রোহিঙ্গা গণহত্যা মামলায় জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে (আইসিজে) মিয়ানমারের সামরিক জান্তার তোলা আপত্তির ওপর গণশুনানি শুরু হয়েছে। গতকাল সোমবার নেদারল্যান্ডসের দ্য হেগের পিস প্যালেসে মিশ্র পদ্ধতিতে প্রথম দিন এই শুনানি হয়। স্থানীয় সময় আজ মঙ্গলবার দুপুর দেড়টা থেকে ফের শুনানি হওয়ার কথা। বুধবার পাল্টা যুক্তি দেওয়ার সুযোগ পাবে গাম্বিয়া।
গতকাল আদালতের কিছু সদস্য গ্রেট হল অব জাস্টিসে উপস্থিত ছিলেন। বাকিরা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বিচারিক কার্যক্রমে অংশ নেন।
২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলমানদের গণহত্যার অভিযোগে দুই বছর পরে মামলায় মিয়ানমারের বিরুদ্ধে আইসিজেতে মামলা করে আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। ৫৭ জাতির জোট অর্গানাইজেশন অব ইসলামিক কো-অপারেশন (ওআইসি) মামলাটি করতে গাম্বিয়াকে সহায়তা করেছিল। ২০১৯ সালের ১০ থেকে ১২ ডিসেম্বর মামলার প্রথম শুনানি হয়েছিল। এতে গাম্বিয়ার নেতৃত্বে ছিলেন সে দেশের বিচারমন্ত্রী আবু বকর মারি তামবাদু আর মিয়ানমারের নেতৃত্বে ছিলেন অং সান সু চি। শুনানিতে অংশ নিয়ে সামরিক কর্মকর্তাদের পক্ষ নিয়ে সমালোচিত হয়েছিলেন তিনি। সেই কর্মকর্তারাই গত বছর অভ্যুত্থানের পর সু চিকে গৃহবন্দি করেন। মিয়ানমারের পক্ষে এবার অংশ নেন আন্তর্জাতিক সহায়তা মন্ত্রী কো কো লায়িং ও অ্যাটর্নি জেনারেল থিদা। তারা শুনানিতে ভার্চুয়ালি অংশ নেবেন।
২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা মামলায় গাম্বিয়াকে সহায়তা করার আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়েছিল কানাডা ও নেদারল্যান্ডস। সেই সময় এক যৌথ বিবৃতিতে কানাডা ও নেদারল্যান্ডসের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জানিয়েছিলেন, দুই দেশ এখন ‘গণহত্যা সংক্রান্ত অপরাধ থামাতে এবং দায়ীদের বিচারের আওতায় আনতে’ জেনোসাইড কনভেনশন পর্যালোচনা করছে।
গত ১৯ জানুয়ারি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আইসিজে জানায় ২১, ২৩, ২৫ ও ২৮ ফেব্রুয়ারি এই শুনানি হবে। দুই পক্ষের প্রতিনিধিরা সরাসরি অথবা ভিডিও লিংক ব্যবহার করে শুনানিতে অংশ নিতে পারবেন এবং এ বিষয়ে নির্দেশনা আদালতের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।
ইন্টারন্যাশনাল কোর্ট অব জাস্টিসে জাতিসংঘের সদস্যভুক্ত এক দেশ অন্য দেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গের অভিযোগ তুলতে পারে। এ আদালত কোনো ব্যক্তিবিশেষকে সাজা দিতে পারে না, যেমনটি পারে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি)। আইসিসি আলাদাভাবে রোহিঙ্গা গণহত্যার ঘটনা তদন্ত করছে।
