মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার এম খায়রুজ্জামানকে ছেড়ে দিয়েছে দেশটির অভিবাসন কর্র্তৃপক্ষ।
গতকাল বুধবার মালয়েশিয়ার গণমাধ্যম ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়। এর আগে গত মঙ্গলবার ফ্রি মালয়েশিয়া টুডের একে প্রতিবেদনে বলা হয়, খায়রুজ্জামানকে বাংলাদেশের কাছে হস্তান্তরের বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার মালয়েশিয়ার হাইকোর্ট স্থগিতাদেশ দেয়। এতে বলা হয়, মালয়েশিয়ার উচ্চ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ জাইনি মাজলান খায়রুজ্জামানের রিট আবেদনের শুনানির সময় এ আদেশ দেন।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র অবস্থানরত খায়রুজ্জামানের স্ত্রী রিটা রহমান ফ্রি মালয়েশিয়া টুডেকে বলেন, তার স্বামী তাকে ফোন দিয়ে মুক্তি পাওয়ার খবর দিয়েছেন। খায়রুজ্জামান তাকে বলেছেন, মুক্তির পর তাকে গ্রহণের জন্য ঘটনাস্থলে আইনজীবী রয়েছেন। তিনি বাসায় ফিরতে যাচ্ছেন।
খায়রুজ্জামানের এক আইনজীবী বলেন, তার মক্কেলকে মুক্তি দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনো শর্ত দেওয়া হয়নি। তিনি এখন একজন মুক্ত ব্যক্তি।
মুক্তির পর খায়রুজ্জামান টেলিফোনে ফ্রি মালয়েশিয়া টুডেকে বলেছেন, ‘মিথ্যা অভিযোগে’ গ্রেপ্তারের পর থেকে তিনি মানসিক যন্ত্রণার মধ্য দিয়ে যাচ্ছিলেন। পরিবারের সদস্যরা খুবই উদ্বিগ্ন ছিলেন। যত দ্রুত সম্ভব তিনি যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে দেখা করবেন।
এর আগে গত ১০ ফেব্রুয়ারি খায়রুজ্জামানকে মালয়েশিয়ার সেলাঙ্গর প্রদেশের আমপাং এলাকার বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে দেশটির অভিবাসন পুলিশ।
গত সোমবার নিজ দপ্তরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বলেছিলেন, মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের সাবেক হাইকমিশনার এম খায়রুজ্জামানকে ফেরাতে প্রয়োজনে জাতিসংঘের সঙ্গে আলোচনা করবে বাংলাদেশ। তিনি আরও বলেন, ‘খায়রুজ্জামান সবল ও সামর্থ্যবান একজন ব্যক্তি। কাজেই তিনি শরণার্থী মর্যাদা পাওয়ার যোগ্য নন। মালয়েশিয়ার সঙ্গে আমাদের যে সম্পর্ক রয়েছে, এর মাধ্যমেই আমরা তাকে দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনতে পারব বলে আশাবাদী।’
গত রবিবার মালয়েশিয়ার কূটনৈতিক সূত্র জানায়, খায়রুজ্জামান জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচসিআর) শরণার্থী হিসেবে দেশটিতে অবস্থান করছেন এবং ২০২৪ সাল পর্যন্ত তার শরণার্থী কার্ডের মেয়াদ রয়েছে। কোনো শরণার্থী স্বেচ্ছায় নিজ দেশে না ফিরলে জোর করে ফেরত পাঠানোর সুযোগ নেই।
জেলহত্যা মামলায় খালাস পাওয়া খায়রুজ্জামানকে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার দেশে তলব করলেও তিনি ফেরেননি। অভিবাসী আইন ভঙ্গের অভিযোগে সম্প্রতি তাকে গ্রেপ্তার করেছিল মালয়েশিয়ার অভিবাসন পুলিশ। এর পরই তাকে ফেরাতে উদ্যোগী হয় বাংলাদেশ।
গ্রেপ্তারের পর খায়রুজ্জামানের আইনজীবীরা সাংবাদিকদের বলেন, খায়রুজ্জামানের বৈধ ট্র্যাভেল ডকুমেন্ট আছে। তিনি মালয়েশিয়ায় কোনো কাজ করছিলেন না, বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। তিনি রাজনৈতিক শরণার্থী। তাকে বহিষ্কার করার অধিকার মালয়েশিয়ার নেই।
এদিকে ইউএনএইচসিআর মালয়েশিয়ার এক বিবৃতিতে বলা হয়, ১৯৫১ সালের শরণার্থী সনদ অনুমোদন করুক বা না করুক, শরণার্থীদের জীবন বা স্বাধীনতা ঝুঁকিতে পড়তে পারে এমন কোনো দেশে জোর করে ফেরত না পাঠানো প্রতিটি দেশের দায়িত্ব।
