পুলিশের ধাওয়ায় চাঁদের গাড়িতে পিষ্ট দুই স্কুলছাত্রী

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:৪৯ এএম

চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ট্রাফিক পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় ধানবোঝাই একটি চাঁদের গাড়ির চাপায় দুই স্কুলছাত্রী নিহত হয়েছে। নিহত মিশু আকতার ও নিশা মণি উপজেলার পাইন্দং ইউনিয়নের হাইদচকিয়া উচ্চবিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গতকাল বুধবার বেলা ১টার দিকে উপজেলার চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়কের পাইন্দং ইউনিয়নের পেলাগাজী মোড়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকাকালে গাড়িটি তাদের চাপা দেয়। ঘটনার পরে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক এক ঘণ্টা অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন স্থানীয়রা। দুই পুলিশ সদস্যকে মারধরসহ চাঁদের গাড়ির পিছু নেওয়া ট্রাফিক সার্জেন্টের মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা। এ সময় শত শত গাড়ি আটকা পড়ে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা।

ফটিকছড়িতে নিহত দুই স্কুলছাত্রীর মধ্যে মিশু আকতার পাইন্দং ইউনিয়নের আবুল বশরের মেয়ে এবং নিহত নিশা মণি একই ইউনিয়নের মো. লোকমানের মেয়ে।

হাইওয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তিনজন ট্রাফিক পুলিশ পাইন্দং ইউনিয়নের পেলাগাজীর দিঘির পাশে তল্লাশি শুরু করে। এ সময় ধান বহনকারী একটি চাঁদের গাড়িকে ট্রাফিক পুলিশ থামার জন্য সংকেত দিলে চালক গাড়ি নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। গাড়িটি ধরতে ট্রাফিক পুলিশের টিআই নিখিল চাকমা ও সার্জেন্ট মুহাম্মদ আলামিন পিছু নেন। এতে চাঁদের গাড়িটির চালক দ্রুতগতিতে পালানোর চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে স্থানীয় পাইন্দং ইউনিয়নের পেলাগাজী মোড়ে সড়কের পাশে গাড়ির জন্য অপেক্ষায় থাকা দুই স্কুলছাত্রীকে চাপা দেয় চাঁদের গাড়িটি। তখন ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়। এ সময় গাড়িটিও উল্টে গিয়ে দুমড়েমুচড়ে যায়। তখন স্থানীয় লোকজন জড়ো হতে থাকে। স্কুলছাত্রীর প্রাণহানি দেখে তা বিক্ষোভে রূপ নেয়।

স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় পেলাগাজী মোড়ে গাড়িচাপায় দুই স্কুলছাত্রীর মর্মান্তিক মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসী বিক্ষোভ করতে থাকেন। বিক্ষোভের কারণে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি মহাসড়ক অবরুদ্ধ  হয়ে পড়ে। এতে শত শত গাড়ি মহাসড়কে আটকা পড়ে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। এতে দুর্ভোগে পড়েন যাত্রীরা। ঘটনাস্থলে যাওয়া ট্রাফিক সার্জেন্টের মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেন বিক্ষুব্ধরা। এ ছাড়া দুই পুলিশ সদস্যকেও মারধর করেন বিক্ষুব্ধরা।

এ প্রসঙ্গে ফটিকছড়ি থানার ওসি মুহাম্মদ রবিউল হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, স্কুলছাত্রী নিহতের ঘটনায় বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ট্রাফিক পুলিশের একটি মোটরসাইকেল আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এ সময় নিখিল জীবন চাকমা নামে ট্রাফিকের এক টিআইকে তারা মারধর করেন। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে যান চলাচল স্বাভাবিক করে।

এদিকে স্থানীয় ও চালকদের অভিযোগ, ট্রাফিক পুলিশ তল্লাশিচৌকির নামে প্রতিনিয়ত গাড়ি আটকে রেখে প্রতি গাড়ি থেকে ২০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত ‘অবৈধভাবে’ আদায় করেন। চাহিদামতো টাকা না দিলে মামলা দিয়ে ট্রাফিক পুলিশ হয়রানি করেন। চালকদের ভাষ্য, চাঁদের গাড়িটি চাঁদা না দিয়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় দুর্ঘটনাটি ঘটে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের হাটহাজারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) মুহাম্মদ শাহাদাত হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘গাড়িচাপায় দুই স্কুলছাত্রীর মৃত্যুর ঘটনা উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। চাঁদের গাড়ির চালককে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে। গাড়িটি থানায় আনা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের দাবি আমলে নিয়ে পুলিশের কোনো গাফিলতি আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত