জাপানি মা নাকানো এরিকো এবং বাংলাদেশি বাবা ইমরান শরীফের ১১ ও ১০ বছরের দুই মেয়ে কার জিম্মায় থাকবে তা নিষ্পত্তি হবে পারিবারিক আদালতে। তার আগপর্যন্ত দুই শিশু তাদের মায়ের কাছেই থাকবে বলে সিদ্ধান্ত দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত। গতকাল রবিবার মা নাকানোর আপিলের আবেদন নিষ্পত্তি করে প্রধান বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকীর নেতৃত্বে আপিল বিভাগের পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এ রায় দেয়।
একই সঙ্গে আদেশের অনুলিপি পাওয়া সাপেক্ষে ঢাকার সংশ্লিষ্ট পারিবারিক আদালতে শিশুদের বাবা ইমরান শরীফের করা মামলাটি তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। গত বছর নভেম্বরে দুই শিশুকে ইমরান শরীফের জিম্মায় দিয়ে হাইকোর্টের দেওয়া রায় বাতিল করে ভার্চুয়াল আপিল বেঞ্চ।
আদালতে নাকানো এরিকোর পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী আজমালুল হোসেন কিউসি। সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। ইমরান শরীফের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফিদা এম কামাল ও ফাওজিয়া করিম ফিরোজ।
অ্যাডভোকেট ফাওজিয়া করিম ফিরোজ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘রায়ে বলা হয়েছে, দুই শিশুকে আদালতের এখতিয়ারের বাইরে নিয়ে যাওয়া যাবে না। শিশুদের বাবা ইমরান শরীফ সন্তানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও সময় কাটানোর সুযোগ পাবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘পারিবারিক আদালতে এ বিষয়ে আমরা একটি মামলা করেছিলাম। আপিল বিভাগ সেই মামলাটি তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তির নির্দেশ দিয়েছেন। এখন মামলাটি যাতে এ সময়ের মধ্যে নিষ্পত্তি হয় সে অপেক্ষায় থাকব।’
২০০৮ সালে নাকানো এরিকো বিয়ে করেন বাংলাদেশি নাগরিক প্রকৌশলী ইমরান শরীফকে। পরে দাম্পত্য কলহের জেরে গত বছর ১৮ জানুয়ারি দুজনের বিচ্ছেদ হয়। এরপর ইমরান শরীফ দুই মেয়েকে নিয়ে ঢাকায় চলে আসেন। বাংলাদেশে এসে গত ১৯ আগস্ট দুই শিশুকন্যার অভিভাবকত্ব পেতে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন নাকানো এরিকো। শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট ২১ নভেম্বর এক রায়ে ইমরান শরীফের জিম্মায় দুই শিশু থাকবে বলে রায় দেয়।
তবে শিশুদের মা বছরের নির্দিষ্ট সময়ে সন্তানদের সঙ্গে একান্তে সময় কাটাতে পারবেন এবং তার এই যাওয়া-আসা ও অবস্থানের খরচ ইমরান শরীফ বহন করবেন বলে রায়ে বলা হয়। পরে হাইকোর্টের এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করেন নাকানো এরিকো। ১৫ ডিসেম্বর আপিল বিভাগ এক আদেশে দুই শিশুকে তাদের মায়ের জিম্মায় ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত রাখার আদেশ দেয়। এ সময়ে ইমরান শরীফ দিনের নির্দিষ্ট সময়ে সন্তানদের সান্নিধ্য পাবেন বলে আদেশে বলা হয়। পরে এ আদেশ কয়েক দফায় বাড়ানো হয়। এর ধারাবাহিকতায় গতকাল এ রায় হলো।
