কয়েক সপ্তাহের টানটান উত্তেজনার পর অবশেষে ইউক্রেন সীমান্ত থেকে সেনা ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে রাশিয়া। এতে পশ্চিমাদের সতর্কবার্তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে এবং এর মাধ্যমে একটি গুলি না ছুড়েও তাদের ধ্বংস করা ও চরম লজ্জা দেওয়া হয়েছে বলে মন্তব্য করেছে মস্কো। গতকাল মঙ্গলবার রুশ টেলিভিশন নেটওয়ার্ক আরটির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মারিয়া জাখারোভা বারবার যুদ্ধের আশঙ্কা প্রকাশ করা যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কর্মকর্তাদের রীতিমতো তুলোধোনা করেছেন। তিনি বলেছেন, ইতিহাসের পাতায় লেখা থাকবে ২০২২ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি পশ্চিমা যুদ্ধ প্রোপাগা-া ব্যর্থ হয়েছিল। রুশ এ কর্মকর্তার ভাষ্যমতে, রাশিয়া একটি গুলি না ছুড়েও পশ্চিমাদের লজ্জা দিয়েছে ও ধ্বংস করে দিয়েছে। এদিন রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় ঘোষণা দিয়েছে, বেলারুশে ইউক্রেন সীমান্ত এলাকায় কিছু রুশ সেনার প্রশিক্ষণ মহড়া শেষ হয়েছে। তাই তাদের ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে।
রুশ কর্মকর্তাদের এ ঘোষণার আগে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপীয় দেশগুলো বারবার সতর্কবার্তা দিয়েছে, রাশিয়া যেকোনো মুহূর্তে সাবেক সোভিয়েত সদস্য ইউক্রেনে সামরিক অভিযান চালাতে পারে। গত শনিবার ব্লুমবার্গের প্রতিবেদনে অজ্ঞাত কর্মকর্তাদের বরাতে দাবি করা হয়েছিল, মঙ্গলবারের মধ্যেই ইউক্রেন আক্রমণ করতে পারে রুশ সেনারা।
হোয়াইট হাউজের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেক সুলিভানও চলতি সপ্তাহে বলেছেন, তাদের সূত্র ও গোয়েন্দা তথ্যের হিসাব মোতাবেক রাশিয়ার বিশাল সামরিক অভিযান যেকোনো দিন শুরু হতে পারে। আর তা শীতকালীন অলিম্পিক শেষ হওয়ার আগেই ঘটবে বলে দাবি করেছিলেন তিনি। যদিও রাশিয়া বরাবরই ইউক্রেনে হামলার পরিকল্পনার কথা অস্বীকার করে আসছে। মস্কো বলেছে, বাধ্য না হলে তাদের ইউক্রেন আক্রমণ করার কোনো ইচ্ছা নেই।
রাশিয়া মূলত কিয়েভ-ন্যাটো বন্ধুত্বে নিরাপত্তা আশঙ্কার কথা জানিয়ে ইউক্রেন সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ বাড়িয়েছে। ইউক্রেন এখনো ন্যাটোর সদস্য নয়। তারা দীর্ঘদিন ধরে পশ্চিমা এই সামরিক জোটে যোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। ন্যাটোর পক্ষ থেকেও কিয়েভকে বারবার আশ্বস্ত করা হয়েছে।
