উত্তর-উপনিবেশি জনস্বাস্থ্য নিয়ে বই ‘কল্প-ডাক্তার’

আপডেট : ১১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:৪৪ পিএম

বৃটিশ উপনিবেশের হাত ধরে আমাদের এখানে আধুনিক এলোপ্যাথি চিকিৎসার আগমন। উপনিবেশ শেষ হলেও তাদের রেখে যাওয়া চিকিৎসা পদ্ধতি এখনো বহাল। উপনিবেশ-পরবর্তী সময়ে চিকিৎসকের মনস্তত্ত্ব ও জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর উপনিবেশের কী প্রভাব রয়ে গেছে তা নিয়ে আমাদের এখানে খুব বেশি কাজ হয় নাই। এই বিষয়টিতে আলো ফেলেছেন শাহ্ মোহাম্মদ ফাহিম।

তার ‘কল্প-ডাক্তার’ বইয়ের ট্যাগলাইন হলো ‘বাংলা সাহিত্যের চিকিৎসক চরিত্র ও উত্তর-উপনিবেশি জনস্বাস্থ্য’।

বইটি সম্পাদনা করেছেন মোহাম্মদ আরজু। সব্যসাচী মিস্ত্রীর প্রচ্ছদে এবারের একুশে বইমেলায় প্রকাশ করছে আদর্শ।

আগ্রহ উদ্দীপক ‘কল্প-ডাক্তার’ এর সূচিতে ৮টি নিবন্ধ ও ১টি অনুবাদ ঠাঁই পেয়েছে। ৬টি নিবন্ধ বাংলা সাহিত্যের ৬ জন চিকিৎসক চরিত্রের বিশ্লেষণ করে লেখা। বাকি ২টি হাসপাতাল ব্যবস্থার বিশ্লেষণ। অন্যটি হচ্ছে স্বাস্থ্য, চিকিৎসা এবং উপনিবেশবাদ বিষয়ে ফ্রাঁনৎস ফাঁনোর লেখার অনুবাদ।

‘কল্প-ডাক্তার’ বইয়ে স্থান পাওয়া চিকিৎসক চরিত্র নিয়ে সম্পাদক মোহাম্মদ আরজু বলছেন, ‘এ বইয়ে গল্প বা উপন্যাসের সাহিত্যমূল্য বিচার করা লেখকের লক্ষ্য নয়। বরং তার বাসনা হচ্ছে বাংলা সাহিত্যের ডাক্তার চরিত্র ও হাসপাতাল ব্যবস্থার সমাজনৈতিক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ। সাহিত্যের ডাক্তার চরিত্রদের যেভাবে পর্যালোচনা করেছেন ফাহিম, তাতে পড়বার সময় মনে হয়েছে এই ডাক্তারদের চিনতে পারছি না, অথচ এসব সাহিত্য আমার আগে পড়া ছিলো। জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত নানা দৃষ্টিকোণ থেকে পুরোপুরি নতুনভাবে এই ডাক্তারদের দেখতে আমাকে সাহায্য করেছেন লেখক।’

সাহিত্যের চরিত্র কেন লেখার বিষয়বস্তু উঠল, তার খানিক ইশারা পাওয়া যায় ফাহিমের কথা থেকে, ‘বাংলা সাহিত্যের ডাক্তার চরিত্রগুলোর প্রতি আলাদা এক ধরনের টান ছিল আমার। পরে ডাক্তারি পড়া শুরুর পর দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দৈন্য-দশা দেখে জনস্বাস্থ্য গবেষণায় আগ্রহ শুরু হয়। মেডিকেল কলেজের ছাত্রাবস্থায়ই মনে হলো সাহিত্যের ডাক্তার চরিত্রগুলো বিশ্লেষণ করে দেখি। আমাদের সমাজ-সংস্কৃতি, চেনা-জানা পরিবেশ-প্রতিবেশে ডাক্তারকে ঠিক কী চোখে দেখা হয়, কিংবা বৃটিশ উপনিবেশ উত্তর দেশে ডাক্তারি শিক্ষা ব্যবস্থার কোন কোন দিকগুলো উপন্যাসের পাতায় চোখ রেখে ঠাহর করা যায় – সেই বিষয়গুলো তুলে ধরতেই লিখতে শুরু করি।’

বইয়ের প্রবন্ধগুলো ২০১২ থেকে ২০১৫ সালের মধ্যে লেখা হয়েছে। এরপর শাহ্ মোহাম্মদ ফাহিমের চিন্তা-ভাবনার বদল হয়েছে অনেকটা, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ভেতর-বাইরের অনেক বিষয়ে জানার সুযোগ হয়েছে। সেই প্রেক্ষাপটে লেখাগুলোর বেশ কিছু জায়গায় পরিবর্তনের সুযোগ থাকলেও শেষ পর্যন্ত লেখাগুলোর কোথাও পরিবর্তন করেননি। কারণ হিসেবে বলেন, ‘চিকিৎসাশাস্ত্রের শিক্ষার্থী হিসাবে যেই চোখ দিয়ে সাহিত্যের ডাক্তার চরিত্রগুলোকে দেখেছি, এবং তার মাধ্যমে দেশের স্বাস্থ্য শিক্ষা ও ব্যবস্থাপনাকে বোঝার চেষ্টা করেছি – তা হুবহু রেখেই বই প্রকাশে মনস্থির করলাম।’

বরিশালের শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে ডিগ্রি নিয়েছেন শাহ্ মোহাম্মদ ফাহিম। বর্তমানে অ্যাসিস্ট্যান্ট সায়েন্টিস্ট হিসেবে কাজ করছেন আইসডিডিআর.বি’তে।  নামি জার্নালে প্রকাশ হয়েছে চিকিৎসা বিষয়ক লেখা, যোগ দিয়েছেন দেশ-বিদেশের সম্মেলনে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত