বইমেলা চলতে পারে এক মাস

আপডেট : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:০৮ এএম

করোনা পরিস্থিতির কারণে দুই সপ্তাহ পিছিয়ে গতকাল মঙ্গলবার থেকে শুরু হয়েছে অমর একুশে বইমেলার ৩৮তম আসর। গতকাল মঙ্গলবার গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে মেলার উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ সময় মেলার সময় বাড়াতে প্রকাশকদের সঙ্গে একাত্মতা জানান তিনি। এবার মেলার মূল প্রতিপাদ্য ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ এবং স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী’। এদিকে মেলার আনুষ্ঠানিক শুরু হলেও প্রথম দিন স্টল নির্মাণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে পারেননি বেশিরভাগ প্রকাশক। গতকাল সরেজমিনে দেখা গেছে, অন্তত ৭০ শতাংশ স্টল বই বিক্রির জন্য প্রস্তুত হয়নি। প্রকাশকরা বলছেন, স্টল বরাদ্দ পাওয়ার পর নির্মাণের জন্য সময় কম পেয়েছেন। এ জন্যই গুছিয়ে উঠতে পারেননি অনেকে। পুরোপুরি গুছিয়ে উঠতে আরও দুই-তিন লেগে যাবে।

দেশ পাবলিকেশন্সের অচিন্ত্য চয়ন বলেন, ‘অল্প সময়ে আমাদের স্টল বানাতে হচ্ছে। যার জন্য আরও দু-তিন দিন লেগে যাবে পুরোপুরি গুছিয়ে নিতে।’

প্রতি বছর ফেব্রুয়ারির প্রথম দিন একুশে বইমেলা শুরু হলেও মহামারীর কারণে গত বছর দেড় মাস পিছিয়ে ১৮ মার্চ মেলা শুরু হয়েছিল, সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়ের দুদিন আগে ১২ এপ্রিল তা শেষ হয়ে যায়। এ বছরও করোনার প্রাদুর্ভাব বেড়ে যাওয়ায় বইমেলা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হলে দুই সপ্তাহ পিছিয়ে দেওয়া হয়। গত সোমবার মেলার আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে আয়োজক প্রতিষ্ঠান জানিয়েছিল, ১৫-২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মেলা অনুষ্ঠিত হবে। তবে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ জানিয়েছিলেন, করোনার সংক্রমণ কমার কারণে মাসব্যাপী মেলা আয়োজনের ব্যাপারে আশাবাদী তিনি। গতকাল প্রধানমন্ত্রীও সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের প্রকাশকদের পক্ষ থেকে একটা দাবি এসেছে যে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন যে ১৭ মার্চ, সে হিসাবে মার্চ মাস পর্যন্ত এটা চালাতে পারে। আমি মনে করি যে বইমেলা আমরা এক মাস চালাতে পারি। তবে সেটা আপনারা নিজেরাও দেখবেন ভেবে। কারণ আমি একা তো আর কিছু বলতে পারব না।’

তবে মেলা মাসব্যাপী করা হবে কি না গতকাল সন্ধ্যা পর্যন্ত বাংলা একাডেমি কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি। বইমেলা পরিচালনা কমিটির একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলার পর আমাদের তো সিদ্ধান্ত নেওয়ার কিছু নেই। মেলা মাসব্যাপীই অনুষ্ঠিত হবে। সেটি পরে সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হবে।

সংগীতশিল্পী রেজওয়ানা চৌধুরী বন্যার নেতৃত্বে সাংস্কৃতিক সংগঠন সুরের ধারার শিল্পীদের সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং ঐতিহাসিক ভাষার গান আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি পরিবেশনার মধ্য দিয়ে শুরু হয় মূল অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানে মহান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

বাংলা একাডেমির সভাপতি কথাসাহিত্যিক সেলিনা হোসেনের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ। শুভেচ্ছা বক্তৃতা করেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবুল মনসুর। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলা একাডেমির মহাপরিচালক কবি মুহাম্মদ নূরুল হুদা এবং প্রকাশকদের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ পুস্তক প্রকাশক ও বিক্রেতা সমিতির সভাপতি আরিফ হোসেন ছোটন।

মেলা উদ্বোধনের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার-২০২১ প্রদান করেন। প্রধানমন্ত্রীর পক্ষে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ পুরস্কারপ্রাপ্ত লেখক এবং অনুপস্থিত তিনজন লেখকের প্রতিনিধির হাতে তিন লাখ টাকার চেক, ক্রেস্ট ও সম্মাননাপত্র তুলে দেন।

এ বছর পুরস্কারপ্রাপ্তরা হলেন আসাদ মান্নান, বিমল গুহ, ঝর্ণা রহমান, বিশ্বজিৎ চৌধুরী, হোসেনউদ্দীন হোসেন, আমিনুর রহমান, রফিক-উম-মুনীর চৌধুরী, সাধনা আহমেদ, রফিকুর রশীদ, পান্না কায়সার, হারুন-অর-রশিদ, শুভাগত চৌধুরী, সুফিয়া খাতুন, হায়দার আকবর খান রনো ও আমিনুর রহমান সুলতান।

উদ্বোধন অনুষ্ঠানের পর সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয় মেলার প্রবেশদ্বার। প্রথম দিনই দেখা যায়, দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড়। তবে বেশিরভাগ স্টলই শুরু করতে পারেনি বই বিকিকিনি।

সাহিত্যিক জাকির তালুকদার, নাট্যকার সাধনা আহমেদসহ অনেককেই পাওয়া যায় মেলায়। এ বছর বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কারপ্রাপ্ত নাট্যকার সাধনা আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কাজের ব্যস্ততায় চলতি সপ্তাহে ভারতে যেতে হবে। এ জন্য প্রথম দু-তিন দিনই থাকা হবে মেলায়। আবার শেষের দিকে হয়তো থাকা হবে।’

এই লেখকের নাটকের বই ‘প্রার্থিনী’ প্রকাশ করেছে চন্দ্রাবতী একাডেমি। অন্যদিকে চৈতন্য প্রকাশনী থেকে এসেছে কথাসাহিত্যিক শাহনাজ মুন্নীর ‘নির্বাচিত গল্প’ বইটি। এদিন স্টল থেকে ৫ কপি বই কিনেছেন মাহবুব সেতু। তিনি বলেন, বইটি কয়েকজনের জন্য একসঙ্গে আমি কিনেছি, তারা মেলায় আসতে পারেননি।’

বইমেলা ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বেলা ২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত খোলা থাকবে। রাত সাড়ে ৮টার পর নতুন করে কেউ মেলা প্রাঙ্গণে ঢুকতে পারবে না। ছুটির দিন মেলা চলবে বেলা ১১টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত। ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায় শুরু হয়ে মেলা চলবে রাত ৯টা পর্যন্ত।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত