ইউক্রেন ইসু্যুতে জলবায়ুর বৈশি^ক অর্থায়ন বাধাগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। তিনি বলেছেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি অস্থিরতার দিকে এগোচ্ছে। এমনটা হলে জলবায়ুর পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার জন্য উন্নত দেশগুলো অর্থায়নের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেটি ব্যাহত হতে পারে।’
গত শুক্রবার জার্মানিতে শুরু হওয়া ‘৫৮তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন’-এর জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নিয়ে এক প্যানেল আলোচনায় এ আশঙ্কা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। গতকাল শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়। ড. মোমেন বলেন, ‘ধনী দেশগুলো প্রতি বছর ১০ হাজার কোটি ডলার তহবিল দেওয়ার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, সেটি বাস্তবায়নে নজর দিতে হবে।’
বাংলাদেশ জলবায়ু পরিবর্তনে ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলো মধ্যে অন্যতম উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বহু মানুষ জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার। এর ফলে নিরাপত্তা সংকটও সৃষ্টি হচ্ছে। এসব বিষয়েও আমাদের নজর দেওয়া প্রয়োজন। যেসব দেশ বেশি কার্বন নিঃসরণ করছে, সেগুলোকে প্রতিশ্রুতি দিতে হবে যে তারা কার্বন নিঃসরণ কমিয়ে আনবে।’
নিরাপত্তা সম্মেলনের অপর এক অধিবেশনে যোগ দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদনে উন্নয়নশীল দেশগুলোকে প্রযুক্তি হস্তান্তরের মাধ্যমে অন্যান্য দেশের পাশে দাঁড়ানো উচিত। এতে করে ভ্যাকসিনের সংকট কাটিয়ে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাকসিন সমতা সৃষ্টি হবে।’
জার্মানিতে অনুষ্ঠিতব্য ৫৮তম মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলনে যোগ দিতে বৃহস্পতিবার জার্মানি যান পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। নিরাপত্তা সম্মেলন ১৮ থেকে ২০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে।
মিউনিখ নিরাপত্তা সম্মেলন চার দশক ধরে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা নীতিবিষয়ক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ণ একটি স্বাধীন ফোরাম হিসেবে কাজ করছে।
ড. মোমেন নিরাপত্তা সম্মেলন শেষে ২১ ফেব্রুয়ারি ফ্রান্সের উদ্দেশে মিউনিখ ত্যাগ করবেন। প্যারিসে ২২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য প্যাসিফিক সহযোগিতাবিষয়ক মন্ত্রিপর্যায়ের ফোরামের বৈঠকে যোগ দেবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রবিষয়ক ও নিরাপত্তা নীতিসংক্রান্ত উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি ছাড়াও ৩০টি ইন্দো-প্যাসিফিক দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা অংশ নিচ্ছেন।
