ভারতের কর্ণাটকের প্রি-ইউনিভার্সিটি কলেজের শিক্ষার্থী মুসকানের হিজাব পরা নিয়ে সাম্প্রতিক এক ঘটনায় উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের রাজনীতি। হিজাব বিতর্ক নিয়ে ভারতের রাজনীতিক প্রিয়াঙ্কা গান্ধীসহ দেশের বাইরে নোবেলজয়ী মালালার মতো ব্যক্তিত্বকেও কথা বলতে দেখা যাচ্ছে।
কর্ণাটকে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরার বিষয়ে বিধিনিষেধের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার দিল্লি বিশ^বিদ্যালয়ের নর্থ ক্যাম্পাসে বিক্ষোভের আয়োজন করে দ্য মুসলিম স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি ছাত্রসংগঠন। বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের সামনে আয়োজিত ওই বিক্ষোভে বহু শিক্ষার্থী অংশ নেন। এর মধ্যে অনেক মেয়ে শিক্ষার্থীও ছিলেন এবং হিজাব পরেই তারা সেখানে বিক্ষোভ করেন।
কর্ণাটকের আন্দোলনকারীদের সমর্থনে তারা বিভিন্ন ব্যানার বহন করেন। ব্যানারে লেখা ছিল, ‘আমরা, মোহাম্মদ (সা.)-এর অনুসারী। আমরা ঘৃণার বিরুদ্ধে লড়াই করব’ এবং ‘কর্ণাটকের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করছি।’ কর্ণাটকের স্কুল-কলেজে মুসলিম ছাত্রীদের হিজাব পরা নিয়ে শুরু হওয়া বিতর্ক চরম আকার ধারণ করেছে। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তিন দিনের জন্য সব স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করলেও গত মঙ্গলবার সেখানকার একটি কলেজে হিন্দু-মুসলিম শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ হয়েছে।
ক্যামেরায় ধরা পড়া শিক্ষার্থীদের মুখোমুখি অবস্থানের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়ে ছড়িয়েছে। এই ভিডিওতে দেখা যায়, কর্ণাটকের একটি কলেজ চত্বরে হিজাব পরা এক ছাত্রী হাঁটছেন। এ সময় গেরুয়া ওড়না পরা একদল তরুণ তাকে ঘিরে হিজাববিরোধী সেøাগান দেন এবং হেনস্তা করেন।
শত শত তরুণের সামনে একাই প্রতিবাদ জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রশংসায় ভাসছে কর্ণাটকের মুসকান নামের ওই মুসলিম ছাত্রী। আর এ ঘটনা ঘটেছে কর্ণাটকের মান্দিয়া প্রাক-বিশ^বিদ্যালয় কলেজে। মুসকান বলেন, ‘আমি যখন কলেজে ঢুকছিলাম, তখন বাধা দেওয়া হয়। জিজ্ঞেস করা হয়, আমি কেন বোরকা পরে এসেছি? কিন্তু আমি এসব নিয়ে মোটেও চিন্তিত নই।’
