সম্রাট নেপোলিয়নের যাত্রাপথ হিসেবে ব্যবহৃত ফ্রান্সের একটি রাস্তার নাম রুট নেপোলিয়ন। পাহাড়ের মধ্য দিয়ে চলে যাওয়া ৩২৫ কিলোমিটারব্যাপী বিস্তৃত এই রাস্তা নয়নাভিরাম। ইউরোপীয় ইতিহাসের গতিপথ বদলে দেওয়া রুট নেপোলিয়ন নিয়ে লিখেছেন মুমিতুল মিম্মা
নেপোলিয়নের পায়ের ছাপ
১৮১৫ সাল। বছরের শুরুটা নেপোলিয়ন বোনাপার্টের জন্য ভালো ছিল না। ফ্রান্সের সাবেক সম্রাট প্রায় এক বছর ধরে ভূমধ্যসাগরের ছোট দ্বীপ এলবায় নির্বাসিত ছিলেন। (অনেকের মতে ভূমধ্যসাগরে নয়, আটলান্টিকের মধ্যে আরও দূরবর্তী দ্বীপে নির্বাসন দেওয়া হয়েছিল তাকে।) পরিবার ছেড়ে তরুণ বয়সের নির্বাসন তাকে কষ্টে ফেলে দেয়। একই সঙ্গে তার আর্থিক সংগতিও কমতে থাকে।
ভাগ্য কখন বদলাবে সে অপেক্ষায় দিন গুজরানের পক্ষপাতী ছিলেন না। অপেক্ষার পরিবর্তে কর্সিকায় জন্ম নেওয়া এ সম্রাট ভাগ্যকে নিজ হাতে গড়ে নেওয়ার পক্ষপাতী ছিলেন। পালিয়ে নৌপথে ফ্রান্সে চলে গেলেন তিনি। তার সঙ্গে ছিল ৭০০ অনুগত সৈন্য। তাদের সঙ্গে নিয়েই ২৮ ফেব্রুয়ারি কোত দেজুরের গলফ জুয়ানে প্রবেশ করেন সম্রাট নেপোলিয়ন। গ্রেপ্তার এড়াতে তাকে ভিন্ন পথে প্যারিসের দিকে যাত্রা শুরু করেন তিনি। তত দিনে তিনি রাষ্ট্রের চিহ্নিত শত্রু হিসেবে প্রচার পেয়ে গেছেন। হুলিয়া জারি করা হয়েছে তার বিরুদ্ধে। বিপুল পরিমাণ অর্থ ধার্য করা হয়েছে তার মাথার দাম। এত এত বিপদ সত্ত্বেও আড়াই সপ্তাহেরও কম সময়ের ভেতরে তার গন্তব্য প্যারিস পৌঁছান তিনি। শুধু তাই-ই নয়, ফ্রান্সের রাজধানীর পথে যেতে যেতে সেনাবাহিনী গঠন করেন তিনি। তত দিনে ভাগ্য নেপোলিয়নের পক্ষে সায় দিতে শুরু করেছে। বিরুদ্ধ বাতাসের বিপরীতে দাঁড়িয়ে ক্ষমতা পুনরুদ্ধার করেন তিনি।
নেপোলিয়নের প্রত্যাবর্তনকে ধরা হয় সর্বকালের শ্রেষ্ঠ প্রত্যাবর্তন। আল্পসের পাথুরে পথ ধরে গ্রেনোবল পর্যন্ত যে পথ ধরে নেপোলিয়ন প্যারিস পৌঁছান সেই অচেনা পথটি রুট নেপোলিয়ন (নেপোলিয়নের রাস্তা) হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। ২০০ মাইলের (৩২৫ কিলোমিটার) এ রাস্তাটি বর্তমানে সারা বিশ্বের ভ্রমণার্থী মানুষের বিশেষ আকর্ষণ। ইতিহাসকে কাছ থেকে দেখার ইচ্ছে আর সম্রাটের পদাঙ্ক অনুসরণ করতেই যেন প্রতি বছর এ রাস্তা দেখতে আসে বিপুলসংখ্যক মানুষ।
জাতীয় সম্পদ
ফ্রান্সের গ্রাস শহরের মেয়র জিহুম ভিয়ু ব্যাখ্যা করছিলেন, ‘রুট নেপোলিয়ন ফরাসিদের জাতীয় সম্পদ।’ বর্তমানে সুগন্ধী শিল্পের উত্থান গ্রাসকে বিশ্বব্যাপী পরিচিত করেছে। কিন্তু ২০০ মাইল যাত্রায় নেপোলিয়নকে সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছিল গ্রাস। গ্রাসে এসেই প্রথমবারের মতন থামেন তিনি। জিহুম আরও বলেন, ‘ভূমধ্যসাগর থেকে আল্পস পর্বতমালা পর্যন্ত বিস্তৃত, স্থাপত্য, ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য আমাদের গর্বিত করে। মানুষের মন আন্দোলিত করা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সামনাসামনি দেখার জন্য হলেও এখানে আসতে হবে সবাইকে, পাশাপাশি ছবি তোলার ব্যাপারটি তো আছেই। এই প্রতিটি বিষয় অনুধাবনের জন্য ভ্রমণার্থী মানুষদের নিজ শহর (গ্রাসে) আমন্ত্রণ জানাই।’
এএনইআরএনএন (অ্যাকশন ন্যাশনালে দেজ ইলু পোর লা রুত নেপোলিও)-এর সভাপতি হিসেবে আসীন মেয়র জিহুম ভিয়ু। ৪২টি গ্রাম ও শহর সংযুক্ত করেছে রুট নেপোলিয়ন। যে গ্রাম ও শহরের ওপর দিয়ে রুট নেপোলিয়ন চলে গেছে সেগুলোর দেখভালের দায়িত্ব এই সংগঠনের। এ তালিকার মধ্যে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান রয়েছে। সমুদ্রতীরে পাবলো পিকাসোর পছন্দের রিসোর্ট ভ্যালুরিস, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের আয়োজন করা শহর কান, ক্যাসটিলানো, গর্জে দু ভারদন ক্যানিয়ন দুর্গের মধ্যযুগীয় রতেœর সঙ্গে মিশে থাকা ইতিহাস, ফ্রান্সের খেলাধুলার শহর হিসেবে পরিচিত গ্যাপ এবং ফরাসি আল্পসের রাজধানী হিসেবে পরিচিত শহর গ্রেনোবলের পায়ে-পায়ে এগিয়ে গেছে এই রাস্তা। শুধু খ্যাতিমান শহরের ওপর দিয়ে চলে গেছে তাই-ই নয়, ইউরোপীয় ইতিহাসের আরও গভীরে গেঁথে আছে এই পথের ব্যাপ্তি।
জিহুম ভিয়ু বলেন, ‘এএনইআরএনএন সংগঠনের লক্ষ্য হলো ইতিহাস ও গল্প বলার মাধ্যমে ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোকে সংযুক্ত করা। মোটরওয়ের পরিবর্তে রুট নেপোলিয়নের পথ ধরে আমরা ইউরোপীয় অতীতের গভীরে যেতে উৎসাহিত করি। এই স্থানের পর এই স্থান দেখতে হবে এ রকম কোনো নিয়ম অনুসরণ করি না আমরা। বরং ভ্রমণার্থী মানুষরা তাদের ইচ্ছানুযায়ী ঘুরে বেড়াবে এটাই চাই। চোখে একরাশ বিস্ময় নিয়ে সবাই নিজের মতো করে ঘুরে বেড়াবে, ফ্রান্স ও ইউরোপীয় ইতিহাস নিয়ে কথা বলবে এটাই চাই।’
সম্রাট নেপোলিয়নের মেয়াদ তো বহু আগেই শেষ। কিন্তু তবুও ফরাসি ইতিহাসে তিনি কেন জনপ্রিয়? জনমানসে সম্রাট নেপোলিয়নের পতন তো অনেক দূরে, কখনো পতন হবে কি না তা নিয়েও সন্দিহান মেয়র জিহুম ভিয়ু। তার প্রতিষ্ঠানের পরিচালিত সাম্প্রতিক জরিপে দেখা যায়, ৭৪ শতাংশ পর্যটক এখনো নেপোলিয়নকে ফরাসি ইতিহাসের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি হিসেবে দেখেন।
কথা প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ফ্রান্সে সম্রাটের ভাবমূর্তি আজও খুব ভালো। তিনি খুব জনপ্রিয় চরিত্র হিসেবে রয়ে গেছেন। তাকে নিয়ে মানুষের আগ্রহ আমাদের অনুপ্রাণিত করে। ঘুরতে আসা মানুষের সঙ্গে আগ্রহ নিয়ে কথা বললে বেশির ভাগ মানুষই বলেন সম্রাটের ব্যক্তিত্ব, ক্ষমতা ও শৃঙ্খলা তাদের অনুপ্রাণিত করে।
আমার জন্য ব্যক্তি নেপোলিয়ন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তিনি প্রচলিত দৃষ্টিকোণের বিরুদ্ধে গিয়েছিলেন। তিনি এমন কিছু অর্জন করেছিলেন, যা অন্যরা অসম্ভব মনে করেছিল। নির্বাসন থেকে ফ্রান্সে ফেরার সব পথ বন্ধ করে রাখা সত্ত্বেও তার প্রত্যাবর্তন ছিল বিস্ময়কর ব্যাপার। তার রাজনৈতিক প্রভাব এখনো ফরাসি সিস্টেমে বহমান। বর্তমানে ক্ষমতা যতই বিকেন্দ্রীকরণ করা হক না কেন এখনো তিনি প্রবল প্রতাপে শাসকের ভূমিকায় রয়ে গেছেন। আধুনিক রুট ন্যাশনাল হাইওয়ে নেটওয়ার্কের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন তিনি। আমাদের মনে হয়েছে তার তৈরি করা ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে থাকা রাস্তার নাম তার নামানুসারেই হওয়া উচিত।
বৈশ্বিক তাৎপর্য
সম্রাট নেপোলিয়ন খুবই বিতর্কিত ব্যক্তি হওয়া সত্ত্বেও শাসক হিসেবে তার ক্যারিশমা রয়েছে। ক্ষমতা ফিরে আসার বিষয়টি শুধু ফ্রান্সকেই বদলে দেয়নি বরং বাটারফ্লাই ইফেক্টের মতো পুরো বিশ্বে তার প্রভাব দৃশ্যমান হয়ে উঠেছিল।
ওয়ারউইক বিশ্ববিদ্যালয়ের ফরাজি স্টাডিজের অধ্যাপক কেট অ্যাস্টবেরি বলেন, ‘নেপোলিয়নের প্রত্যাবর্তন বিশ্বব্যাপী প্রভাব ফেলেছিল।’ নেপোলিয়নের শাসনকালে সমাজ ও সংস্কৃতিতে তার প্রভাব নিয়ে গবেষণা করছেন কেট। নেপোলিয়নের বিরুদ্ধে যুদ্ধ যেন ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মধ্যকার যুদ্ধের চেয়েও বেশি প্রভাব রেখে গেছে। তার সময়ে ফ্রান্স হয়ে উঠেছিল ইউরোপের প্রাণকেন্দ্র।
নেপোলিয়নের প্রত্যাবর্তন একটি দেশের সার্বভৌমত্বের প্রশ্নকে আরও গভীরভাবে চিহ্নিত করেছিল। শাসন করার মানে কর্র্তৃত্ব নয় সেটিই প্রমাণ করে দিয়েছিলেন তিনি। অন্য ইউরোপীয় শাসকরা যেখানে তার ফেরা নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিল, সেখানে ফ্রান্সের জনগণ তাকে সাদরে বরণ করে নেয়। সে সময় ফ্রান্সের মানুষ বিশ্বাস করত রাজা বা সম্রাটরা ঈশ্বরের কাছ থেকে সরাসরি ক্ষমতা লাভ করে। কিন্তু সেসবের ধারে-কাছেও ছিলেন না তিনি। রাজকীয় রক্ত বা তার শাসনকালের পটভূমি তাকে শাসক হিসেবে বৈধতা দেয়নি। তারপরও জনগণ তাকে নেতা হিসেবে মেনে নিয়েছিল। তিনি ছিলেন জনপ্রিয় শাসক।
কেট অ্যাস্টবারি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘ব্রিটেনে ক্যারিকেস্টারিস্টরা তার ফিরে আসাকে স্বাগত জানিয়েছে। কারণ তার নির্বাসনকালে ফ্রান্সের রাজাদের বোকা বানিয়ে তিনি ফিরে আসতে সমর্থ হয়েছেন। দৃশ্যমান না হওয়ায় জনমানসে তার জনপ্রিয়তা আঁচ করতে পারেননি কেউ। শেষ পর্যন্ত ওয়াটারলু যুদ্ধে পরাজিত হন তিনি। পালিয়ে যেতে বাধ্য হন তিনি। পালানোর কয়েক মাস পর ফ্রান্সে তার সম্পত্তির প্রদর্শনী করা হয়। কিন্তু ফ্রান্সের তৎকালীন শাসকরা বুঝতেও পারেনি এটি কত বড় ভুল পদক্ষেপ। দ্রুততম সময়ে কাল্ট ফিগারের জনপ্রিয় নেতায় পরিণত হন নেপোলিয়ন।’
প্রাকৃতিক সৌন্দর্য
বর্তমানে রুট নেপোলিয়নের সরকারি নাম এন৮৫। ১৮১৫ সালে সম্রাট নেপোলিয়ন যখন তার যাত্রা শুরু করেছিলেন তখন কোনো পিচঢালা রাস্তা ছিল না। যে পথ পাড়ি দিয়ে প্যারিস পৌঁছেছিলেন সে রাস্তাও কালে কালে সংস্কারের কবলে পড়েছে। অভিজ্ঞতা বলে সম্রাট জানতেন নিজের গন্তব্যে পৌঁছানোর পথ তাকে তৈরি করে নিতে হবে। দলবল নিয়ে হেঁটে যাত্রা করেছিলেন তিনি।
কালের যাত্রায় পথের চেহারা বদলেছে। উঁচু-নিচু বাঁকের সঙ্গে পথের দুপাশে রয়েছে গ্রাম ও প্রাচীন কৃষিজমি। স্থানীয় সরকারও ইতিহাস সংরক্ষণে বিশেষভাবে উদ্যোগী। তাই পথ চলতে আসা যেকোনো মানুষকে মনোরম পরিবেশের ছোঁয়ায় আপ্লুত হয়ে ওঠে। স্থানীয় পর্বত গাইড হিসেবে কাজ করছেন আন্দ্রেয়া বাকের। গর্জে দু ভারদন ক্যানিয়ন ও ক্যাস্টেলানো অঞ্চলের সবকিছু তার নখদর্পণে। তিনি বলেন, ‘ফ্রান্সের দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলটি একই সঙ্গে বৈচিত্র্যময় ও বিস্ময়কর। ফলে পর্যটকদের জন্য হেঁটে ঘুরে দেখার চেয়ে ভালো কিছু হতেই পারে না। আমি ৩০ বছর ধরে এখানে কাজ করছি। এই পথ ধরে এত হেঁটেছি, ঘুরে বেড়িয়েছি তবু মুগ্ধতা যায় না। যখনই বাইরে যাই নতুন কিছু আবিষ্কার করি। পার্বত্য অঞ্চল হওয়ায় এখানকার প্রকৃতি বিশেষভাবে সমৃদ্ধ। অনেক স্থানে এখনো মানুষের পায়ের ছাপ পড়েনি। হাজার হাজার বছর ধরে তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।’
হাইকার, পর্বতারোহী, ক্রীড়াপ্রেমী ও প্রকৃতিপ্রেমী মানুষের জনপ্রিয় গন্তব্য গর্জে দু ভারদন ক্যানিয়ন। মালভূমির ভেতর দিয়ে চলে যাওয়া ফাটল চুয়ে আসা জলের ধারা বন্যপ্রাণীদের জন্য এক টুকরো বিস্ময়। স্থানীয় প্রাণ ও প্রকৃতি তার অপার বিস্ময় ছড়িয়ে অপেক্ষমাণ। আন্দ্রেয়া বাঁচার ব্যাখ্যা করেন, ‘অনেক দর্শক যখন দর্শনীয় বন্যপ্রাণী যেমন বিরল শকুন দেখে উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। নব্বইয়ের দশকে এ অঞ্চলে শকুনগুলো পুনর্বাসন করা হয়েছিল। ধীরে ধীরে শকুনের সংখ্যা বেড়েছে। মাথার ওপর দিয়ে উড়ে গেলে তাদের দৈত্যকার ছায়া দেখে অনেক মানুষই সেগুলোকে ইগলের সঙ্গে গুলিয়ে ফেলে।’
ইগলের সঙ্গে নেপোলিয়ন বোনাপার্টের বিশেষ সম্পর্ক রয়েছে। রোমানদের কাছ থেকে উদ্বুদ্ধ হয়ে তিনি তার সাম্রাজ্যের প্রতিনিধিত্ব করার জন্য প্রতীক হিসেবে ইগল বেছে নিয়েছিলেন। ফলে ফরাসি সাম্রাজ্যের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল ইগল।
চালকদের স্বর্গ
ড্রাইভিং রুট হিসেবে নেপোলিয়নের রাস্তা যে কাউকে রাজকীয় স্বাদ এনে দেবে। ফরাসি ইতিহাসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা রাস্তা এখন আরও প্রসারিত। ফলে ড্রাইভারদের জন্য স্বর্গ হয়ে উঠেছে এটি। যুক্তরাজ্যভিত্তিক অটমোটিভ ফটোগ্রাফার রিচার্ড পার্ডন। উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন যানবাহন বিশেষজ্ঞ তিনি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ‘এটি সত্যিই ফ্রান্সের সর্বশ্রেষ্ঠ ড্রাইভিং রোড। নাটকীয় বাঁক থেকে শুরু করে রাস্তার খোদাই করা খাঁজ, বনের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত বাতাসের সবই রয়েছে এখানে। একই সঙ্গে ১৮০ ডিগ্রি বাঁকানো রাস্তায় দারুণ ড্রাইভিং সুবিধা রয়েছে। ক্ষুধা পেলে রাস্তার পাশে যেকোনো গ্রামে নেমে পড়া যায়।’
২০১৫ সালে রিচার্ড পার্ডন এখানে ঘুরতে আসেন। পৃথিবীর মাধ্যাকর্ষণ ঠিকমতো কাজ করে না সেটি আবিষ্কার করে তিনি রীতিমতো ঝড় তুলে দিয়েছিলেন। এরপর থেকে ম্যাগাজিন ও বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতার হয়ে ছবি তোলার জন্য ঘন ঘন ফ্রান্স যেতে হয় তাকে। তিনি বলেন, ‘আমি এখনো পর্যন্ত এখানে পাঁচবার শ্যুটিং করেছি। কিন্তু এখনো জায়গাটি প্রথমবারের মতোই নতুন। গাড়ির অত্যাধুনিক বৈশিষ্ট্য তুলে ধরার সঙ্গে সঙ্গে দুপাশের
প্রকৃতির মনোরম দৃশ্য তুলে ধরা যায় এখানে।’ একজন আলোকচিত্রী হিসেবে রিচার্ড সব সময়ই প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যের সন্ধানে থাকেন। আলো-ছায়ার খেলা, দুপাশের প্রকৃতি মিলিয়ে তার কাছে রুট নেপোলিয়নকে আদর্শ বলে মনে হয়েছে।
মজার বিষয় হলো, জেমস বন্ডের স্রষ্টা ইয়ান ফ্লেমিং ফরাসি সম্রাটের প্রতি মুগ্ধ হয়েছিলেন। প্রায়ই তার লেখায় নেপোলিয়ন ও তার প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রিটিশ জেনারেল আর্থার ওয়েলেসলির উল্লেখ পাওয়া যায়। বেশির ভাগ বন্ডপ্রেমীরা আসলে নেপোলিয়নিক কমপ্লেক্সে ভোগে। আর কে না জানে বিশ্ব শাসন করার আকাক্সক্ষা থেকেই এই কমপ্লেক্সের উৎপত্তি।
নেপোলিয়নকে শাসক বা খলনায়ক যে হিসেবেই বিবেচিত হোক না কেন রুট নেপোলিয়ন সম্রাট ও তার সহযোগীদের আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন। ইতিহাস, সংস্কৃতি, প্রকৃতি বা আধিপত্য যেকোনো বিবেচনায় রুট নেপোলিয়ন তার গুরুত্ব ধরে রাখতে বদ্ধপরিকর।
