বিএনপি নির্বাচনের অর্থ বোঝে না, ভোট চুরি জানে : প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:৫২ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি নির্বাচনের অর্থ বোঝে না। তারা জনগণের ভোটের অধিকার স্বীকার না করলেও ভোট চুরি করতে জানে। গতকাল বুধবার নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের (নাসিক) নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী ও কাউন্সিলরদের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হয়ে নবনির্বাচিত মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভীকে শপথবাক্য পাঠ করান। নাসিক নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের কাছে যে ওয়াদা দিয়ে ভোট নিয়েছেন, তা কখনো ভুলবেন না। মানুষের কল্যাণে কাজ করবেন। জনগণ কখনো ভুল করে না, এটা হলো বাস্তবতা।

সরকারপ্রধান বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের মাধ্যমে নারায়ণগঞ্জের জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করতে পারায় এটিই প্রতীয়মান হয়েছে, জনগণ কখনো ভুল করে না।

নারায়ণগঞ্জে অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, ‘এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মানুষ তার ভোটাধিকার প্রয়োগ করে পছন্দের প্রার্থীদের নির্বাচিত করেছে।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের, বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের সব মানুষকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, ‘নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন নির্বাচনের মাধ্যমে একটা বিরাট দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো।’

জিয়াউর রহমান থেকে খালেদা জিয়া বিএনপির সময়ের বিভিন্ন নির্বাচন নামের প্রহসনের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বিএনপি নির্বাচনের অর্থ বোঝে না। জনগণের ভোটের অধিকার স্বীকার না করলেও তারা ভোট চুরি করতে জানে।’

শেখ হাসিনা বলেন, অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীর হাতেই বিএনপির সৃষ্টি। জনগণের কাছে ভোট চাইতে যাওয়ার কোনো অভ্যাসই তাদের ছিল না; বরং কেড়ে নেওয়া, চুরি করে নেওয়াই তাদের অভ্যাস ছিল। তারা গণতন্ত্রের অর্থও বোঝে না, সে শিক্ষাই তাদের নেই।

বিএনপির প্রশ্নবিদ্ধ শীর্ষ নেতৃত্ব নিয়ে জনগণের কাছে তারা কীভাবে ভোট চাইতে যাবেসে প্রশ্ন উত্থাপন করে প্রধানমন্ত্রী বিএনপির নানা অপপ্রচারের কঠোর সমালোচনা করেন। তিনি বলেন, বিএনপি বোঝে সন্ত্রাস, দুর্নীতি, জঙ্গিবাদ আর বাংলা ভাই সৃষ্টি, মানুষ হত্যা আর নির্যাতন, মানুষের ঘর-বাড়ি এবং ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল। আর সে সুযোগ পাচ্ছে না বলেই তাদের খুব আক্ষেপ।

নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের নিজের ভোগ-বিলাসের কথা না ভেবে জনগণের প্রতি দায়বদ্ধ থেকে কাজ করারও নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। আর বিএনপি আয়নায় নিজেদের চেহারা দেখে না বলেই সব সময় অপপ্রচার চালায় বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

কাউন্সিলরদের শপথবাক্য পাঠ করান স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মো. তাজুল ইসলাম।

‘বিএনপির নেতৃত্ব বলে কিছু নেই’ উল্লেখ করে সরকারপ্রধান খালেদা জিয়া ও তার বড় ছেলে তারেক রহমান প্রসঙ্গে বলেন, ‘একজন এতিমের অর্থ আত্মসাৎ করে জেলে বন্দি। যদিও তাকে দয়া করে ঘরে থাকতে দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়া হয়েছে। অন্যজন ১০ ট্রাক অস্ত্র চোরাকারবারি, ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা এবং দুর্নীতির মামলার সাজাপ্রাপ্ত ফিউজিটিভ। আমেরিকার এফবিআইয়ের তদন্তে যার দুর্নীতি প্রমাণিত এবং সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের কাছে আর রাজনীতি না করার মুচলেকা দিয়ে যে দেশ ছেড়ে চলে গিয়েছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিদেশ থেকে একজন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি যে দলের চেয়ারপারসন হয়, জনগণ কেন তাকে ভোট দেবে। আর তারা জনগণের ভোটাধিকারে বিশ^াসও করে না, এটা হলো বাস্তবতা।’

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর দেশের মানুষের ভোটাধিকার ক্ষমতা ছিল না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমানের ’৭৭ সালের হ্যাঁ-না ভোট, ’৭৮ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, ’৭৯ সালের সংসদ নির্বাচন এবং ’৮১ সালের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসবই ছিল প্রহসন।’

একই ধারা বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া অব্যাহত রেখে ১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি ভোটারবিহীন নির্বাচন আয়োজন করে দ্বিতীয়বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হলেও ৩০ মার্চ গণ-আন্দোলনের মুখে পদত্যাগে বাধ্য হন।

শেখ হাসিনা নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের উদ্দেশে বলেন, ‘জনগণ তাদের ওপর যে আস্থা ও বিশ^াস নিয়ে ভোট দিয়েছে, তার মূল্যায়ন করতে হবে। আর উন্নয়নের গতিধারাটা অব্যাহত রাখতে হবে। মানুষ কিন্তু খুব সচেতন। কাজেই সেটা মাথায় রেখেই আপনারা আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করবেন।’

তিনি বলেন, ‘জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে একটানা ১৩ বছর রাষ্ট্রক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থাকার সুযোগ পাওয়াতেই দেশকে আজ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নিয়ে যেতে সমর্থ হয়েছি। করোনার মধ্যেও জিডিপি ৬ দশমিক ৯৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে এবং মাথাপিছু আয় বেড়েছে।’

ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি পরিকল্পিতভাবে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রযুক্তি, অবকাঠামোসহ বিভিন্ন খাতে দেশের উন্নয়নের খণ্ডচিত্রও বক্তব্যে তুলে আনেন প্রধানমন্ত্রী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত