জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয় (জাককানইবি) শিক্ষক সমিতির নির্বাচন ঘিরে সেখানকার আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব চরমে উঠেছে। ২৪ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে না বিএনপিপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন সাদা দল। তবে বিএনপিপন্থিরা অংশ না নিলেও নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে দাঁড়ানো আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের ফাঁকা মাঠে গোল দেওয়ার সুযোগ নেই। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে সক্রিয় আওয়ামীপন্থি দুটি সংগঠনেরই ৩টি প্যানেল নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। এমনকি মাত্র ২১৫ জন ভোটারের মধ্য থেকে প্যানেলগুলো থেকে ৪৫ জন প্রার্থী হয়েছিলেন। যদিও পরে ১৫ জন প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নেন।
এমন পরিস্থিতিতে কয়েক ভাগে বিভক্ত আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের মধ্যে এককভাবে কোনো প্যানেলকে জিততে হলে তাকিয়ে থাকতে হবে সাদা দলের ১০-১৫টি ভোটের দিকে। এই ভোট যেদিকে যাবে, সেই প্যানেলই বিজয়ী হবে বলে দেশ রূপান্তরের কাছে মন্তব্য করেছেন একাধিক শিক্ষক নেতা। সাদা দলকে এই নির্বাচনের ট্রাম কার্ড হিসেবেও দেখছে আওয়ামীপন্থি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা।
প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা শিক্ষকদের ৩টি প্যানেল নিয়ে রয়েছে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা। বিশ^বিদ্যালয়টির সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহিত উল আলম অনুসারী হিসেবে পরিচিত শিক্ষকদের একটি অংশ দুটি প্যানেলে মিশে গিয়ে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। যার মধ্যে সদ্যবিদায়ী উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এইচ এম মোস্তাফিজুর রহমানের অনুসারী হিসেবে পরিচিত শিক্ষকদের প্যানেলে একটি অংশ এবং অন্যদিকে এককভাবে ১৫ সদস্যের প্যানেলও দিয়েছে মোহিত উল আলম অনুসারী শিক্ষকরা।
নির্বাচন ঘিরে ৩টি প্যানেল হওয়াকে সাময়িক সংকট বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু নীল দলের সাধারণ সম্পাদক ড. সেলিম আল মামুন। তিনি বলেন, ‘শিক্ষক সমিতিতে সব শিক্ষকই নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন। সাময়িক কিছু সংকট থাকার কারণে হয়তো ৩টি প্যানেলে অংশ নিয়েছে। আশা করি দ্রুতই সমাধান হবে এই সংকটের। তবে এটিও ঠিক যে একাধিক প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে দলীয়ভাবে কোনো বাধা নিষেধ নেই।’
তবে এই নির্বাচন জাতীয় নির্বাচনের মতো করেই কেন্দ্রীয় ভাবনার স্বরূপ বলে মন্তব্য করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়টির সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মো. মিজানুর রহমান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে এক কেন্দ্রিক ভাবনায় পরিচালিত হওয়ায় এই নির্বাচনে অংশ নিয়ে ইতিবাচক কিছু আশা করে লাভ হবে না। তাই সাদা দল থেকে আমরা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছি না। তবে ভোটের পরিস্থিতি বিবেচনায় ভোট দেব কি না, আলোচনা করে আমরা সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।
আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের সংগঠন করা একাধিক শিক্ষকের বক্তব্য অনুযায়ী, এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে নিজেদের (শিক্ষকদের) হাসির পাত্রে পরিণত করা হচ্ছে। যেখানে মোট শিক্ষকের সংখ্যা ২১০-২১৫, সেখানে প্রার্থী দাঁড়িয়েছিল ৪৫ জন। আবার প্রত্যেকেই আওয়ামীপন্থি সংগঠনের সদস্য। তবে পরে দুই গ্রুপ মিলে পৃথকভাবে নিজেদের প্যানেল থেকে ৭ ও ৮ জন করে নাম প্রত্যাহার করিয়েছে।
আওয়ামীপন্থি শিক্ষকদের দ্বন্দ্ব প্রকাশ্যে আসার ঘটনাকে স্বীকার করেছেন বঙ্গবন্ধু নীল দলের সাবেক সভাপতি ড. সিদ্ধার্থ দে। তিনি বলেন, ‘এই বিভক্তি সাবেক উপাচার্যের সৃষ্টি। তবে আমরা এবার শিক্ষকদের ৬টি ভাগ থেকে ৩টি ভাগে নিয়ে এসেছি। সামনের দিনে বর্তমান উপাচার্য অধ্যাপক ড. সৌমিত্র শেখর স্যারের নেতৃত্বে ৩টি ভাগ থেকে একটিতে নিয়ে আসব।’
অন্যদিকে এটিকে বিভক্তি না বলে সদস্য বৃদ্ধির কারণে প্রতিযোগিতা বেড়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বঙ্গবন্ধু-নীল দলের সভাপতি ড. উজ্জ্বল কুমার প্রধান।
নির্বাচনে কোন প্রক্রিয়ায় ভোটগ্রহণ হবে, সেটি নিয়েও সিদ্ধন্তে পৌঁছাতে ৮ ও ৯ ফেব্রুয়ারি দুই দিন ধরে চলেছে শিক্ষক সমিতির সাধারণ সভা। আলোচনায় ভোটের প্রক্রিয়া নিয়ে তর্কে জড়িয়ে যান সভার সদস্যরা। সেখানে ‘তুই’ সম্বোধন করা নিয়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির সৃষ্টি হয় সভাকক্ষে। সভার একপর্যায়ে এক শিক্ষককে মারতে তেড়ে আসেন ৩ শিক্ষক।
