বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় কর্মী পাঠাতে একটি চক্র আগের মতোই অপতৎপরতা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে জনশক্তি রপ্তানিকারকদের শীর্ষ সংগঠন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্টারন্যাশনাল রিক্রুটিং এজেন্সির (বায়রা) একাংশ।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার রিক্রুটিং এজেন্সির সংগঠনের নেতারা সশরীরে ও ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন।
বায়রার সাবেক সভাপতি নূর আলী বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রীর দিকনির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারকে কেন্দ্র করে একটি স্বার্থান্বেষী মহল আগের মতোই দেশটির শ্রমবাজার নিয়ন্ত্রণের অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। এ অপতৎপরতার অংশ হিসেবে মালয়েশিয়া থেকে আমিনুর ও বাংলাদেশ থেকে রুহুল আমিনের নেতৃত্বাধীন ২৫ সদস্যের সিন্ডিকেট এরই মধ্যে তাদের স্বার্থ হাসিল করতে সরকার অনুমোদিত ২৫০টি বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সিকে সাব-এজেন্ট হিসেবে উল্লেখ করে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছে। একই মর্যাদার রিক্রুটিং লাইসেন্সকে তারা সহযোগী বা সাব-এজেন্ট হিসেবে প্রচার করছে; যাতে করে কর্র্তৃপক্ষকে বাগে আনতে তাদের জন্য অনেকটা সহজ হয়।’
বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো একই প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ থেকেও মালয়েশিয়ায় কর্মী নিয়োগের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এর আগেও অনিয়ম, দুর্নীতি ও অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়ের কারণে মাত্র দেড় বছরের মাথায় মাহাথির মোহাম্মদের নেতৃত্বে গঠিত মালয়েশিয়ান সরকার বাংলাদেশ থেকে কর্মী নেওয়া বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর গত ১৯ ডিসেম্বর বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে পুনরায় বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় জনশক্তি রপ্তানির সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে।’
নূর আলী আরও বলেন, ‘প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ বারবার আশ্বস্ত করেছেন যে তিনি কোনো ধরনের সিন্ডিকেটকে প্রশ্রয় দেবেন না। সিন্ডিকেটের সম্ভাব্য সদস্যরা তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে সফল হলে বিদেশগামী কর্মী ও বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মালিকরা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন। সীমিত সংখ্যক রিক্রুটিং এজেন্সি কাজ করলে কর্মী পাঠানোর গতি যেমন কমে যাবে, অধিকন্তু সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও শত শত রিক্রুটিং এজেন্সি তাদের ব্যবসার ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে।’
বায়রার সাবেক মহাসচিব আলী হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘কর্মীরা যাতে স্বল্প খরচে স্বচ্ছতার সঙ্গে যেতে পারেন এজন্য সব রিক্রুটিং এজেন্সির সুযোগ থাকতে হবে। অথচ সিন্ডিকেটের সদস্যরা অন্যান্য রিক্রুটিং এজেন্সিকে এ, বি, সি ক্যাটাগরি হিসেবে তুলে ধরে তাদের অসৎ উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। সরকার রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স দিয়েছে। এখানে সবার মর্যাদাই সমান। কেউ কোনো ক্যাটাগরির মধ্যে পড়ে না।’
