ঈশ্বরগঞ্জে নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় একজন নিহত

আপডেট : ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:০৬ এএম

ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে সপ্তম দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন-পরবর্তী সহিংসতায় এক যুবক নিহত হয়েছে। তার নাম পাভেল মিয়া (২০)। গতকাল বুধবার দুপুর ১টার দিকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পাভেল উপজেলার বড়হিত ইউনিয়নে রঘুনাথপুর গ্রামের নুরুল আমীনের ছেলে। সাত দফা নির্বাচনে সহিংসতায় এই নিয়ে সারা দেশে ১০২ জনের নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেল। 

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, সপ্তম দফা ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের পরের দিন গত মঙ্গলবার সকালে বড়হিত ইউনিয়নে রঘুনাথপুর গ্রামে বিজয়ী মেম্বার মোহাম্মদ আলীর সমর্থক ও পরাজিত বাচ্চু মেম্বারের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে পাভেলসহ ৫ জন আহত হয়। এর মধ্যে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পাভেল মিয়াকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।

ঈশ্বরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আব্দুল কাদের জানান, এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলেই আছে। এই ঘটনায় এখনো মামলা হয়নি। তবে ঘটনায় জড়িতদের আটকের তৎপরতা চলছে। নিহতের লাশ ময়না তদন্তের প্রস্তুতি চলছে।

কালিয়াকৈরে মেম্বার প্রার্থীর সমর্থকের ওপর হামলা-লুট : গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ইউপি সদস্য প্রার্থী দুলালের সমর্থকরা প্রতিপক্ষ প্রার্থী শহিদুল ইসলাম ছোটনের সমর্থকের ওপর হামলা চালিয়ে লুটপাট করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল বুধবার দুপুরে এ ঘটনা ঘটে। আজ বৃহস্পতিবার এই ইউনিয়নে ভোটগ্রহণের কথা রয়েছে।

শহিদুল ইসলাম ছোটনের সমর্থকদের অভিযোগ, গতকাল বুধবার দুপুরে ওই ওয়ার্ডের মেম্বার প্রার্থী দুলাল হোসেন ও অপর প্রার্থী উজ্জ্বল হোসেনের সমর্থক মিছির হোসেন, রাসেল, জাহাঙ্গীরসহ ৭-৮ জন প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী শহিদুল ইসলাম ছোটনের সমর্থক শাহিন হোসেনের ওপর হামলা করে। এ সময় তার কাছ থেকে ২৬ হাজার ৫০০ টাকা লুট হয়। তার চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে তাকে নানা ধরনের হুমকি দিয়ে চলে যায় হামলাকারীরা।

মেম্বার প্রার্থী দুলাল হোসেন বলেন, ‘আমার সমর্থকরা শাহিনের ওপর হামলা, মারধর ও লুট করেনি। অপর অভিযুক্ত মেম্বার প্রার্থী উজ্জ্বল হোসেন জানান, ওই হামলার ঘটনায় আমার সমর্থকরা ছিল না।’ 

উপজেলা নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং কর্মকর্তা এএম শামসুজ্জামান জানান, ওই ঘটনায় কেউ লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি। তবে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দিতে ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

মাগুরায় ইউনিয়ন আ.লীগ সভাপতির ঘরসহ ৩০ বাড়িঘর ভাঙচুর : মাগুরার শ্রীপুরে ইউপি নির্বাচনপরবর্তী সহিংসতায় গতকাল বুধবার দুপুরে জাহাঙ্গীর হোসেন (৪০) নামে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করেছে প্রতিপক্ষরা। এ ঘটনায় শ্রীপুর সদর ইউনিয়ন সাহেবপাড়া গ্রামে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি বদিয়ার ম-লের বাড়িসহ ৩০টি বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে।

বদিয়ার অভিযোগ করেন, নির্বাচনে জয়-পরাজয়ের ঘটনা নিয়ে মন্নু ম-লের সমর্থকরা ইতিপূর্বে তার কয়েকজন সমর্থককে মারধর করেছে। পাশাপাশি বুধবার দুপুরে তার অন্তত ৩০ সমর্থকের বাড়িঘরে হামলা-ভাঙচুর চালিয়েছে মন্নু ম-লের সমর্থকরা। শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমানের মদদপুষ্ট হয়ে মন্নু ম-ল তাদের বাড়িঘরে হামলা চালিয়েছে। তবে চেয়ারম্যান মশিয়ার রহমান এ অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘আমি কাউকে মদদ দেইনি। এটা অন্য এলাকার ঘটনা। আমার কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই।’

মন্নু মন্ডল জানান, কোনো কারণ ছাড়াই গতকাল দুপুরে বদিয়ার মন্ডলের লোকজন জাহাঙ্গীর হোসেন নামে তাদের এক সমর্থককে কুপিয়ে জখম করে। তাকে মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

মাগুরার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কামরুল হাসান জানান, ভাঙচুরের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত