গান তো আসলে শোনার বিষয়

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:০০ এএম

ভিন্নরকম ভালোবাসার আমেজের গান ‘জানি তো সহজ নয়’ নিয়ে হাজির জনপ্রিয় সংগীতশিল্পী ফাহমিদা নবী। এর ভিডিওতেও দেখা যাচ্ছে তাকে। এই গান ও সমসাময়িক বিষয়ে তার সঙ্গে কথা বলেছেন মাসিদ রণ

নতুন ৩ গান...

এখন আমি লন্ডনে। কিন্তু খুব ভালো লাগছে ভালোবাসা দিবসের কাছাকাছি সময়ে আমার নতুন গান ‘জানি তো সহজ নয়’ প্রকাশিত হয়েছে। কারণ সত্যিকার অর্থেই এটি ভালোবাসার গান। রোমান্টিক কথার গান তো অনেকই গাই। কিন্তু এটা নানা কারণে বিশেষ একটি গান। প্রথমত, এই গানের ভালোবাসার আমেজটা একেবারেই ভিন্ন রকম। চোখ বুজে শুনলে যেকোনো শ্রোতা মুগ্ধ হবেন, কথা দিলাম।

এ গানটি ছাড়া ভালোবাসা দিবসে অ্যাম্বিয়েন্ট ক্রিয়েটিভ স্টেশনের ইউটিউব চ্যানেলে আমার আরেকটি গান এসেছে ভিডিওসহ। নাম ‘সেদিন হঠাৎ’। লিখেছেন সুজন বড়ুয়া। সুর ও কম্পোজিশন সজীব দাসের। এটিও শ্রুতিমধুর মিষ্টি একটি গান। দুটি গানের জন্যই ভালো প্রশংসা পাচ্ছি সোশ্যাল মিডিয়ায়।

আর আজ আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে সিনেভিশন লিমিটেডের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশ হয়েছে জাতিসংঘের ৬টি অফিসিয়াল ভাষাসহ ৮টি ভাষায় মহান ২১ এর গান। এর শিরোনাম ‘ত্যাগের গান’। জাফর ফিরোজের কথা ও সুরে এ গানটিরও কম্পোজিশন করেছেন সজীব দাস। আমি ছাড়াও গেয়েছেন রাশিয়া, স্পেন, ফ্র্যান্স, মরোক্কো, ভেনেজুয়েলা, হাঙ্গেরি ও সিঙ্গাপুরের শিল্পীরা। আন্তর্জাতিকে মানের একটি কাজ করার চেষ্টা করেছি আমরা। সবাইকে শোনার আমন্ত্রন রইল।

নেপথ্যের কারিগর...

‘যায় কি ছেঁড়া বুকের পাঁজর’, ‘দুঃখ কি দেই খুব’, ‘ইচ্ছে হয়’, ‘বিশাল আকাশ হব’, ‘ভালোবেসেই মরি’, ‘একটু যদি তাকাও তুমি মেঘগুলো হয় শোনা’, ‘মন ভালো নেই বলে’, ‘তাও কেন দেখছ না’সহ আমার গাওয়া অনেক গানের গীতিকার জুলফিকার রাসেল। দারুণ কথার সেসব গান শ্রোতাদেরও ভীষণ পছন্দের। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যখনই পারফর্ম করতে যাই, গানগুলোর অনুরোধ আসে। শ্রোতারাও ঠোঁটে ঠোঁট মেলানোয় বুঝতে পারি, কতটা আপন করে নিয়েছে এসব গান। বরাবরের মতো এবারের গানটির কথাগুলো দারুণ। ‘জানি তো সহজ নয়’ গানটিও তারই লেখা। শঙ্খ ঘোষের “সঙ্গিনী” কবিতাটি থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে গানটি লিখেছে সে। তবে এটুকু বলে রাখি, কবিতাটি থেকে একটি লাইনও সে ধার করেনি। এই গানের সুর করেছেন আমার পছন্দের শিল্পী কলকাতার নচিকেতা চক্রবর্তী। আর তাতে সংগীতায়োজন করেছেন আমার ভাই পঞ্চম। তারা দুজনই অদ্ভুত সুন্দর কাজ করেছেন। সব মিলিয়ে এটা অসাধারণ একটা গান হয়েছে। স্যাডো মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে নির্মিত হয়েছে গানটির একটি ভিডিও চিত্র। যেখানে আমি নিজেও হাজির হয়েছি। তবে ভিডিওর কথা বলব না এখানে। কারণ, গান তো আসলে শোনার বিষয়, অনুভবের বিষয়। জানি না, আমরা সবাই মিলে কতটা ভালো করতে পেরেছি। বিচারের ভার শ্রোতাদের হাতে তুলে দিলাম।

লন্ডনের দিনগুলো...

করোনা শুরুর আগেই লন্ডন এসেছিলাম। ভেবেছিলাম দ্রুত দেশে ফিরব। কিন্তু এরমধ্যে সারা দুনিয়া একটা কালো বিষাদে ছেয়ে গেল। সব বন্ধ হয়ে মানুষের যান্ত্রিক জীবনের ছন্দপতন হলো। আমিও সাদা বরফে ঘেরা শহরে আটকে থাকলাম মেয়ে ও ছোট বোনের পরিবারের সঙ্গে। কাছের মানুষের সঙ্গে সময় সেবার মন্দ কাটেনি। তবে মন পড়ে থাকত দেশে। একের পর এক মানুষের অসুস্থতা, মৃত্যু, অভাব অনটনের কথা শুনতাম। পরে লকডাউন উঠে গেলে দেশে ফিরি। এরপর দেড় বছর আর মেয়েকে দেখিনি স্বচক্ষে। তাই আবার এলাম। ভালোই আছি, সবার জন্য প্রার্থনা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত