সুনামগঞ্জের জগন্নাথপুরে ওষুধ কিনতে গেলে সৌদি আরব প্রবাসীর স্ত্রী শাহনাজ পারভীন জ্যোৎনাকে (৩৫) ধর্ষণ করে ফার্মেসির মালিক ও তার দুই সহযোগী। ধর্ষণের আগে তাকে কৌশলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ানো হয়। ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশের কথা বলায় জ্যোৎনাকে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ গুম করতে ৬ টুকরো করা হয়।
রাজধানী ও সুনামগঞ্জে অভিযান চালিয়ে গত শুক্রবার তিনজনকে গ্রেপ্তারের পর এসব তথ্য জানতে পেরেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। গ্রেপ্তাররা হলো জগন্নাথপুরের ‘অভি মেডিকেল হল’ ফার্মেসির মালিক জিতেশ চন্দ্র গোপ (৩০), মুদি দোকানি অনজিৎ গোপ (৩৩) ও অরূপ ফার্মেসির মালিক অসীত গোপ (৩৬)।
গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি সদর দপ্তরে জ্যোৎনা হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিস্তারিত জানান সিআইডির এলআইসি শাখার বিশেষ পুলিশ সুপার মুক্তা ধর।
জিজ্ঞাসাবাদে আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তিনি জানান, জ্যোৎনা ২০১৩ সাল থেকে পৌর শহরে নিজের বাড়িতে দুই ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। তার স্বামী ছরকু মিয়া দীর্ঘদিন সৌদি আরবে থাকেন। পরিবারের সবার ওষুধপত্র অভি মেডিকেল হল থেকে কেনার সুবাদে জিতেশের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়ে ওঠে। জ্যোৎনা কিছুদিন বেশকিছু গোপন শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন। এসব সমস্যা সমাধানে পরামর্শ নেওয়ার জন্য গত বুধবার বিকেলে জিতেশের ফার্মেসিতে গেলে তাকে প্রাথমিক চিকিৎসা কক্ষে বসিয়ে রাখা হয়। ক্রেতার ভিড় কমলে কথা বলে সঠিক ওষুধ দেওয়ার প্রতিশ্রুতির মাধ্যমে সময়ক্ষেপণ করা হয়। জিতেশ চন্দ্র গোপ তার বন্ধু অনজিৎ গোপ ও পাশের অরূপ ফার্মেসির মালিক অসীত গোপকে নিয়ে জ্যোৎনাকে ধর্ষণের পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনা অনুযায়ী জিতেশ তাকে চিকিৎসার কথা বলে ঘুমের ওষুধ খাওয়ালে ঘুমিয়ে পড়েন। এরপর জিতেশ তালা দিয়ে চলে যায়। আশপাশের সব দোকান বন্ধ হলে গভীর রাতে তিনজন এসে ফার্মেসিতে ঢুকে এনার্জি ড্রিংকস পান করে। এরপর তারা জ্যোৎনাকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
ধর্ষণের বিষয়টি তিনি পরিবারের সদস্য ও অন্যদের কাছে প্রকাশের কথা বললে আসামিরা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে ও মুখে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করে। হত্যার পর ফল কাটার ছুরি দিয়ে লাশটি ৬ টুকরো করা হয়। ওষুধের কার্টনে খণ্ডিত অংশগুলো ঢেকে রেখে ফার্মেসি তালা দিয়ে চলে যায় তারা। সুবিধাজনক সময়ে এগুলো মাছের খামারে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল আসামিরা। তবে ভোরে লোকজন চলে আসায় তারা কাজটি করতে পারেনি বলে জানান মুক্তা ধর।
গত বৃহস্পতিবার জগন্নাথপুর পৌর পয়েন্টের ব্যারিস্টার মির্জা আবদুল মতিন মার্কেটের তালাবদ্ধ ফার্মেসি থেকে জ্যোৎনার খণ্ডিত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ওইদিনই নিহতের ভাই হেলাল উদ্দিন জগন্নাথপুর থানায় হত্যা মামলা করেন।
