চট্টগ্রামে তথ্যমন্ত্রী

ষাটোর্ধ্বদের পেনশনে আইন প্রণয়নের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:০৫ এএম

তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নিজস্ব চিন্তা থেকেই সার্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা ঘোষণা দিয়েছেন। ষাটোর্ধ্ব সবাই যেন পেনশনের আওতায় আসেন সেজন্য একটি আইন প্রণয়নেরও নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। এমনকি যারা বিদেশে আছেন তারাও এ পেনশনের আওতায় আসবেন।’ গতকাল শুক্রবার সকালে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।

তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘নির্বাচনের আগে প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন সবার জন্য পেনশন ব্যবস্থা চালু করবেন। সরকার বর্তমানে সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যমে দেশের তিন কোটি মানুষকে নানাভাবে ভাতা দিচ্ছে। বয়স্কভাতা, বিধবাভাতা, স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা পেয়ে অনেকে নানাভাবে উপকৃত হচ্ছেন। এমনকি ইউরোপেও স্বামী পরিত্যক্ত ভাতা দেওয়া হয় না। কিন্তু বাংলাদেশে যদি দরিদ্র পরিবারে স্বামী কর্তৃক কোনো স্ত্রী পরিত্যক্ত হয়, তিনি সরকারের কাছ থেকে ভাতা পাচ্ছেন। এভাবে আমাদের প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশকে একটি সামাজিক ও কল্যাণকর রাষ্ট্রে রূপান্তর করার প্রয়াস চালিয়ে যাচ্ছেন।’

সুুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘সুজন, এরা কারা? এটি একটি এনজিও। এদের সারা দেশে কোনো শাখা-প্রশাখা কিছুই নেই। এরা ব্যক্তিবিশেষ নিয়ে একটা এনজিও। বিভিন্ন সংস্থা থেকে তহবিল সংগ্রহ করে চলে। এমনকি নির্বাচন কমিশনের কাছ থেকেও তারা একসময় তহবিল নিয়েছিল। নির্বাচন কমিশন নিয়ে তারা যেভাবে পরামর্শ দিচ্ছে আর তাদের এত দাদাগিরি গণমাধ্যমেও কেন ফলাওভাবে প্রকাশ করা হয় সেটিও আমার প্রশ্ন।’ তিনি বলেন, যেভাবে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে এবং অংশগ্রহণমূলকভাবে এবার নির্বাচন কমিশন গঠন করা উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে, সেটি অভাবনীয়। বহু বছরের পুরনো গণতন্ত্রের দেশেও এভাবে করা হয় না।

নির্বাচনকালীন সরকার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে ড. হাছান বলেন, ‘সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনকালীন সরকার থাকবে বর্তমান সরকার, যেটি গত নির্বাচনে নির্বাচিত হয়েছিল। নির্বাচন সরকারের অধীনে হয় না। নির্বাচনকালীন কোনো মন্ত্রী এমনকি প্রধানমন্ত্রীরও একজন কনস্টেবল বদলি করার ক্ষমতা রাখে না।’

বিএনপি নেতা রিজভীর বক্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, ‘তিনি তো তাদের নয়া পল্টনের অফিসে আমাদের বিদায়ের ঘণ্টা গত ১২ বছর ধরে বাজাচ্ছেন। আরও কত বছর ধরে বাজাতে হয় সেটি জনগণ ঠিক করবে। বিদায়ের ঘণ্টা তারা বাজিয়েছে সত্য কিন্তু জনগণ গত দুই নির্বাচনে আমাদের নির্বাচিত করে দেশ পরিচালনার জন্য দিয়েছেন। আগামী নির্বাচনেও আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ^াস করি জনগণ আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দায়িত্ব দেবেন।’

গণমাধ্যম সেক্টরে হাজার হাজার শিক্ষিত তরুণের চাকরির সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে মন্তব্য করে তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, শুধু সাংবাদিক হিসেবে নয়, কলাকুশলী থেকে শুরু করে আরও অনেকে নানাভাবে টেলিভিশন সেক্টরে চাকরির সুযোগ পাচ্ছে। ১৩ বছর আগে দৈনিক পত্রিকার সংখ্যা ছিল সাড়ে চারশো। আর এখন তা সাড়ে বারোশোর ওপরে। তবে কিছু পত্রিকা আছে সরকারি বিজ্ঞাপনের জন্য টেবিলে টেবিলে ঘুরে বেড়ায়। এসব পত্রিকার সম্পাদক, প্রকাশক, বিল কালেক্টর, ডিস্ট্রিবিউটর এবং হকার নিজেই। আমরা এরকম পত্রিকা চিহ্নিত করেছি এবং প্রায় একশো পত্রিকার ডিক্লারেশন বাতিল করেছি। এ প্রক্রিয়া চলমান থাকবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত