দ্বিতীয় ডোজ ছাড়া শ্রেণিকক্ষে নয়

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:১৮ এএম

দেশের শিক্ষার্থীদের অর্ধেকেরও বেশি করোনা টিকার দ্বিতীয় ডোজ পায়নি। এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে সবচেয়ে কম দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে মাদ্রাসার শিক্ষার্থী, মাত্র ৩ শতাংশ। সবচেয়ে বেশি পেয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা, ৫০ দশমিক ৬২ শতাংশ। বিশেষ করে ১২-১৮ বছর বয়সী স্কুল ও কলেজের মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীরা দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ৩৮ শতাংশ। তবে দ্বিতীয় ডোজে সবচেয়ে এগিয়ে ঢাকা জেলার ১২-১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা, ৬৮ শতাংশ।

অন্যদিকে, করোনা টিকার প্রথম ডোজ সবচেয়ে বেশি পেয়েছে ১২-১৭ বছর বয়সী শিক্ষার্থীরা, ৯৮ শতাংশ। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীরা, ৮৬ শতাংশ। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রথম ডোজ পেয়েছে ৬৩ শতাংশ। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের প্রথম ডোজ প্রায় শতভাগ শেষ হয়েছে। এই শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে কম প্রথম ডোজ পেয়েছে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ শিক্ষার্থীরা। বিশেষ করে গ্রামের কলেজপর্যায়ের শিক্ষার্থীদের প্রথম ডোজের সংখ্যা খুবই কম।

এমন অবস্থায় আগামী ২২ ফেব্রুয়ারি থেকে সব ধরনের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। তবে শর্ত দেওয়া হয়েছে, যে শিক্ষার্থীরা করোনাভাইরাসের টিকার দুটি ডোজ নিয়েছে, আপাতত শুধু তারাই ক্লাসে যাবে। যারা দুই ডোজ টিকা নেয়নি, আপাতত তারা বাসায় থেকে অনলাইনে বা টেলিভিশন দেখে ক্লাস করবে। ফলে অর্ধেকেরও বেশি শিক্ষার্থী শ্রেণিকক্ষে ফিরতে পারছে না। গতকাল বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর, মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড ও ঢাকা জেলা শিক্ষা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে শিক্ষার্থীদের করোনা টিকার সর্বশেষ এসব তথ্য জানা গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫২ শতাংশ শিক্ষার্থীর দ্বিতীয় ডোজ : বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মোহাম্মদ জামিনুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ বাদ দিলে সরকারি ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় শতভাগ শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে। এখন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সহ তিন শ্রেণির বিশ্ববিদ্যালয়ের সব শিক্ষার্থীর হিসাব একসঙ্গে করা হচ্ছে।

এই কর্মকর্তা জানান, সব ধরনের বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় অধিভুক্ত কলেজ মিলে দেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৪০ লাখ। তাদের মধ্যে গত ১৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টিকার প্রথম ডোজ নিয়েছে ২৫ লাখ ২৮ হাজার শিক্ষার্থী, যা মোট শিক্ষার্থীর ৬৩ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ডোজ নিয়েছে ২০ লাখ ২৫ হাজার শিক্ষার্থী, যা মোট শিক্ষার্থীর ৫০ দশমিক ৬২ শতাংশ। তবে শিক্ষকদের প্রায় শতভাগ সম্পূর্ণ টিকা পেয়েছেন।

এই কর্মকর্তা জানান, শতাংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের প্রথম ডোজ ও দ্বিতীয় ডোজ কম মনে হচ্ছে বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত কলেজ শিক্ষার্থীদের জন্য। কারণ গ্রামগঞ্জে কলেজের শিক্ষার্থীরা টিকার হার এখনো অনেক কম। তা ছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ঝামেলা থাকায় শিক্ষার্থীদের টিকা শিক্ষকদের চেয়ে কিছুটা কম হয়েছে। এখন টিকা দেওয়া হচ্ছে।

স্কুল-কলেজ শিক্ষার্থীদের দ্বিতীয় ডোজ ৩৯% : মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) ইএমআইএস সেলের সিনিয়র সিস্টেম অ্যানালিস্ট খন্দকার আজিজুর রহমান জানান, দেশে সাধারণ ও মাদ্রাসা শিক্ষা মিলে মোট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ৩০ হাজার। এর মধ্যে মাধ্যমিকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২২ হাজার ও মাদ্রাসা ৮ হাজার। এসব প্রতিষ্ঠানে ১২-১৮ বছর বয়সী শিক্ষার্থী ১ কোটি ৩২ লাখ। তাদের মধ্যে ৫০ লাখের মতো শিক্ষার্থী দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে, যা মোট শিক্ষার্থীর ৩৮ দশমিক ৮৭ শতাংশ বা ৩৯ শতাংশ এবং প্রথম ডোজ পেয়েছে ১ কোটি ৩০ লাখ, যা মোট শিক্ষার্থীর ৯৮ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

ঢাকা জেলায় দ্বিতীয় ডোজ বেশি : ঢাকা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবদুল মজিদ বলেন, ঢাকা জেলায় ১২-১৮ বছর বয়সী ১০ লাখের বেশি শিক্ষার্থীকে টিকার আওতায় আনা হবে। এরই মধ্যে প্রথম ডোজ পেয়েছে ১০ লাখ ১৯ হাজার ৬০৯ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর শতভাগের বেশি। তবে দ্বিতীয় ডোজ পেয়েছে ৬ লাখ ৭৬ হাজার ৯৬৫ জন, যা মোট শিক্ষার্থীর ৬৭ দশমিক ৬৯ শতাংশ।

এই কর্মকর্তা বলেন, শিক্ষার্থী কিছু বেড়েছে। নতুন শিক্ষার্থী ভর্তি হয়েছে। নভেম্বরে যখন শুরু করি, তখন যাদের ১২ বছর ছিল না, এখন তাদের ১২ বছর হয়েছে। এ রকম শিক্ষার্থীর সংখ্যাও বেড়েছে। সব থানায় সব স্কুলে ঘোষণা দেওয়া হয়েছে নতুন শিক্ষার্থী এলে জানাতে। আমরা তাদের টিকা দেব। এসএসসি পরীক্ষার্থী যারা তারা টিকা পায়নি। এখন তারা কলেজে ভর্তি হচ্ছে। তাই তাদেরও টিকা দেওয়া হচ্ছে। আশা করছি বাকিরা ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দ্বিতীয় ডোজ পেয়ে যাবে। মহানগরীতে ২২ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শতভাগ দ্বিতীয় ডোজ শেষ হয়ে যাবে। উপজেলায় কিছু বাকি থাকবে।

মাদ্রাসায় দ্বিতীয় ডোজ সবচেয়ে কম : মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের উপপরিচালক (প্রশাসন) মো. সাইফুল ইসলাম জানান, দেশে ১২-১৮ বছর বয়সী মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর (ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে উচ্চমাধ্যমিক সমমান) সংখ্যা ১৮ লাখ। তাদের মধ্যে সাড়ে ১৫ লাখ টিকার প্রথম ডোজ পেয়েছে, যা মোট শিক্ষার্থীর ৮৬ দশমিক ১১ শতাংশ। তবে দ্বিতীয় ডোজে পেয়েছে ৫০ হাজারের মতো, যা মোট শিক্ষার্থীর মাত্র ২ দশমিক ৭৭ শতাংশ বা ৩ শতাংশ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত