কুষ্টিয়ার ভেড়ামারায় আওয়ামী লীগ নেতা সিদ্দিকুল ইসলাম মণ্ডলকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় মামলা হয়েছে। আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের ৩০ ঘণ্টা পর গতকাল শনিবার বিকেলে নিহতের ভাই চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য এনামূল হক মণ্ডল বাদী হয়ে মামলাটি করেন।
মামলার এজাহারে জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দলের (জাসদ) সাংগঠনিক সম্পাদক ও কুষ্টিয়া জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আব্দুল আলীম স্বপন এবং তার সহোদর ভেড়ামারার চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন জাসদের
সভাপতি ও চাঁদগ্রাম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল হাফিজ তপনসহ ২০ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০ থেকে ১২ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
মামলা নথিভুক্তের বিষয়টি নিশ্চিত করে ভেড়ামারা থানার ওসি মজিবর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেকোনো ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি অভিযোগ দেবেন, পুলিশ তার ওপর ভিত্তি করে আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। মামলা হয়েছে, এখন পুলিশ আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’
আসামিদের নাম-ঠিকানাসহ প্রাসঙ্গিক তথ্য সংগ্রহ এবং মুরব্বিদের সঙ্গে আলাপ করে এজাহার জমা দিতে বাদীর দেরি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন ওসি।
এ প্রসঙ্গে মামলার বাদী এনামূল হক বলেন, ‘মামলা করতে একটু দেরি হয়েছে। পুলিশের কোনো গড়িমসি ছিল না। আমরাই দরখাস্ত দিতে দেরি করেছি। মামলায় কাকে সাক্ষী করব, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত, আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা, নিহতের লাশ দাফনসহ আসামিদের নাম-ঠিকানা সংগ্রহ করে এবং আত্মীয়-স্বজন, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নেতাদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিয়েই থানায় দরখাস্ত জমা দিতে কিছুটা দেরি হলো।’
তিনি আরও বলেন, ‘ঘটনার পর থেকেই পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার তাগিদ দেওয়া হচ্ছিল মামলা দেওয়ার জন্য। এখন মামলা দিয়েছি, বাকি দায়িত্ব পুলিশের। কারা এ ঘটনায় জড়িত তা সব এজাহারেই দেওয়া আছে।’
গত শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ভেড়ামারার চণ্ডীপুর পুঠিমারী বিলের চরে নজরুল ইসলাম মালিথা এবং ইউপি সদস্য এনামূল ইসলাম মণ্ডলের সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় গুলিতে সিদ্দিকুল ইসলাম মণ্ডল (৫০) নিহত হন। সিদ্দিকুল চাঁদগ্রাম ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি চরপাড়া গ্রামের ওমর মণ্ডলের ছেলে।
কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে শুক্রবার বিকেলে সিদ্দিকুলের লাশ নিয়ে ভেড়ামারা উপজেলা শহরে মিছিল হয়। এতে এলাকাবাসী, পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এরপর সন্ধ্যায় উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে ভেড়ামারা বাসস্ট্যান্ড মোড়ে বিক্ষোভ সমাবেশ হয়। এ সময় উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতারা সিদ্দিকুল হত্যাকাণ্ডের জন্য জাসদকে দায়ী করে জড়িতদের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানান। তবে সিদ্দিকুল হত্যাকাণ্ডে জড়িত কাউকে গতকাল রাত আটটা পর্যন্ত আটক করতে পারেনি পুলিশ।
পুলিশ ও গ্রামবাসী জানায়, চরপাড়া গ্রামের নজরুল ইসলাম মালিথা জাসদের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত; অন্যদিকে এনামূল ইসলাম মণ্ডল আওয়ামী লীগের অনুসারী। আধিপত্য নিয়ে দুই পক্ষের বেশ কিছুদিন ধরেই দ্বন্দ্ব ছিল। তিন-চার দিন আগে ইউপি সদস্য এনামূলের সমর্থকরা গ্রামের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া জিকে খালে মাছ ধরতে যায়। তখন নজরুল মালিথার লোকজন তাদের ধাওয়া দিয়ে তাড়িয়ে দেয়। এ নিয়ে উত্তেজনার মধ্যে শুক্রবার সকালে এনামূলের সমর্থকরা ফের সেখানে মাছ ধরতে গেলে দুই পক্ষ তখন সংঘর্ষে ও গোলাগুলিতে জড়ায়। খবর পেয়ে নিহতের লাশ উদ্ধার করে কুষ্টিয়া মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায় পুলিশ। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই গ্রামে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।
