সার্চ কমিটির কাজ প্রত্যাখ্যান করবে জনগণ : ফখরুল

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:১০ এএম

সার্চ কমিটির অনুসন্ধান জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘নতুন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) নিয়োগের লক্ষ্যে গঠিত সার্চ কমিটির প্রায় সবাই প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। ফলে এ সার্চ কমিটির সুপারিশে যে ইসি গঠিত হবে, তাদের লক্ষ্যই থাকবে বিদায়ী কমিশনের মতোই আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা।’ গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে গুলশানে বিএনপির চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গত সোমবার অনুষ্ঠিত দলের স্থায়ী কমিটির ভার্চুয়াল সভার সিদ্ধান্ত জানাতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘স্থায়ী কমিটির সভা মনে করে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত না হলে সার্চ কমিটি এবং তাদের দ্বারা গঠিত ইসি কোনোক্রমেই গ্রহণযোগ্য, সুষ্ঠু ও অবাধ নির্বাচন করতে পারবে না। এ কারণে বিএনপি সার্চ কমিটির বিষয়ে কোনো আগ্রহ প্রকাশ করতে চায় না। বিএনপি মনে করে, এ প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ অর্থহীন ও অগ্রহণযোগ্য।’

তিনি বলেন, ‘অনুসন্ধান কমিটির প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসান ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহসভাপতি ছিলেন। তার ছোট ভাই সাজ্জাদুল হাসান প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব হিসেবে কাজ করেছেন। মুহাম্মদ ছহুল হোসাইন ২০১৮ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন চেয়েছিলেন। বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামান, পিএসসির (সরকারি কর্ম কমিশন) চেয়ারম্যান সোহরাব হোসাইনসহ অন্যরাও বিভিন্নভাবে আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পৃক্ত। সার্চ কমিটি যাদের সুপারিশ করবে তাদের উদ্দেশ্য থাকবে আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় নিয়ে আসা। এটা জনগণের সঙ্গে আরেকটি প্রতারণা ছাড়া আর কিছুই নয়। এ ধরনের তামাশা জনগণ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি মনে করে, কেবল নিরপেক্ষ সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের মাধ্যমে নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচনসংক্রান্ত সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরই একটি নির্বাচনের মাধ্যমে এ সংকট উত্তরণ সম্ভব।’

‘তাহলে নিরপেক্ষ ইসি পাওয়ার পথ কী’ সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা প্রথম থেকেই বলে আসছি, আওয়ামী লীগ অত্যন্ত সচেতনভাবে এবং পরিকল্পিতভাবে ২০০৮ সালের পর থেকে বাংলাদেশের গণতন্ত্রের সব স্তম্ভ ও প্রতিষ্ঠানকে ধ্বংস করেছে এবং নির্বাচনী ব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। কেয়ারটেকার সরকারপদ্ধতি যেটা সংবিধানে ছিল, সেটা বাতিল করে দিয়ে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে এসেছে। আমরা হাজারবার বলেছি, বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক সংস্কৃতি, এ সংস্কৃতির কারণে এখানে কেয়ারটেকার সরকারের অধীনে নির্বাচন ছাড়া কখনো অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন করা সম্ভব নয়।’

বর্তমান ইসির সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে বর্তমান ইসি শুধু যে ব্যর্থ হচ্ছে তা নয়, তারা চুরি করছে, দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়েছে। এটা অবিশ্বাস্য যে তারা ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) কিনেছে ১১ গুণ বেশি দামে, ভারত থেকে। এরকম একটা জঘন্য পরিস্থিতির সৃষ্টি করেছে কমিশন।’

এ সময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ‘আমরা পরিষ্কার করে বলছি, আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগকে বিদায় নিতে হবে। সংসদ ভেঙে দিতে হবে। তারপর একটা নিরপেক্ষ সরকার আসবে। সেই সরকার সব প্রতিষ্ঠানকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে নিরপেক্ষ নির্বাচনের ব্যবস্থা করবে।’

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত