শতভাগ যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:০৪ এএম

করোনা সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় গত ১৫ জানুয়ারি থেকে অর্ধেক আসন ফাঁকা রেখে যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ রেলওয়ে। তবে ২৫ দিনের মাথায় রেল ভ্রমণে এ বিধিনিষেধ শিথিল করল সরকার। গতকাল বুধবার থেকে আবারও শতভাগ যাত্রী নিয়ে ট্রেন চলাচল শুরু হয়েছে। এর সঙ্গে উধাও হয়েছে রেলস্টেশন বা ট্রেনে ন্যূনতম স্বাস্থ্যবিধি। আন্তঃনগর ট্রেনগুলোতে আসন সংখ্যা অনুসারে যাত্রী নেওয়া হলেও লোকাল ও কমিউটার ট্রেনগুলোতে যাত্রী ছিল দ্বিগুণেরও বেশি। 

গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, স্টেশনে আসা বেশিরভাগ মানুষই   মাস্ক ছাড়া ঘোরাঘুরি করছেন। কাউন্টারে দীর্ঘ লাইন। সেখানে সামাজিক দূরত্ব বলতে কিছুই নেই।

লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা মতিন হাওলাদার নামে এক যাত্রী বলেন, অনলাইনে টিকিট কীভাবে কাটতে হয় জানি না। তাই লাইনে দাঁড়িয়েছি। এ সময় তিনি তার সামনে-পেছনে কয়েকজন যাত্রী দেখিয়ে বলেন, আমি মাস্ক পরে আছি। অথচ অনেক যাত্রী মাস্ক ছাড়া লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। মাস্ক পরতে বলায় উল্টো ক্ষেপে যাচ্ছেন। তিনি বলেন, স্টেশনে যারা মনিটরিং করছে তাদের আরও বেশি কঠোর হওয়া উচিত।

টিকিট চেকার আনোয়ার হোসেন বলেন, টিকিট চেক করার সময় যাত্রীদের মাস্কও চেক করা হয়। যাদের মাস্ক নেই তাদের নতুন মাস্ক নিয়ে ভেতরে প্রবেশ করানো হয়। বেশিরভাগ যাত্রী নিয়ম মানলেও কিছু কিছু যাত্রীকে মানানো খুব কষ্ট। এরা জোর করে ভেতরে ঢুকে যায়।

প্ল্যাটফর্মে গিয়ে দেখা যায় আন্তঃনগর ট্রেনেগুলোতে স্যানিটাইজার করে যাত্রী তোলা হচ্ছে। অধিকাংশ যাত্রী সিটে বসার পর মাস্ক খুলে রাখছেন। তবে কমিউটার ট্রেনে ভিন্ন চিত্র দেখা যায়। এসব ট্রেনে যাত্রীদের স্যানিটাইজার হচ্ছে না। স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে গাদাগাদি করে যাত্রী উঠেছেন ট্রেনে। অধিকাংশ যাত্রীকে মাস্ক পরতেও দেখা যায়নি।

কমলাপুর রেলস্টেশনের স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, শতভাগ যাত্রী নিয়ে পরিবহন চলছে। একই সঙ্গে ট্রেনের সব আসনের টিকিট বিক্রি করা হচ্ছে। যেসব ট্রেন চলছে, সেগুলোর টিকিটও অনলাইন ও কাউন্টারে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

তিনি বলেন, আমরা যাত্রীদের সচেতন করছি এবং মাস্ক পরা নিশ্চিত করার চেষ্টা করছি। সে ক্ষেত্রে ট্রেনে ভ্রমণের ক্ষেত্রে যাত্রীদেরও স্বাস্থ্যবিধি মানার বিষয়ে সচেতন হতে হবে।

এর আগে এক প্রজ্ঞাপনে রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ জানায়, আন্তঃনগর ট্রেনের স্থায়ী টিকিট ও স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম টিকিট সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। স্বাস্থ্যবিধি মেনে অর্ধেক টিকিট কাউন্টারে ও বাকি অর্ধেক অনলাইন বা অ্যাপে বিক্রি করা হবে। আন্তঃনগর ট্রেনে খাবার পরিবেশন ও রাতে বেডিং সরবরাহ করা হবে কঠোরভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে।

এ বছরের শুরুতে দেশে ওমিক্রন ধরনের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় সব ধরনের সামাজিক, রাজনৈতিক, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও সভা-সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা দেয় সরকার। এ পরিস্থিতিতে আন্তঃনগর ট্রেনে অর্ধেক যাত্রী নিয়ে চলাচল শুরু হয়। সংক্রমণ কমে আসায় এ বিধিনিষেধ শিথিল করার ঘোষণা দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত