সেবাদাতা বিদেশি প্রতিষ্ঠান থেকে কর আদায়ের নির্দেশ

আপডেট : ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:৩৭ পিএম

বিদেশে অবস্থানরত অনিবাসী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নেওয়া সেবার বিপরীতে ১০০ ডলার বিদেশে পাঠালে সরকারকে কর দিতে হবে ২৫ ডলারের সমপরিমাণ বাংলাদেশি টাকা। এই করের টাকা সেবাদাতা বিদেশি ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয় থেকে কাটা হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের এই নির্দেশনা মেনে এখন থেকে ব্যাংকগুলোকে সেবা খাতের বিল বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে অনিবাসী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের আয় থেকে নির্ধারিত হারে কর কাটার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। গতকাল বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংকের বৈদেশিক মুদ্রা ও নীতি বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি সার্কুলার জারি করে বৈদেশিক মুদ্রায় লেনদেনে নিয়োজিত অনুমোদিত ডিলার ব্যাংকগুলোতে পাঠিয়েছে।

সার্কুলারের সঙ্গে বিদেশে অর্থ পাঠানোর ক্ষেত্রে কর কর্তনের বিষয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা সংবলিতপত্র সংযুক্ত করা হয়েছে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের পত্রে বলা হয়, অনিবাসীর কাছে ইনভয়েস মূল্য প্রেরণের ক্ষেত্রে ওই অর্থের ওপর প্রযোজ্য হারে কর কর্তন করে অবশিষ্ট অর্থ প্রেরণ করা যাবে। সম্পূর্ণ বিলমূল্য অনিবাসীর কাছে প্রেরণের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য কর বিবেচনায় নিয়ে নির্ণীত বিলমূল্যের ওপর কর কর্তন ও পরিশোধ করতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের নির্দেশনা অনুযায়ী, এই ২০ শতাংশ কর অনিবাসীর সেবাদাতার নামে কর হিসেবে জমা করতে হবে। প্রেরকের অনুকূলে জমা করা হলে কর কর্তন হয়নি বলে বিবেচিত হবে। উৎসে কর কর্তন ও জমাদানের ক্ষেত্রে কোনো প্রকার অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে তা যেকোনো সময় আদায় করা যাবে। এ ক্ষেত্রে খেলাপি অঙ্কের ওপর মাসিক ২ শতাংশ হারে সরল সুদে অতিরিক্ত অর্থ আদায়যোগ্য হবে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, এ ধরনের কর আরোপের ফলে ব্যাংকের মাধ্যমে সেবা খাতের বিল বিদেশে অবৈধ পথে পাঠানো বেড়ে যেতে পারে। কেননা, বড় বড় অনেক ধরনের সেবার বিল পরিশোধ করতে গিয়ে প্রেরকরা ২০ শতাংশ অর্থ কর হিসেবে দিতে চান না। কর এড়াতে তারা অবৈধ পথে টাকা বিদেশে পাঠান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত