মরতে থাকা নক্ষত্র ঘিরেই প্রাণের আশা

আপডেট : ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০১:৪৯ এএম

পৃথিবীর বাইরে প্রাণের সন্ধানে মানুষের অভিযাত্রা দীর্ঘদিনের। ইতিমধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা সৌরজগতের কোনো কোনো গ্রহ বা উপগ্রহে প্রাণের অনুকূল পরিবেশ পাওয়ার কথা দাবিও করেছেন। তবে সে দাবি মূলত গাণিতিক হিসাব-নিকাশের পরিপ্রেক্ষিতেই। প্রমাণিত কোনো তথ্য এখনো তারা হাজির করতে পারেননি। এর মধ্যেই কোনো কোনো বিজ্ঞানী দাবি করেছেন, সৌরজগতের বাইরের কোনো গ্রহেও দেখা মিলতে পারে ভিনগ্রহের বাসিন্দা বা এলিয়েনের। বিশেষ করে পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যকার দূরত্ব অনুপাতে যেসব ‘এক্সোপ্লানেট’ তার নক্ষত্রকে ঘিরে ঘুরছে তাতেই থাকতে পারে প্রাণের বাসযোগ্য পরিবেশ!

আর এবার গবেষকরা বলছেন, তারা এমন একটি গ্রহের খোঁজ পেয়েছেন যেখানে খুব বেশি ঠাণ্ডা বা গরম নেই। মরতে থাকা একটি নক্ষত্র ঘিরে ঘুরতে থাকা ওই গ্রহে পৃথিবীর মতো প্রাণের অনুকূল পরিবেশ থাকার সম্ভাবনা প্রবল। আর সেটি সত্যি হলে সৌরজগতের বাইরের কোনো গ্রহে প্রথমবারের মতো দেখা মিলতে পারে কাক্সিক্ষত ভিনগ্রহের প্রাণীর। 

সম্প্রতি রয়্যাল অ্যাস্ট্রোনোমিক্যাল সোসাইটির সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে এই সংক্রান্ত নিবন্ধ। ওই গবেষক দলের প্রধান ও ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডনের অধ্যাপিকা জয় ফারিহি বলেন, এই পর্যবেক্ষণটি আমাদের জন্য ছিল একেবারে নতুন। এই প্রথমবারের মতো কোনো শ্বেত বামনের গ্রহে প্রাণের অনুকূল পরিবেশের খোঁজ পাওয়া গেল। আমাদের আশা অন্যান্য শ্বেত বামনের এমন গ্রহেও প্রাণের দেখা মিলতে পারে!

জয় ফারিহি জানান, তারা যে গ্রহটির সন্ধান পেয়েছেন তার দূরত্ব পৃথিবী থেকে কমপক্ষে ১১৭ আলোকবর্ষ দূরে। তবে শ্বেত বামনটি থেকে সেটির দূরত্ব পৃথিবী থেকে সূর্যের দূরত্বের ৬০ গুণ কম। আর এর আকার হতে পারে ৬৫টি চাঁদের সমান। 

মরতে থাকা নক্ষত্র বা শ্বেত বামনের পোশাকি নাম হোয়াইট ডোয়ার্ফ। এই ধরনের নক্ষত্রের ভর সূর্যের সঙ্গে তুলনা করা হলেও অধিক ঘনত্বের কারণে এর আকার তুলনীয় পৃথিবীর সঙ্গে। বিজ্ঞানীদের ভাষ্য, যদি কোনো নক্ষত্রের মোট ভর সূর্যের ১.৪৪ গুণের সমান বা তার চেয়ে কম হয়, তাহলে ওই নক্ষত্র শ্বেত বামনে পরিণতি হয়। লাল দানব নক্ষত্রের অভ্যন্তরভাগ অতি সঙ্কোচনের কারণে এর অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা ও ঘনত্ব বেড়ে গিয়ে শুরু হয় রাসায়নিক বিক্রিয়া। নক্ষত্রের ভেতরে জমে থাকা হিলিয়ামের দহনে তৈরি হয় বেরেলিয়াম-৮। পরে বেরিলিয়াম-৮-এর সঙ্গে আরও একটি হিলিয়াম যুক্ত হয়ে তৈরি হয় কার্বন-১২। আর এই প্রক্রিয়া শেষে নক্ষত্রটি শ্বেত বামনে পরিণত হয়। এই জাতীয় নক্ষত্র আকাশে অনেকটা তুষার-শুভ্র হিসেবে দেখা যায়। ২০০৯ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়  সূর্যের কাছাকছি  থাকা ১০০ নক্ষত্রের মধ্যে  ৮টি শ্বেত বামন আছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত