করোনায় আদায় কমেছে কৃষিঋণের

আপডেট : ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২২, ১০:৪০ পিএম

গত অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও আগের অর্থবছরের তুলনায় কৃষিঋণ বিতরণ বেশি ছিল। চলতি অর্থবছরে প্রথম ৭ মাসেও কৃষিঋণ বিতরণ ভালো। একই সময়ে পুরনো কৃষিঋণ আদায় কমেছে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা বলছেন, করোনায় সব খাতের ঋণ আদায়ই কম। সেই কারণে কৃষিঋণও আদায়ে ছাড় পেয়েছেন ব্যাংকের গ্রাহকরা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের জুলাই থেকে জানুয়ারি পর্যন্ত কৃষিঋণ আদায় হয়েছে ১৫ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। আগের অর্থবছরের একই সময়ে (জুলাই-জানুয়ারি ২০২০-২১) কৃষিঋণ আদায় হয়েছিল ১৬ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। সেই হিসাবে আলোচিত ৭ মাসে কৃষিঋণ আদায় কমেছে ৩ দশমিক ৬৮ শতাংশ।

এছাড়া আলোচিত সময় পর্যন্ত পুঞ্জীভূত কৃষিঋণের স্থিতির তুলনায় আদায়ের হার কম। চলতি অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে কৃষিঋণের স্থিতির তুলনায় আদায়ের হার ৩২ শতাংশ। আগের অর্থবছরের একই সময়ে কৃষিঋণের স্থিতির তুলনায় আদায়ের হার ছিল ৩৬ শতাংশ।

করোনার প্রথম বছর ক্রেডিট কার্ড ছাড়া সব ধরনের ঋণ আদায়েই শিথিলতা ছিল। তবে ২০২১ সালের শুরু থেকে সেই ছাড় তুলে নেওয়ার কথা বলা হলেও ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে শর্তসাপেক্ষে ঋণ শোধে ছাড় দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। কৃষিঋণ আদায়েও সেই ছাড়ের প্রভাব লক্ষ করা যাচ্ছে। ২০২২ সাল থেকে ঋণ পরিশোধে অনেকটা কঠোর ভূমিকায় ব্যাংক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

এদিকে নতুন ঋণ বিতরণ বেড়েছে কৃষি ও পল্লী খাতে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, আলোচিত ৭ মাসে কৃষি ও পল্লী খাতে ১৭ হাজার ৫৬ কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করেছে দেশের ব্যাংকগুলো। যা অর্থবছরের পুরো সময়ের বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার ৬০ শতাংশ। চলতি অর্থবছরে এ খাতে ২৮ হাজার ৩৯১ কোটি টাকার ঋণ বিতরণের লক্ষ্য রয়েছে ব্যাংকগুলোর।

এর আগের অর্থবছরের জুলাই-জানুয়ারি সময়ে কৃষি ও পল্লী খাতে ঋণ বিতরণ হয়েছিল ১৪ হাজার ১৪৯ কোটি টাকা। যা ওই অর্থবছরের বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার ৫৪ শতাংশ। আলোচিত ৭ মাসে ঋণ বিতরণ বেড়েছে ২০ দশমিক ৫৪ শতাংশ।

ঋণ বিতরণ বাড়লেও খেলাপি ঋণ কমেছে কৃষি খাতে। গত জানুয়ারি মাস পর্যন্ত কৃষি ও পল্লী খাতে ৩ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ ছিল। যা ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ।

২০২১ সালের জানুয়ারিতে কৃষি ও পল্লী খাতে খেলাপি ঋণ ছিল ৪ হাজার ৪৪৭ কোটি টাকা। যা ওই সময় পর্যন্ত বিতরণ করা কৃষি ও পল্লী ঋণের ১০ শতাংশ।

বিতরণ বেশি কিন্তু খেলাপি ও আদায় কমের ফলে নিয়মিত কৃষিঋণের স্থিতি বাড়ছে। প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, গত জানুয়ারি পর্যন্ত বিতরণ করা কৃষিঋণের স্থিতি ছিল ৪৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। এক বছর আগে (জানুয়ারি-২০২১)

কৃষিঋণের স্থিতি ছিল ৪৪ হাজার ৩২২ কোটি টাকা। এর গত জানুয়ারি পর্যন্ত আদায়যোগ্য কৃষিঋণ ছিল ৭ হাজার ৩৮৬ কোটি টাকা। ২০২১ সালের জানুয়ারিতে বকেয়া কৃষিঋণ ছিল ৬ হাজার ৪৬৫ কোটি টাকা। 

প্রসঙ্গত, করোনার প্রথম বছর অর্থাৎ ২০২০ সালের জুলাই মাসে বন্যাকবলিত এলাকাগুলোতে কৃষিঋণ আদায় স্থগিতের একটি নির্দেশনা ব্যাংকগুলোকে দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এরপর থেকে গত জানুয়ারি মাস পর্যন্ত এ ধরনের আর কোনো নির্দেশনা দিতে দেখা যায়নি। তবে ২০২১ সালের জুলাই মাসে জারি করা কৃষি ও পল্লীঋণ নীতিমালায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক একদিকে কৃষি খাতে ঋণ বিতরণ বাড়ানো, অন্যদিকে আদায়ের বিষয়ে কিছুটা শিথিলতা আনার জন্য ব্যাংকগুলোকে পরামর্শ দেয়।

প্রাপ্ত তথ্যে দেখা যায়, বিদায়ী অর্থবছরে কৃষিঋণ বিতরণ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ কম হলেও আগের অর্থবছরের বিতরণের তুলনায় ১১ শতাংশ বেশি ছিল। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত