দূতাবাসগুলো আ.লীগের প্রচার প্রতিষ্ঠান : ফখরুল

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১২:৩০ এএম

আওয়ামী লীগ দেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দেশের দূতাবাসগুলোকে তাদের প্রচার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘নির্লজ্জ ও অপেশাদার উপায়ে সেই প্রতিষ্ঠানকেও দলীয়করণ করে জনগণের স্বার্থবিরোধী কাজে লাগানো হচ্ছে। মিথ্যাচার এবং প্রতারণা করার কাজে লাগানো হচ্ছে।’

গতকাল বুধবার রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২০০৯ সাল থেকে বর্তমান ক্ষমতাসীন ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে ভিন্নমত দমন করার কাজে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। গুম, খুন, ক্রসফায়ারের নামে হত্যা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা- রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে ব্যবহারের মাধ্যমে রাষ্ট্রকে জনগণের বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয়েছে। ফলশ্রুতিতে লজ্জাজনকভাবে আমাদের রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে এবং তার কর্মকর্তাদের মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় পড়তে হয়েছে, যা জাতির জন্য অত্যন্ত কলঙ্কজনক।’

তিনি বলেন, ‘গত ৩১ জানুয়ারি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসনাল কমিটির চেয়ার গ্রেগরি ডব্লিউ মিকস নিউ ইয়র্কের কুইন্স এলাকায় তহবিল সংগ্রহের একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাসের পক্ষ থেকে কংগ্রেসম্যানের বক্তব্য নিজেদের মতো করে ব্যাখ্যা দিয়ে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রচার করে। এ নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হলে পরে ৪ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ দূতাবাসের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিকে নাকচ করে, আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম, তার নিজস্ব ওয়েবসাইট এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ফরেন অ্যাফেয়ার্স কমিটির ওয়েবসাইটে তার বক্তব্য তুলে ধরেন। পরে আমেরিকার দূতাবাস তাদের ওয়েবসাইট থেকে আগের বক্তব্য তুলে নেয়। গত ৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ দূতাবাসের ওয়েবসাইট ভিজিট করে দেখা গেছে, গত ৩১ জানুয়ারি কংগ্রেসম্যান মিকসের সংশ্লিষ্ট সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি তুলে নেওয়া হলেও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ওয়েবসাইটে প্রেস রিলিজটি এখনো যথারীতি বহাল রয়েছে। যা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে দলীয়করণ করার নির্লজ্জ প্রমাণের ডিজিটাল ডকুমেন্ট।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রে আমাদের দূতাবাসের মতো বেলজিয়ামের অনুষ্ঠিত একটি বেসরকারি সংবাদ সম্মেলনের সূত্র ধরে সেখানে অবস্থিত দূতাবাসের পক্ষ থেকে একটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছিল। যেখানে সুস্পষ্টভাবে আওয়ামী লীগের একজন সক্রিয় কর্মীর মতো বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। যা দূতাবাসকে রাষ্ট্রের বদলে আওয়ামী লীগের প্রচার প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার প্রমাণ।’

তিনি আরও বলেন, ‘স্বাধীনতার পর জাতীয় সংসদে আইন পাস করে বাকশাল করেছিল। এবার ক্ষমতায় আসার পর থেকে জাতীয় সংসদ, স্থানীয় সরকার কাঠামো, আমলাতন্ত্র, ফরেন সার্ভিস ক্যাডার থেকে শুরু করে সমস্ত ক্যাডার সার্ভিস, বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় বাহিনী, বিচারিক কাঠামো, নির্বাচন কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, মানবাধিকার কমিশন ও আইন সংস্কার কমিশনসহ সব প্রতিষ্ঠানকেই তারা শুধু অবৈধ ক্ষমতা প্রলম্বিত করার কাজে লাগিয়ে চলছে।’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, চেয়ারপারসনের মিডিয়া উইংয়ের কর্মকর্তা শামসুদ্দিন দিদার ও শায়রুল কবির খান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত