেকে রেকর্ড পরিমাণ ডলার কিনতে হয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী ২০২০-২১ অর্থবছরে ব্যাংকগুলোর কাছ থেকে সব মিলিয়ে ৭৯৩ কোটি ডলার কিনেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর আগে কোনো অর্থবছরে এত বেশি ডলার কিনতে হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত