এনবিএফআইর খেলাপি গ্রাহকও পাবে এক্সিট সুবিধা

আপডেট : ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:৪৯ পিএম

ব্যাংকের খেলাপি গ্রাহকদের মতো ব্যাংকবহির্ভূত আর্থিক প্রতিষ্ঠানের খেলাপি গ্রাহকদেরও বকেয়া ঋণের ২ শতাংশ নগদ জমা দিয়ে (ডাউন পেমেন্ট) এককালীন এক্সিট সুবিধা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের এনবিএফআইগুলোতে যেসব গ্রাহক ঋণখেলাপি ছিলেন, তারা এ সুবিধা নিয়ে সর্বোচ্চ এক বছর সময়ের মধ্যে মাসিক বা ত্রৈমাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করে খেলাপি থেকে মুক্ত হতে পারবেন।

গতকাল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত সার্কুলার জারি করে সব এনবিএফআইর প্রধান নির্বাহীদের পাঠানো হয়।

এতে বলা হয়, দেশের অর্থনীতিতে কভিড-১৯-এর চলমান নেতিবাচক প্রভাব এবং বিবিধ নিয়ন্ত্রণবহির্ভূত কারণে ঋণগ্রহীতারা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় এনবিএফআইয়ের অনেক ঋণ যথাসময়ে আদায় হচ্ছে না। এ কারণে ঋণগুলো খেলাপি হয়ে পড়ছে। ফলে নতুন ঋণও বিতরণ করার মতো তহবিল কমে যাচ্ছে।

এ পরিস্থিতিতে ২০২১ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সেসব গ্রাহকের ঋণ মন্দ বা ক্ষতিজনক মানে শ্রেণিকৃত হয়েছে তারাই এ সুবিধা পাবেন। আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের গ্রাহকদের সঙ্গে সম্পর্কের ভিত্তিতে ঋণগ্রহীতা বাছাই করতে পারবে। এক্সিট সুবিধা মঞ্জুরির সময় থেকে সর্বোচ্চ এক বছর ধরে এ ঋণ পরিশোধ করতে পারবেন গ্রাহকরা। জাল-জালিয়াতি বা অন্য কোনো ধরনের প্রতারণা বা অনিয়মের মাধ্যমে সৃষ্ট ঋণ বা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ নীতিমালা প্রযোজ্য হবে না।

শর্ত অনুযায়ী, এক্সিট সুবিধা মঞ্জুরির পর থেকে ঋণ সমন্বয় পর্যন্ত আদায়যোগ্য অর্থের ওপর তহবিল খরচ হারে সুদ বা মুনাফা (ইসলামিক ব্যাংকগুলো ক্ষেত্রে) আরোপ করতে পারবে এনবিএফআইগুলো। তবে ওই সুদ বা মুনাফা আদায় না হলে তা আয় খাতে স্থানান্তর করা যাবে না। এ সুবিধার আওতায় ঋণের সম্পূর্ণ দায় পরিশোধের পূর্বপর্যন্ত ঋণ হিসাবটি আগের মতো মন্দ বা ক্ষতিজনক মানে খেলাপি থাকবে।

নির্দেশনায় আরও বলা হয়, এক্সিট সুবিধা প্রদানকালে আর্থিক প্রতিষ্ঠান-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের অনুমোদন নিয়ে ঋণের আরোপিত সুদের সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ মওকুফ করা যাবে। এছাড়া অনারোপিত সুদ, দণ্ড সুদ বা অন্য কোনো চার্জ পুরোটাই মওকুফ করা যাবে। তবে কোনোভাবেই ঋণের আসল টাকা মওকুফ করা যাবে না। এ ক্ষেত্রে মওকুফ করা সুদ একটি আলাদা সুদবিহীন ব্লকড হিসেবে স্থানান্তর করতে হবে। ঋণের সম্পূর্ণ টাকা আদায়ের পর ব্লকড হিসেবে রক্ষিত অর্থ মওকুফ গণ্য হবে।

তবে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সুদ মওকুফের ক্ষেত্রে অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংকিং অনুবিভাগ কর্র্তৃক ইস্যু করা নির্দেশনা কার্যকর থাকবে। বর্তমানে বাংলাদেশ হাউজ বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কাজ করছে। যেসব খেলাপি গ্রাহক এক্সিট সুবিধা নিতে আগ্রহী তাদের আগামী ৩০ এপ্রিলের মধ্যে সংশ্লিষ্ট এনবিএফআইয়ের কাছে আবেদন করতে হবে। আবেদন হাতে পাওয়ার ৬০ দিনের মধ্যে ওই আবেদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আর্থিক প্রতিষ্ঠানকে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে।

এ সার্কুলারের আওতায় সুবিধা নেওয়ার সময় সোলেনামার ভিত্তিতে চলমান মামলাগুলো স্থগিত রাখতে পারবে এনবিএফআইগুলো। পরবর্তী সময়ে কোনো ঋণগ্রহীতা প্রদত্ত সুবিধার কোনো শর্ত ভঙ্গ করলে তার অনুকূলে দেওয়া সব সুবিধা বাতিল হবে। গ্রাহকের স্থগিত মামলা পুনরুজ্জীবিত করাসহ ঋণ আদায়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এ নীতিমালার আওতায় আদায় করা অর্থের ব্যবহারসংক্রান্ত তথ্যাদি একটি আলাদা বিবরণীর মাধ্যমে ত্রৈমাসিক ভিত্তিতে বাংলাদেশ ব্যাংকে পাঠাতে হবে এনবিএফআইগুলোকে।

আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন ১৯৯৩ এর ১৮(ছ) ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে এ নির্দেশনা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। যা এখন থেকেই কার্যকর করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের মহাব্যবস্থাপক মো. জুলকার নায়েন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এতদিন শুধু ব্যাংকের খেলাপি গ্রাহকরা এককালীন এক্সিট সুবিধা পেয়ে আসছিলেন। এখন এনবিএফআইগুলোর খেলাপি গ্রাহকরাও তাদের দায়দেনা সমন্বয়ের সহজ একটি সুযোগ পাবে। অসচ্ছল অনেক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান যাছে যারা ব্যবসায়িক কার্যক্রম বন্ধ করতে চায় তাদের জন্যও সুবিধা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত