পানির দাম ২০% বাড়ানোর প্রস্তাব, মন্ত্রণালয়ের সায়

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:৫৪ এএম

উৎপাদন ব্যয় ও বিক্রয়মূল্যের মধ্যে ব্যবধান কমিয়ে আনতে পানির দাম ২০ শতাংশ বাড়াতে চায় ঢাকা ওয়াসা। গতকাল বুধবার ওয়াসা ভবনে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় সংস্থাটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলী তাকসিম এ খান জানান, তারা ইতিমধ্যে দাম বাড়ানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছেন। গত সোমবার ওয়াসার বোর্ডসভায় পানির দাম ৩৮ শতাংশ বাড়ানোর প্রস্তাব রাখা হয়। মূলত সে বিষয় নিয়েই গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন তিনি। এদিকে স্থানীয় সরকার বিভাগও জানিয়েছে, মন্ত্রণালয়ে পানির দাম বাড়ানোর প্রস্তাব এলে তা পাস হবে।

গতকাল প্রকৌশলী তাকসিম এ খান বলেন, ‘ঢাকা ওয়াসা পানির দাম বর্তমান মূল্যের চেয়ে কমপক্ষে ২০ শতাংশ বাড়াতে চায়। এ দাম বাড়ানো হলে উৎপাদন ব্যয়ের সঙ্গে বাজারমূল্যের সমন্বয় হবে। সরকার পানিতে ভর্তুকি দিচ্ছে। সেটা কতটা কমানো যায়, সেজন্য ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

তিনি জানান, বর্তমানে প্রতি ১ হাজার লিটার পানিতে উৎপাদন খরচ হয় ২৫ টাকা আর তা বিক্রি হয় ১৫ টাকা। এখানে ভর্তুকি দিতে হচ্ছে ১০ টাকা।

ওয়াসার এমডি বলেন, ‘মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পানির দাম প্রতি বছর কমপক্ষে ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়, ভবিষ্যতেও হবে। ওয়াসা বর্তমানে বিদেশি ঋণে বেশ কিছু প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে। এসব ঋণের কিস্তি পরিশোধে ওয়াসাকে এখন বেশি টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে।’

ওয়াসা সূত্রে জানা গেছে, আগামী ১ জুলাই থেকে পানির নতুন দাম কার্যকর করতে চায় ঢাকা ওয়াসা। করোনা মহামারীর মধ্যে গত দুই বছরে দুবার আবাসিক ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে পানির দাম বাড়িয়েছে সংস্থাটি। বর্তমানে আবাসিক গ্রাহকদের ক্ষেত্রে প্রতি ১ হাজার লিটার পানির দাম ১৫ টাকা ১৮ পয়সা। ওয়াসার প্রস্তাব অনুযায়ী আবাসিকে এ দর ২১ টাকা ২৫ পয়সা করার কথা বলা হয়েছে। আর বাণিজ্যিক সংযোগের ক্ষেত্রে প্রতি ১ হাজার লিটার পানির দাম বর্তমানে ৪২ টাকা; যা প্রস্তাব অনুযায়ী ৫৮ দশমিক ৮ টাকা হবে।

এর আগে দেশে করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব শুরু হওয়ার পর প্রথম দফায় পানির দাম বাড়ানো হয় ২০২০ সালের এপ্রিলে। সর্বশেষ ২০২১ সালের সেপ্টেম্বরে তা আরেক দফায় আবাসিকে প্রতি ১ হাজার লিটার পানির দাম ৩ টাকা ৬১ পয়সা বাড়ানো হয়; যা বৃদ্ধির দিক দিয়ে ৩১ শতাংশ। আর বাণিজ্যিকে ৪ টাকা ৯৬ পয়সা বাড়ানো হয়; যা বৃদ্ধির দিক দিয়ে ১৩ শতাংশ।

এদিকে ঢাকার পাশাপাশি রাজশাহী ওয়াসাও দফায় দফায় পানির দাম বাড়িয়েছে। গত ১ ফেব্রুয়ারি থেকে এ পানির দাম বাড়ানো হয়েছে। সম্প্রতি জারি করা রাজশাহী ওয়াসার বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ১ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতি ১ হাজার লিটার পানির দাম আবাসিকে ৬ দশমিক ৮১ এবং বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে ১৩ দশমিক ৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে পাইপের ব্যাস ও ভবনের তলার ভিত্তিতেও নতুন দাম নির্ধারণের তালিকাও প্রকাশ করে সংস্থাটি। সেখানে এক লাফে পানির দাম তিনগুণ বৃদ্ধির প্রতিবাদও জানিয়েছে বিভিন্ন সংগঠন।

পানির দাম বৃদ্ধি বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. হেলালুদ্দীন আহমদ গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পানির উৎপাদন খরচের সঙ্গে মিলিয়ে দাম নির্ধারণ করা দরকার। যেহেতু ওয়াসার তাদের নিজস্ব আয় দিয়ে চলতে হয়; তাই তারা লোকসান দেবে না। আর পানির দাম না বাড়ালে সংস্থাগুলো কখনোই ভঙ্গুর অবস্থা থেকে বের হয়ে আসতে পারবে না। তাই পানির দাম বাড়ানোর বিষয়ে মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব এলে তা পাস হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত