কলোনিতে আগুন, পুড়ে মরল শেকলে বাঁধা প্রতিবন্ধী তরুণী

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:২২ এএম

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে একটি আবাসিক কলোনিতে আগুন লেগে শেকলে বাঁধা অবস্থায় পুড়ে প্রতিবন্ধী এক তরুণীর মৃত্যু হয়েছে। গত বুধবার গভীর রাতে কাঁচপুরের উত্তর সেনপাড়া এলাকায় লাগা ওই আগুন ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট এক ঘণ্টার চেষ্টায় নিয়ন্ত্রণে আনে। আগুনে ওই কলোনির অর্ধশত ঘর পুড়ে গেছে। বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। আগুনে পুড়ে নিহত তরুণীর নাম রুমা আক্তার (৩২)। তিনি মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের পশ্চিমবাগড়া এলাকার বাদশা মিয়ার মেয়ে।

প্রত্যক্ষদর্শী ও ভুক্তভোগীরা জানায়, বুধবার রাত ৩টার দিকে কাঁচপুর ইউনিয়নের উত্তর সেনপাড়া এলাকায় ফজলুল হক ও মোতালেব মিয়ার কলোনিতে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। মুহূর্তের মধ্যে আগুনের শিখা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে ফজলুল হক কলোনির ৩৩টি টিনশেড ঘর ও মোতালিব মিয়ার কলোনির আটটিসহ অর্ধশত ঘর পুড়ে যায়। এ সময় অগ্নিদগ্ধ হয়ে শিকল বাঁধা অবস্থায় মানসিক প্রতিবন্ধী রুমা মারা যান। তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করতে গিয়ে মা তাছলিমা বেগমও অগ্নিদগ্ধ হয়েছেন। আশপাশের লোকজন আগুন নেভানোর চেষ্টা করে ব্যর্থ হলে সোনারগাঁ, ডেমরা এবং আড়াইহাজার ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে এক ঘণ্টা চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

নিহত রুমার বড় বোন ঝুমা আক্তার জানান, তার মা কাঁচপুরের একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। ছোট বোন রুমা গত ৬ ফেব্রুয়ারি কাঁচপুরে তাদের ভাড়া বাসায় বেড়াতে আসে। মানসিক প্রতিবন্ধী হওয়ায় তাকে শেকল দিয়ে বেঁধে রাখা হতো। রাত ৩টায় ঘরের চালে আগুন দেখে তারা তাড়াহুড়ো করে ঘর থেকে বের হয়ে যান। পরে রুমার কথা মনে হলে তাকে বাঁচাতে গিয়ে তার মাও অগ্নিদগ্ধ হন।

আগুনে ওই কলোনির অর্ধশত টিনশেড ঘর ও ভাড়াটিয়াদের মালামাল পুড়ে যাওয়ায় কোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করছেন বাড়ির মালিক ফজলুল হক ও মোতালিব মিয়া।

ডেমরা ফায়ার স্টেশনের জ্যেষ্ঠ স্টেশন কর্মকর্তা ওসমান গনি বলেন, ‘বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত বলে জানা গেছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত