ফেনী শহরের একটি বেসরকারি হাসপাতাল দখলের অভিযোগে সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীলের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় যুবলীগ ও ছাত্রলীগের নেতাকর্মীসহ সাতজনের নাম উল্লেখ করে ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার ফেনীর সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট কামরুল হাসানের আদালতে মামলাটি করেন ‘সেনসিভ’ নামের ওই হাসপাতালের ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফুননাহার। তবে শুসেন চন্দ্র শীলের দাবি, ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে ভবন মালিক সেটি দখলে নিয়েছেন।
মামলার বাদী লুৎফুননাহার জানান, উপজেলা চেয়ারম্যান ছাড়াও সোনাগাজী উপজেলার গুণক গ্রামের আবদুর রবের ছেলে আবদুল আউয়াল সবুজ, ফেনী সদর উপজেলার বারাহিপুর গ্রামের এমরান হোসেনের ছেলে আবির হোসেন, মধ্যম ধলিয়া গ্রামের সামছুল করিম প্রকাশ কালা মিয়ার ছেলে সাইফুল ইসলাম, ইজ্জতপুর গ্রামের মৌলভী আবদুল আজিজের ছেলে আবদুল আউয়াল, সাড়াশিয়া গ্রামের তাজুল ইসলাম মাস্টারের ছেলে আজাহার, জালাল আহমেদ বধির ছেলে রাজিব আহমেদের নাম উল্লেখ করে মামলাটি করেছেন তিনি।
ফেনী জেলা যুবদলের সভাপতি জাকির হোসেনের সহধর্মিণী লুৎফুননাহার মামলার এজাহারে বলেন, ফেনী ট্রাংক রোডস্থ সেনসিভ হাসপাতালটি তিনি দীর্ঘদিন ধরে পরিচালনা করে আসছেন। এর মধ্যে ২০১৮ সালে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেছিল। সে ঘটনায়ও তিনি মামলা করেছিলেন। তবে সে সময় স্থানীয় সংসদ সদস্যের অনুরোধে মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। এরপর গত ১০ ফেব্রুয়ারি রাতে অভিযুক্তদের কয়েকজন হাসপাতালে এসে চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানকে খুঁজতে থাকে। তাদের না পেয়ে চিকিৎসক, নার্স ও কর্মচারীদের হাসপাতাল থেকে বের করে দেন। এ সময় তাদের শারীরিকভাবে লাঞ্ছিতও করা হয়। পরে হাসপাতালের প্রধান ফটকে তালা দিয়ে চলে যায় তারা। যাওয়ার সময় নগদ দেড় লাখ টাকা ও পাঁচটি ব্যাংকের চেকবইসহ মূল্যবান কাগজপত্র নিয়ে যায়। পরের দিন রাতে হাসপাতালের সাইনবোর্ডটিও খুলে নিয়ে যায়।
ফেনী সদর উপজেলা চেয়ারম্যান বাবু শুসেন চন্দ্র শীল বলেন, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। হাসপাতালের ঘটনার সঙ্গে আমি কোনোভাবেই জড়িত নই। রাজনৈতিক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য আমাকে জড়ানো হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও ভবন মালিকের মধ্যে ভাড়া নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে হাসপাতালটি বন্ধ করা হয়েছে।
