২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের আগে দেশে যে ‘আমূল পরিবর্তন’ আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সেটা বাস্তবায়নে সফল হননি বলে সম্প্রতি স্বীকার করেছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান। গত শুক্রবার দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদের এক সরকারি অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা জানান বলে জানিয়েছে এনডিটিভি।
অনুষ্ঠানের বক্তব্যে ইমরান খান বলেন, ‘ক্ষমতায় বসার প্রথম পর্যায়ের দিনগুলোতে পাকিস্তানের সার্বিক উন্নয়নের জন্য বিভিন্ন বৈপ্লবিক উদ্যোগ আমরা নিয়েছিলাম। কিন্তু ধীরে ধীরে বুঝতে পারলাম, নতুন পদক্ষেপ বা উদ্যোগের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার মতো সক্ষমতা আমাদের আমলাদের নেই।’
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা আমাদের দেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সরকারের কোনো সংযোগ নেই। আর এজন্য আমলাতন্ত্র যেমন দায়ী, তেমনি দায়ী নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরাও। আর এ কারণেই আমরা দেশে কাক্সিক্ষত পরিবর্তন আনতে পারিনি।’
প্রসঙ্গত, ইমরান খান পাকিস্তান তেহরিক-এ-ইনসাফ (পিটিআই) গঠনের পাঁচ বছরের মধ্যেই ২০০২ সালের জাতীয় নির্বাচনে একটি আসনে জয় পেয়েছিল। তারপর নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে ২০১৮ সালে নির্বাচনে জয়ী হয়ে সরকার গঠন করে পিটিআই। কিন্তু তার শাসনামলেই পাকিস্তানের অর্থনৈতিক সমস্যা দিন দিন প্রকট হয়ে উঠেছে।
বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত দেশগুলোর মধ্যে পাকিস্তান অন্যতম। পাশাপাশি দেশটিতে হু হু করে বাড়ছে নিত্যব্যবহার্য দ্রব্যের মূল্য। পাকিস্তানের কনজ্যুমার প্রাইস ইনডেক্স বা সিপিআই সূচক অনুযায়ী গত এক বছরে দেশটিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়েছে ১৩ শতাংশ। গত ডিসেম্বরে দেশটিতে মুদ্রাস্ফীতির হার ছিল ১২ দশমিক ৩ শতাংশ।
