যুক্তরাষ্ট্রে মোমেনকে ব্লিংকেনের আমন্ত্রণ ৪ এপ্রিল বৈঠক

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:৫৪ এএম

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০তম বর্ষপূর্তি উপলক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনকে দেশটিতে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি জে ব্লিংকেন।

এ প্রসঙ্গে গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় ড. মোমেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই আমন্ত্রণ সম্পর্কে আমি সকালেই জানতে পেরেছি।’ যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর ওয়াশিংটনের বাংলাদেশ মিশনের মাধ্যমে এক বার্তায় এ আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে বলে মন্ত্রী জানান।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ব্লিংকেন গত ডিসেম্বরের ফোনালাপে বলেছিলেন, এ বছরের বসন্তে ওয়াশিংটন ডিসিতে তিনি আমার সঙ্গে সরাসরি বৈঠকে মিলিত হতে চান।’

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেনের সুবিধাসম্মত সম্মতি সাপেক্ষে আগামী ৪ এপিল ওয়াশিংটন ডিসিতে ব্লিংকেন তার অফিসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে বসতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, গত ডিসেম্বরে ‘মানবাধিকার লঙ্ঘনের’ অভিযোগে বাংলাদেশের এলিট ফোর্স র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) কয়েকজন বর্তমান ও সাবেক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক নিষেধাজ্ঞা নিয়ে দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্ক নিয়ে কূটনৈতিক ও গণমাধ্যমে তোলপাড় চলছে। এই পরিস্থিতিতে ৫০ বছরপূর্তির এ আমন্ত্রণ ইতিবাচক।      

এ প্রসঙ্গে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন বলেন, ‘মার্কিন নিষেধাজ্ঞাসহ দ্বিপক্ষীয় ইস্যুতে আলোচনা অবশ্যই হবে।’

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার পর থেকেই এ ইস্যুতে দেশটির সঙ্গে নানাভাবে আলোচনা চলছে। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে র‌্যাবের অভিযান সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করে ব্লিংকেনকে গত মাসেই একটি চিঠি পাঠিয়েছেন মোমেন। কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে ৭৩ জন মার্কিন সিনেটর ও কংগ্রেস সদস্যের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যারা পররাষ্ট্রবিষয়ক র‌্যাব ইস্যুর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন কংগ্রেস কমিটির সদস্য।

জটিল বৈশি্বক রাজনীতির মধ্যে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৯ মাসের মুক্তিযুদ্ধের পর নতুন স্বাধীন দেশের অভ্যুদয় ঘটলে, ১৯৭২ সালের ৪ এপ্রিল তৎকালীন যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলেন, ওয়াশিংটনে বাংলাদেশ দূতাবাস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বাংলাদেশ দূতাবাসে যৌথভাবে ঐতিহাসিক দিনটি উদযাপন করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এতে ব্লিংকেনও অংশগ্রহণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। তারা আরও বলেন, এই বার্ষিকী উদযাপনের সঙ্গে একগুচ্ছ আয়োজনেরও উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। মার্কিন কর্মকর্তারা এর আগে বলেছিলেন, ওয়াশিংটন আগামী ৫০ বছরে অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে বলে আশা করছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত