প্রযুক্তি বিশ্বে সফল উদ্যোক্তা এলন মাস্ক। নতুন নতুন আইডিয়া এনে প্রযুক্তি জগৎকে চমকে দিতে ভালোবাসেন তিনি। ২০০২ সালে আমেরিকায় তার প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স যাত্রা শুরু করে। প্রথম কয়েক বছরে সফলতার মুখ দেখেনি তারা। দুই দশক যেতে না যেতেই বর্তমানে মহাকাশ গবেষণায় সবচেয়ে সফল প্রাইভেট কোম্পানির নাম ‘স্পেসএক্স’। ‘স্পেসএক্স’ ২০১০ সালে একটি মিশন পরিচালনা করে, মিশনে ড্রাগন ক্যাপসুল নামের মহাকাশযান পৃথিবীর অরবিট সফলভাবে ঘুরে আসতে সক্ষম হয়। প্রথম কোম্পানি হিসেবে নাসার একটি কার্গো সফলভাবে ইন্টারন্যাশনাল স্পেস স্টেশনে পৌঁছে দিয়ে জন্ম দেয় ইতিহাসের। ট্রাভেল খরচ কমাতেই স্পেসএক্স উদ্ভাবন করে পুনর্ব্যবহারযোগ্য রকেট, যেটি সত্যিকার অর্থেই স্পেস ট্রাভেলের খরচ কমাতে সক্ষম হয়েছে। সত্যি বলতে এলন মাস্কের স্পেসএক্স প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যই ছিল মহাকাশ ভ্রমণের খরচ যথাসাধ্য কমিয়ে আনার। স্টারশিপের কাজ শুরু হয় এলন মাস্ক ২০১৬ সালে। প্রথমে এর নাম ঠিক করা হয়েছিল ইন্টার প্ল্যানেটারি ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম, এরপর নাম পাল্টে পুরনো ফ্যালকন রকেটের সঙ্গে মিলিয়ে রাখা হলো বিগ ফ্যালকন রকেট। শেষ পর্যন্ত চূড়ান্ত হলো স্টারশিপ নামটিই।
স্টারশিপের অপর অংশটি মূল যান। যেখানে রয়েছে ৬টি র্যাপ্টার ইঞ্জিন। ভূমি থেকে অরবিটে পৌঁছে বুস্টার আলাদা হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আরও একটি রকেট পাঠানো হবে এবং সেটি মূল যানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে রি-ফুয়েলিং করে দেবে, যেন মূল যানটি নির্ধারিত মিশন- চাঁদ কিংবা মঙ্গলে পৌঁছাতে পারে। রকেট বুস্টার এবং মূল যানের সম্মিলিত রূপই হচ্ছে স্টারশিপ। স্টারশিপের উচ্চতা ১২০ মিটার। এই মহাকাশ যানটি একটি দূরপাল্লার মিশন, যেমন চাঁদ অথবা মঙ্গলে একসঙ্গে ১০০ যাত্রীসহ অসংখ্য কার্গো বহন করতে সক্ষম। এ ছাড়া এর মোট ধারণক্ষমতা ১৫০ টন, যা ২১টি আফ্রিকান হাতির সমান।
