সংবাদ সম্মেলনে দুদক সচিব

প্রভাবিত হয়ে শরীফকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ০২:১৪ এএম

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চাকরিচ্যুত উপসহকারী পরিচালক শরীফ উদ্দিনকে নিয়ে গণমাধ্যমে একতরফা সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সংস্থাটির সচিব মাহবুব হোসেন। তিনি দাবি করেছেন, ‘দুদক কোনো প্রভাব আমলে নেয় না এবং প্রভাবিত হয়ে কোনো সিদ্ধান্তও নেয় না। শরীফের ক্ষেত্রেও কোনো প্রভাব আমলে নেওয়া হয়নি।’

গতকাল রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন দুদক সচিব। তিনি বলেন, ‘শরীফকে অপসারণের আদেশ জারির পর থেকেই একতরফা তথ্যের ভিত্তিতে সংবাদ প্রচারিত হচ্ছে, যা প্রকৃত ঘটনার বিপরীত। দুদক (কর্মচারী) চাকরি বিধিমালার ৫৪(২) অনুযায়ী কোনো কারণ দর্শানো ছাড়াই অপসারণ করা যায়। দেশে অন্য বহু দপ্তরেও এ ধরনের আইন ও বিধি রয়েছে এবং শৃঙ্খলার স্বার্থে তা প্রয়োগ করে। কমিশনের শৃঙ্খলা ও সুষ্ঠু কার্যক্রম পরিচালনার স্বার্থে শরীফ উদ্দিনকে বিধিমতে অপসারণ করা হয়েছে। কমিশনের সভায় বিস্তারিত আলোচনা করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।’

মাহবুব হোসেন বলেন, ‘শরীফ উদ্দিন দায়িত্ব পালনকালে যেকোনো অভিযোগ অনুসন্ধান ও তদন্ত করে প্রতিবেদন দেবেন, এটাই স্বাভাবিক। গুরুত্বপূর্ণ বা কম গুরুত্বপূর্ণ যাই হোক না কেন, দুদকের অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত সব কর্মচারীই নির্ভয়ে-নির্মোহভাবে দায়িত্ব পালন করেন। কিন্তু শরীফ উদ্দিনের মতো কোনো অজুহাত তারা উত্থাপন করেন না।’

তিনি বলেন, ‘প্রকৃত অপরাধ ও কর্মের দায় থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য শরীফ উদ্দিন কিছু মামলাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রচার করে ওই মামলা বা অভিযোগ সংশ্লিষ্টদেরও গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে মূল্যায়ন করেন। এখন প্রভাবশালীদের চাপে তাকে অন্যায়ভাবে অপসারণ করা হয়েছে বলে দাবি করছেন। আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাইÑ দুদক কোনো প্রভাব আমলে নেয় না এবং প্রভাবিত হয়ে সিদ্ধান্তও নেয় না। শরীফ উদ্দিনের ক্ষেত্রে এর ব্যত্যয় ঘটেনি।’

হাইকোর্টে ১০ আইনজীবীর চিঠি : শরীফ উদ্দিনের অপসারণের কারণ খতিয়ে দেখতে হাইকোর্টে চিঠি দিয়েছেন ১০ আইনজীবী। চিঠিতে শরীফ উদ্দিনের ঘটনা নিয়ে পত্রিকায় প্রকাশিত প্রতিবেদন বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্র্তৃপক্ষকে কারণ দর্শানো এবং তার জীবনের নিরাপত্তা বিধানের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।

গতকাল সকালে দুদকের মামলা বিচারের এখতিয়ারসম্পন্ন বেঞ্চ ও সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে এ চিঠি দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির বলেন, ‘আমরা ১০ আইনজীবী বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের হাইকোর্ট বেঞ্চ এবং সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার জেনারেলকে চিঠি দিয়েছি। আদালত চাইলে চিঠি আবেদন হিসেবে আমলে নিয়ে যেকোনো আদেশ দিতে পারে।’

চিঠিতে স্বাক্ষরকারীরা হলেন, মোহাম্মদ শিশির মনির, রেজওয়ানা ফেরদৌস, জামিলুর রহমান খান, উত্তম কুমার বণিক, মুস্তাফিজুর রহমান, মো. তারেকুল ইসলাম, আহমেদ আবদুল্লাহ খান, সৈয়দ মোহাম্মদ রায়হান, মো. সাইফুল ইসলাম ও মোহাম্মদ নোয়াব আলী।

গত বুধবার শরীফ উদ্দিনকে চাকরি থেকে অপসারণ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে দুদক। শরীফ দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় পটুয়াখালীতে উপ-সহকারী পরিচালক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। তার আগে সাড়ে তিন বছর চট্টগ্রামে ছিলেন। সেখানে থাকাকালে বেশকিছু বড় দুর্নীতি মামলার তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন শরীফ। এরপরই একাধিক মহলের রোষানলে পড়েন এবং গত ৩০ জানুয়ারি পরিবারসহ হত্যার হুমকি পান শরীফ। পরে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আইয়ুব খান চৌধুরী ও তার সঙ্গীদের বিরুদ্ধে সিসি টিভির ফুটেজসহ চট্টগ্রামের খুলশী থানায় জিডি করেন শরীফ উদ্দিন।

চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন : শরীফ উদ্দিনকে চাকরিতে পুনর্বহালের দাবি জানিয়ে গতকাল প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছে গণতান্ত্রিক বাম ঐক্য। মানববন্ধনে সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক হারুন চৌধুরী বলেন, দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তা স্পষ্ট করা হোক। আমরাও জানতে চাই, তার অপরাধ কী ছিল, কেন তাকে বরখাস্ত করা হলো? দুদকের ওপর সরকারসহ প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে এবং দুদক কর্মকর্তা শরীফ উদ্দিনের চাকরি ফিরিয়ে দিতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত