রাজধানীর পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকায় এক তরুণীকে তুলে নিয়ে চারদিন আটকে রেখে দল বেঁধে ধর্ষণের অভিযোগে মো. মনির হোসেন শুভ (২২) নামে এক যুবককে গ্রেপ্তার করেছে র্যাব। এ ঘটনার সহযোগী আল আমিন নামে আরেক যুবক পলাতক রয়েছে। টানা চার দিন ধর্ষণের পর বুধবার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসির রাজু ভাস্কর্যের সামনে অসুস্থ অবস্থায় তরুণীকে ফেলে যায় অভিযুক্তরা। ধর্ষণের শিকার তরুণী বর্তমানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে চিকিৎসাধীন।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেছেন র্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন।
তিনি জানান, এ ঘটনা বিভিন্ন গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে দেশব্যাপী ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। পরে র্যাব সদর দপ্তরের গোয়েন্দা শাখার সহযোগিতায় সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে র্যাব-৩-এর একটি দল ওইদিন মধ্যরাতেই লালবাগ এলাকা থেকে অভিযুক্ত শুভকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব কর্মকর্তা খন্দকার আল মঈন বলেন, গত ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টার দিকে ওই তরুণী প্রাইভেট পড়তে শিক্ষকের বাসায় যাচ্ছিলেন। এ সময় লালবাগ কেল্লা মোড়ে শুভ ও আল আমিন ওই তরুণীর মুখে রুমাল চেপে অজ্ঞান করে তাকে রিকশায় তুলে অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে যায়। সেখানে তরুণীকে নেশাজাতীয় দ্রব্য খাইয়ে চার দিন আটকে রেখে ধর্ষণ ও শারীরিক নির্যাতন করে। পরে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ফেলে পালিয়ে যায়। পরে এক পথচারী ওই তরুণীকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
র্যাবের কাছে শুভ দাবি করেছে, মেয়েটি বর্তমানে একটি কলেজে বিবিএ তৃতীয় বর্ষে অধ্যয়ন করছেন। মাসখানেক আগে লালবাগ এলাকায় এক বন্ধুর মাধ্যমে ওই তরুণীর সঙ্গে তার পরিচয় হয়। এরপর তারা পাঁচ-সাতবার দেখাও করেছে।
র্যাবের এই কর্মকর্তা আরও বলেন, নির্যাতনের শিকার তরুণী চিকিৎসাধীন থাকায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা সম্ভব হয়নি। তবে মেডিকেল আলামতের রিপোর্ট পেলে সে অনুসারে মামলা হবে। এ ঘটনার বিষয়ে পরবর্তীতে থানার তদন্ত কর্মকর্তা বিস্তারিত জানাবেন। এ বিষয়ে লালবাগ থানায় মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
এর আগে বুধবার রাতে টিএসসি থেকে ওই তরুণীকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসা এক নারী পথচারী জানান, ওই তরুণী তাকে বলেছেন তাকে অজ্ঞাত স্থানে আটকে রেখে ধর্ষণ করেছে কয়েকজন। পরে ধর্ষণকারীরা টিএসসি এলাকায় তাকে ফেলে গেছে। পরে পুলিশের সহায়তায় তাকে উদ্ধার করে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে শাহবাগ থানার ওসি মওদুদ হাওলাদার দেশ রূপান্তরকে বলেন, তরুণীর বাড়ি লালবাগ এলাকায়। তিনি শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ হলে বিস্তারিত তথ্য নেওয়া যাবে। যদিও প্রাথমিকভাবে তরুণী একেক সময় একেক কথা বলছেন।
