সাবেক স্বামীর ছোড়া এসিডে ঝলসে যাওয়া পোশাককর্মী সাথী আক্তার (১৯) মারা গেছেন। গত বুধবার মধ্যরাতে রাজধানীর শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ঘটনার ১২ দিন পর তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছেন বড় ভাই সোহেল হোসেন।
পুনরায় বিয়ে করতে রাজি না হওয়ায় এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি মধ্যরাতে সাবেক স্বামী মো. নাঈম (৩০) এসিড ছুড়ে ঝলছে দেয় সাথীর হাত-মুখ।
স্বজনরা জানান, মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার ধানকোড়া ইউনিয়নের ফেরাজীপাড়া-কাটাখালী এলাকার নিজ বাড়িতে মা ও ছোট বোনকে সঙ্গে নিয়ে ঘুমিয়েছিলেন পোশাককর্মী সাথী আক্তার। মধ্যরাতে সাবেক স্বামী একই জেলার বেতুলিয়া গ্রামের নিজামুদ্দিনের ছেলে নাঈম ভাঙা জানালা দিয়ে এসিড ছোড়েন। এতে সাথীর হাত ও মুখসহ শরীরের বিভিন্ন জায়গা ঝলসে যায়। এ ছাড়া তার ছোট বোন ইতি আক্তার (৮) ও মা মোছাঃ জুলেখা বেগমেরও শরীরের বিভিন্ন জায়গা ঝলসে যায়। পরে পরিবারের লোকজনের চিৎকার-চেঁচামেচিতে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে সাথীকে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। সেখানে অবস্থার অবনতি হলে শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হাসপাতালে পাঠানো হয় তাকে। এখানে ১২ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর মৃত্যু হয় সাথীর।
মারা যাওয়া সাথীর বিষয়ে জানতে চাইলে মানিকগঞ্জ সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক কাজী একেএম রাসেল বলেন, ‘দাহ্য পদার্থে সাথীর হাত-মুখ ঝলসে যায়। তাকে প্রথমে আমাদের হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।’
এদিকে সাথীর ওপর এসিড নিক্ষেপের ঘটনায় মামলা হওয়ার পর আসামি নাঈমকে গ্রেপ্তার করে র্যাব-৪ এর একটি দল। গত ২ ফেব্রুয়ারি র্যাব-৪ এর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি জানানো হয়। এতে বলা হয়, গ্রেপ্তার নাঈমকে জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার বিবরণে জানা যায় যে, আড়াই বছর আগে নাঈমের সঙ্গে সাথীর বিয়ে হয়। বিয়ের পর সাথী বুঝতে পারে যে নাঈম প্রতারণাসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজে জড়িত। তখন থেকেই নাঈমের অনৈতিক কর্মকাণ্ডে বাধা দিতে থাকে সাথী। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাথীর সঙ্গে দুর্ব্যবহারের পাশাপাশি তাকে বিভিন্ন সময়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে নাঈম। একপর্যায়ে ভরণপোষণ বন্ধ করে দিলে বাবার বাড়িতে আশ্রয় নেন সাথী। পরে উভয়পক্ষের মুরুব্বিদের উপস্থিতিতে একাধিকবার সালিশের মাধ্যমে মীমাংসা করে দেওয়া হলে ফের সংসার শুরু করে সাথী। কিন্তু নাঈম মুরুব্বিদের দেওয়া শর্ত না মেনে সাথীর সঙ্গে আগের মতো একইরকম আচরণ করতে থাকে। ফলে একপর্যায়ে বাধ্য হয়ে গত ১০ সেপ্টেম্বর নাঈমকে তালাক নোটিস পাঠান সাথী। ওই নোটিস পাওয়ার পরপরই নাঈম ক্ষিপ্ত হয়ে সাথীকে হত্যার ভয় দেখানোসহ বিভিন্ন হুমকি দিতে থাকে। একপর্যায়ে গত ২৯ জানুয়ারি রাতে সাথীর ওপর এসিড ছুড়ে মারে নাঈম। ঘটনার পরপরই আত্মগোপনে চলে যাওয়া নাঈমকে মানিকগঞ্জ সদর থানার সাকরাইল বাজার এলাকা থেকে গত ১ ফেব্রুয়ারি আটক করা হয়।
সাটুরিয়া থানার ওসি আশরাফুল আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘরে ঘুমন্ত অবস্থায় সাথীর শরীরে এসিড ছুড়ে মারে নাঈম। এ ঘটনায় সাটুরিয়া থানায় এসিড নিক্ষেপের একটি মামলা হয়েছে। সাথী মারা যাওয়ায় এখন এ মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে।’
