বিধ্বংসী সৈকত

আপডেট : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১১:৫০ পিএম

বয়সটা ২৮ হয়ে গেছে সৈকত আলির। ঘরোয়া ক্রিকেটের নিয়মিত টপঅর্ডার ব্যাটার তিনি। তবে গত কয়েক বছরে চাহিদার স্রোতে হারিয়ে গেছেন অনেকটাই। সৈকতের গল্পটা অন্যরকমও হতে পারত। তবে ভাগ্য সঙ্গ দেয়নি। সেই ভাগ্য যেন ফিরল কাল। বিপিএল শুরুর দুই ম্যাচে ৫৪ রান করার পর কুমিল্লার সঙ্গে ম্যাচে শূন্য করে জায়গা হারান দলে। ফাইনালে এসে আবার পাওয়া সুযোগটা দু’হাতে নিয়েছেন এই ডানহাতি। খেলেন ৩৪ বলে ৫৮ রানের বিধ্বংসী ইনিংস।

সবশেষ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে শেখ জামাল ধানম-ি ক্লাবের হয়ে ১৬ ম্যাচে ১৫ ইনিংসে ২৯২ রান করেন সৈকত। ব্যাটে একটি মাত্র ফিফটি। কিন্তু ছোট ছোট ইনিংস দিয়ে মোট ২৭ চার ও ১৫ ছক্কা মেরেছেন পুরো আসরে। সেই সামর্থ্যটাই এ ওপেনারকে বিপিএলে দল পাইয়ে দিয়েছে। বরিশাল কোচ খালেদ মাহমুদ সুজনকে নিরাশ করেননি সৈকত। একদম আসল দিনেই আসল ঝলক দেখিয়ে দিলেন। অথচ কয়েক বছর আগে সৈকত ঝলক হয়ে উঠতে পারতেন বাংলাদেশের ক্রিকেটে। ২০১৫ ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে চ্যাম্পিয়ন প্রাইম ব্যাংক দলের হয়ে সেরা সময় কাটান। ১৬ ম্যাচে ৫০৮ রান করে ছিলেন দলের শিরোপা জয়ের অন্যতম কারিগর। আগের বছর করেছিলেন ৫৮১ রান। অথচ টানা দুই প্রিমিয়ার লিগে ভালো করেও জাতীয় দলে ডাক পড়েনি সৈকতের। এরপরও ডাকের অপেক্ষায় আছেন এখনো।

অথচ সে বছর প্রাইম ব্যাংকে তার সঙ্গে ওপেন করা সৌম্য সরকার ২০১৫ সালেই বিশ্বকাপ খেলেন। এরপর টানা খেলেছেন জাতীয় দলে। বিকেএসপি থেকে উঠে আসা সৈকত ক্লাব ক্রিকেটের শুরুটা বয়সভিত্তিক দল থেকে। খেলেছেন অনূর্ধ্ব-১৯ ২০০৮ ও ২০১০ বিশ্বকাপ। শেষবারের দলে থাকা মুমিনুল হক এখন জাতীয় টেস্ট দলের অধিনায়ক। এছাড়া সৌম্য, সাব্বির, রাব্বি, সোহান জাতীয় দলে খেলেছেন।

জ্যাক ক্যালিসকে আদর্শ মানেন সৈকত। তবে ওপেনার বলে জীবনে একবার হলেও ক্রিস গেইলের সঙ্গে ওপেন করতে চেয়েছিলেন। দৈবক্রমে এবার গেইলের সঙ্গে একই দলে পড়লেন। স্বপ্ন পূরণ হয়েছে তার। কিন্তু শুরুতে গেইলের মতো খেলার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা হয়নি। যে কয়দিন দলের বাইরে ছিলেন, নষ্ট করেননি সময়। গেইল থেকে টিপস নিয়ে রেখেছিলেন হয়ত। তা কাজে লাগালেন কালকের ফাইনালে। সেরা ম্যাচটিতে দুর্দান্ত পারফর্ম করে নির্বাচকদের ভাবনায় সৈকত নামটা জুড়ে দিলেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত