জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পূজা চেরি এ বছর এইচএসসি পাস করেছেন। তিনি পেয়েছেন জিপিএ ৪.০৮ (এ গ্রেড)। পড়াশুনা নিয়ে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানার ব্যাপারে আগ্রহ রয়েছে ভক্তদের। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে গতকাল দুপুরে পূজা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ভীষণ ইচ্ছা আইন বিষয়ে উচ্চতর পড়াশুনা করা। যদিও এ বিষয়ে পরিবারের সঙ্গে এখনো পাকা কথা বলিনি। আমি আগে তাদের সঙ্গে আলোচনা করব। আমার অভিনয় ও আনুষঙ্গিক সবদিক বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেব।’
সিদ্ধান্তহীনতার কারণে পূজা এখনো বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তির জন্য কোনো প্রস্তুতি নিতে শুরু করেননি। কোনো কোচিং ক্লাসেও যাচ্ছেন না। তিনি বলেন, ‘অভিনয়ের পাশাপাশি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করাটা কঠিন। আর আইনের মতো জটিল বিষয়ে সেটা আরও কষ্টকর। তাই বেসরকারি বিশ^বিদ্যালয় থেকেই স্নাতক করার ইচ্ছে রয়েছে।’
সাধারণত আমাদের দেশে সবাই ডিগ্রি অর্জন করে থাকেন ভবিষ্যতে ভালো চাকরি কিংবা সুযোগের আশায়। পূজা ইতিমধ্যে সফল অভিনেত্রী। অল্প বয়সে সফল হওয়ার পর অনেকেই পড়াশুনা ছেড়ে দেন। বলিউডে সালমান খান, আমির খান, কারিনা কাপুর, আলিয়া ভাট, রণবীর কাপুরসহ অনেকেই তার উজ্জ্বল উদাহরণ। আমাদের দেশেও এই তালিকা অনেক লম্বা। আবার অনেকে নামমাত্র পড়াশুনাটা চালিয়ে যান। এ প্রসঙ্গে পূজা বলেন, ‘দেখুন, আমি অভিনয় করছি ক্লাস ওয়ান থেকে। তখনো অভিনয়কে যতটা গুরুত্ব দিয়েছি ততটাই পড়াশুনায়। ছোটবেলায় বরাবরই ভালো রেজাল্ট করেছি। ক্লাস এইটে উঠে প্রথম নায়িকা হই। যদি খ্যাতিই আমার কাছে সব হতো, তাহলে এত কষ্ট করে জেএসসি, এসএসসি, কিংবা এইচএসসি পরীক্ষা দিতাম না। আর এখন তো তীরে এসে তরী ডুবানোর কোনো প্রশ্নই আসে না। আমি লেখাপড়াটা সিরিয়াসলি করতে চাই।’
এজন্যই পূজা নিজের এইচএসসির রেজাল্ট নিয়ে খুব একটা সন্তুষ্ট নন। রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী কলেজ থেকে এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নেন তিনি। পূজা জানান, পরীক্ষার ফলাফল নিয়ে শঙ্কায় ছিলেন। ভেবেছিলেন টেনেটুনে পাস করবেন। এই নায়িকা আরও বলেন, ‘দুশ্চিন্তায় গত রাতে কিছুই খেতে পারিনি। এমন রাত আমার জীবনে কখনো আসেনি। পরীক্ষার আগে ‘গলুই’ সিনেমার শ্যুটিং নিয়ে ভীষণ ব্যস্ত ছিলাম। সেই সময় শুটিংয়ে আমাদের লম্বা সময় জামালপুরে থাকতে হয়। আরও প্রস্তুতি নিতে পারলে পরীক্ষার ফলাফল আরও ভালো হতে পারত। এ জন্য রেজাল্ট দেখে মনটা খারাপ হয়েছে। তবে এত ব্যস্ততার মধ্যেও যে ঠিকমতো পরীক্ষা দিতে পেরেছি, ৪.০৮ পেয়ে পাস করলাম, এতেই আমি খুশি।’
পূজার লেখাপড়ার গুরুত্ব আরও বেশি কেন, তা জানালেন নিজেই, ‘আমি আজ অভিনয় করছি। নায়িকা হিসেবে নিজের জায়গা করে নিয়েছি। কিন্তু আমার সত্যি ইচ্ছা নেই, নায়িকা হিসেবে চাহিদা ফুরিয়ে যাওয়ার পর বড় বোন, ভাবি, মা কিংবা দাদির চরিত্র করার। আমি নায়িকা থাকতে থাকতেই চলচ্চিত্র থেকে বিদায় নেব, এটাই ইচ্ছা। আমি সব সময় বলে এসেছি আমার আইডল সুচিত্রা সেন। তিনিও কিন্তু নায়িকা পরিচয় থেকে কোনোদিন বের হননি। আমাদের দেশে শাবনূর ম্যাডামও আমার খুব প্রিয়। তিনিও নায়িকা থাকতে থাকতেই চলচ্চিত্র থেকে দূরে সরে গেছেন। আমিও তাদের পথ অনুসরণ করতে চাই।’
এদিকে, আসছে ঈদুল ফিতরে মুক্তি পাচ্ছে পূজা অভিনীত সরকারি অনুদানের সিনেমা ‘গলুই’। সম্প্রতি নির্মাতা এসএ হক অলিক এই ঘোষণা দিয়েছেন। এ ছবিতে প্রথমবারের মতো জুটি বেঁধেছেন শাকিব খান ও পূজা চেরি। ছবিটি নিয়ে পূজা বলেন, ‘আমি ছবিটি নিয়ে সত্যিই অনেক আশাবাদী। আমরা অনেক যতœ ও সততা নিয়ে কাজটি করেছি। ছবির গল্প, পরিচালকের নির্মাণশৈলী, শাকিব খানের মতো তারকার উপস্থিতি, গান, লোকেশন সবকিছু মিলিয়েই ছবিটি দর্শকের মন কেড়ে নেবে বলে প্রত্যাশা করি। নিজের কথা নাই বললাম (হা হা হা)। দর্শক হলে গিয়েই বিচার করবেন, আমার কাজ কেমন হয়েছে।’
পূজার আরেক সিনেমা ‘শান’ হতে পারত এ বছরের প্রথম মুক্তিপ্রাপ্ত সিনেমা। সব ধরনের প্রস্তুতি, প্রচারণাও শুরু করেছিলেন তারা। কিন্তু করোনার তৃতীয় ঢেউ এসে সব পরিকল্পনা ভেস্তে দেয়। এখন পূজা নিজেও ছবিটি নিয়ে অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। বললেন, ‘আমি সত্যিই কনফিউজড। এতবার ছবিটির মুক্তির তারিখ পিছিয়েছে যে, এখন আর দাবি করে কিছুই বলতে পারছি না।’
পূজা সম্প্রতি একাধিক জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর হিসেবে যুক্ত হয়েছেন। এরইমধ্যে ডাবরের একটি নারকেল তেলের বিজ্ঞাপনচিত্রে মডেল হিসেবেও কাজ করেছেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বাকি ব্র্যান্ডগুলোর কথা জানাবেন তিনি।
