প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) ও অন্যান্য কমিশনার নিয়োগের জন্য প্রস্তাবিত, কিন্তু সততা প্রশ্নবিদ্ধ এমন নাম বাদ দিয়ে তালিকা কাটছাঁট করে ২০ জনে নামিয়ে এনেছে সার্চ কমিটি। এই তালিকায় সাবেক আমলারাই বেশি।
নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের লক্ষ্যে যোগ্য ব্যক্তি বাছাইয়ের জন্য গঠিত এই কমিটি গতকাল শনিবার বৈঠক করে প্রাথমিক এই তালিকা করেছে। কমিটিকে ১০ জনের নাম সুপারিশ করতে হবে রাষ্ট্রপতির কাছে। এবং সেটা আগামী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জমা দেওয়া হতে পারে।
২০ জনের সংক্ষিপ্ত তালিকা করা হয়েছে তাদের সবাই বিতর্কের বাইরে থাকা ব্যক্তি দাবি করে সার্চ কমিটির কাজে যুক্ত এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে বলেন, দক্ষতা ও সততাকে বিবেচনায় এনে ২০ জনকে বাছাই করেছে সার্চ কমিটি। এই ২০ জন থেকেই বিতর্কমুক্ত ১০ জন বেছে নেবেন তারা। রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়া নামগুলো নিয়ে যাতে বিতর্কের মুখে না পড়ে সেদিকে বিশেষ নজর রয়েছে সার্চ কমিটির সদস্যদের। তাই সবার কাছে গ্রহণযোগ্য নামগুলো বেছে নিতে সার্চ কমিটি বদ্ধপরিকর। কিছুটা সময় নিলেও বাছাই কাজটি সুচারুভাবে করতে চান তারা।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) হিসেবে তিনটি পেশার ব্যক্তিকে প্রাধান্য দিচ্ছে সার্চ কমিটি। বিচারক, আমলা ও সাবেক সেনা কর্মকর্তা। পুলিশ বাহিনীর সাবেক কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের ব্যক্তিদেরও নির্বাচন কমিশনার হিসেবে চিন্তা করে কাজ করছে সার্চ কমিটি।
সার্চ কমিটি গঠনের পর নাম আহ্বান করে সার্চ কমিটি। এরপর ২৪টি রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী ও ব্যক্তি পর্যায় থেকে ৩২২টি নাম জমা পড়ে। সেই নামগুলো থেকে যারা স্ব স্ব পেশায় যোগ্যতার স্বাক্ষর রেখেছেন, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালনে কোনো বিতর্কই সৃষ্টি করেননি এমন ২০ জনকে সার্চ কমিটি বেছে নিয়েছে বলে একাধিক সূত্র নিশ্চিত করেছে।
আলোচনায় আছেন, কিন্তু বিতর্ক আছে এমন ব্যক্তিদের ২০ জনের তালিকায় রাখা হয়নি।
সূত্র জানায়, জমা পড়া নামের তালিকা থেকে নিতে হবে এমন বিধান আইনে না থাকায় সার্চ কমিটির দৃষ্টিতে অধিকতর যোগ্য, দক্ষ ও সৎ কোনো ব্যক্তির অনুসন্ধান পেলে ১০ জনের তালিকায় শেষ পর্যন্ত তাকেও রাখা হতে পারে। তবে ২০ জনের যে তালিকা আপাতত করা হয়েছে সেগুলো ৩২২ নাম থেকেই নেওয়া।
ওই সূত্রটি আরও জানায়, নির্বাচন কমিশনে কাজ করার মতো দক্ষতা বিবেচনায় রেখেই মূলত ২০ জনকে বেছে নেওয়া হয়েছে। এরমধ্যে আমলাই বেশি। আছে সাবেক সেনা কর্মকর্তা, সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা, বিচারক, শিক্ষক ও নাগরিক সমাজের ব্যক্তিবর্গ। আগামী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ১০ জনের চূড়ান্ত তালিকা রাষ্ট্রপতির কাছে জমা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানায় ওই সূত্র।
সূত্র আরও জানায়, ২০ জনের তালিকায় যাদের রাখা হয়েছে তাদের নামের তালিকা রাষ্ট্রীয় একাধিক গোয়েন্দা সংস্থার কাছে জমা দিয়েছে সার্চ কমিটি। তবে গোপনীয়তা রক্ষা করে ওই ব্যক্তিদের গ্রামের ঠিকানা, বর্তমান ঠিকানা, পেশাগত জীবনে কোনো দুর্নীতি বা সমালোচনা রয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা পরিপন্থী কোনো কাজে সম্পৃক্ত ছিলেন কি না সেটিও খুঁজে বের করতে বলা হয়েছে গোয়েন্দা সংস্থাকে। আগামী দুই দিনের মধ্যে সংক্ষিপ্ত তালিকার ২০ জনের কর্মজীবন, পারিবারিক জীবন, মতাদর্শ চুলচেরা যাচাই করে সার্চ কমিটির কাছে জমা দিতে বলা হয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত থেকে তথ্য সংগ্রহ করার জন্য বলা হয়েছে।
গতকাল সুপ্রিম কোর্টের জাজেস লাউঞ্জে সার্চ কমিটির সভা শেষে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব (সমন্বয় ও সংস্কার) মো. সামশুল আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, ‘আইনে বর্ণিত যোগ্যতা অনুসারে যাচাইপূর্বক প্রস্তাবিত নাম থেকে ২০ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। আগামী দুই একটি সভায় চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করা হবে।’ নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই নাম প্রস্তাব করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, আরও দুই একটি সভার পর বিস্তারিত জানতে পারবেন।
