বাবা মারা গেছেন গত সপ্তাহে। গতকাল মঙ্গলবার ভোরে শ্মশানে তার শ্রাদ্ধ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন ৯ ভাইবোন। তবে ফেরার পথে বেপরোয়া গতির একটি পিকআপের চাপায় তছনছ হয়ে গেছে পরিবারটি। ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ গেছে পাঁচ ভাইয়ের। আরও এক ভাই ও এক বোন গুরুতর আহত হয়ে ভর্তি আছেন হাসপাতালে। গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজরা ইউনিয়নের মালুমঘাট এলাকায় ভয়াবহ ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে। এ ঘটনায় পিকআপটি আটক করা হলেও চালক-সহকারী পালিয়ে গেছেন।
এদিকে একই দিন নোয়াখালীর সুবর্ণচরে প্রাইভেটকার, সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয়েছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার। দেশ রূপান্তরের প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে বিস্তারিত
আমাদের পেকুয়া-কুতুবদিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি জানিয়েছেন, গতকাল ভোর সাড়ে ৫টার দিকে ডুলাহাজরা ইউনিয়নের রিংভংপাড়া গ্রামের প্রয়াত পল্লী চিকিৎসক সুরেশ চন্দ্র শীলের ৯ ছেলেমেয়ে শ্মশানে বাবার শ্রাদ্ধের পূজা দিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন। মালুমঘাট এলাকায় চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বেপরোয়া গতির সবজিবোঝাই একটি পিকআপ চাপা দিলে ৭ ভাইবোন গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যান। দায়িত্বরত চিকিৎসক অনুপম শীল (৪৭), নিরূপম শীল (৪৫), দীপক শীল (৪০), চম্পক শীলকে (৩৫) মৃত ঘোষণা করেন। এছাড়া গুরুতর আহত স্মরণ শীলকে (২২) চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে রেফার করেন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে সেখানে আইসিইউতে মারা যান তিনিও। এছাড়া আহত রক্তিম শীল, প্লাবন শীল ও ইরা শীলকে মালুমঘাট খ্রিস্টান মেমোরিয়াল হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
নিহতদের স্বজনরা জানিয়েছেন, সুরেশ চন্দ্র শীলের ৭ ছেলে ও ২ মেয়ে তাদের সদ্য প্রয়াত পিতা সুরেশ চন্দ্র শীলের শ্রাদ্ধের পূজা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়ক দুর্ঘটনায় পড়েন।
ডুলাহাজরা ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুল ইসলাম আদর জানিয়েছেন, ভয়াবহ এই ঘটনায় পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছেন। পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আমরাও শোকাহত। নিহতদের সৎকার করার জন্য ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেপি দেওয়ান বলেন, বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার দিনে একসঙ্গে পরিবারের পাঁচ সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা হৃদয়বিদারক। নিহতদের পরিবারকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে।
এদিকে চকরিয়া উপজেলার মালুমঘাট হাইওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির অফিসার ইনচার্জ মো. শাফায়েত হোসেন জানান, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে সুরতহাল রিপোর্ট তৈরি করে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। দুর্ঘটনার ১১ ঘণ্টা পর বিকেল ৫টার দিকে পিকআপটি আটক করা হয়েছে। তিনি জানান, ডুলাহাজরা রংমহল এলাকা থেকে পিকআপটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক ও হেলপার পলাতক রয়েছেন।
এদিকে নোয়াখালীর সুবর্ণচর উপজেলায় প্রাইভেটকার-সিএনজি অটো-মোটরসাইকেলের ত্রিমুখী সংঘর্ষে দুজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত চারজন। নিহতরা হলেন চরজব্বর উপজেলার চরআমান উল্যাহপুর গ্রামের কিরণ চন্দ দাসের ছেলে জুয়েল চন্দ দাস (২৮) ও কিশোরগঞ্জের ভৈরবের বাসিন্দা জসিম উদ্দিন (৬০)। গতকাল দুপুর আড়াইটার দিকে উপজেলার চর ওয়াপদা ইউনিয়নের দক্ষিণ ওয়াপদা এলাকার সোনাপুর-চেয়ারম্যানঘাট সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে। আহতদের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
চরজব্বর থানার ওসি মো. জিয়াউল হক ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নিহতদের পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে পরবর্তীতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এছাড়া ঠাকুরগাঁওয়ে সড়ক দুর্ঘটনায় হামিদুর রহমান নামে এক বিএনপি নেতার মৃত্যু হয়েছে। গতকাল দুপুরে বালিডাঙ্গী উপজেলার রুপগঞ্জ টেকনিক্যাল কলেজ মোড়ে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত হামিদুর উপজেলার বড়বাড়ী ইউনিয়ন ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও টেকনিক্যাল কলেজের হিসাবরক্ষক ছিলেন।
বালিয়াডাঙ্গী থানার ওসি খায়রুল কবির ডন জানান, মোটরসাইকেলে মেয়েকে নিয়ে বালিয়াডাঙ্গী বাজারে যাচ্ছিলেন হামিদুর রহমান। কলেজ গেটের সামনে বিপরীত দিক থেকে আসা বৈদ্যুতিক খুঁটি বহনকারী ভ্যানগাড়ির সঙ্গে ধাক্কা লাগলে তিনি ছিটকে পড়েন। এ সময় স্থানীয়রা তাকে গুরুতর অবস্থায় উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্মরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
